ইতিহাসের দোরগোড়ায় জম্মু ও কাশ্মীর। রনজি ট্রফি জয় যেন সময়ের অপেক্ষা আকিব নবিদের জন্য। চতুর্থ দিনে কর্নাটক অধিনায়ক ময়ঙ্ক আগরওয়াল ফিরে যাওয়ার পরই রনজি ফাইনালের ফলাফল কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। তাঁর উইকেটও পেলেন সেই আকিবই। যাঁকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় দলের জার্সিতে দেখতে চাইছেন। চতুর্থ দিনের শেষে জম্মু ও কাশ্মীর এগিয়ে ৪৭৭ রানে। পঞ্চম দিনে অঘটন ঘটার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
রনজি ফাইনালে প্রথম ব্যাট করতে নেমে ৫৮৪ রানের পাহাড় গড়ে জম্মু-কাশ্মীর। সেঞ্চুরি করেন শুভম পুণ্ডির। কঠিন ম্যাচে ব্যাটাররাই দলকে সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিল। বোলাররা ফাঁস আরও শক্ত করে চেপে ধরেন। নেপথ্যে সেই আকিব। যাকে এবার দিল্লি ক্যাপিটালস ৮.৪ কোটি টাকায় কিনে নিয়েছে। কেন কিনেছে, তা বারবার বোঝাচ্ছেন আকিব। ৫৪ রান দিয়ে তুলে নেন ৫ উইকেট। সব মিলিয়ে উইকেট সংখ্যা ৬০। তৃতীয় পেসার হিসেবে এক মরশুমে এত উইকেট তোলার নজির গড়লেন তিনি।
আকিবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক লিখেছেন, "জম্মু ও কাশ্মীর দেখিয়ে দিয়েছে চেষ্টা ও ইচ্ছাশক্তি কী করতে পারে। গোটা প্রদেশকে তারা গর্বিত করেছে। কঠিন পরিবেশে কঠিন মানুষ তৈরি হয়। আকিব নবি জাতীয় দলের জার্সি পরার দৌড়ে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ থেকেই সেটা শুরু হতে পারে।' কথাটা কি গৌতম গম্ভীর শুনতে পাচ্ছেন?
কর্নাটকের হয়ে একমাত্র লড়াই চালান ময়ঙ্ক আগরওয়াল। কেএল রাহুল, করুণ নায়ার, শ্রেয়স গোপাল, দেবদত্ত পাড়িক্কলের মতো তারকাদের কেউই রান পাননি। সেখানে ময়ঙ্ক একা ১৬০ রান করে যান। কিন্তু চতুর্থ দিনে আকিবের বল ময়ঙ্কের প্যাডে আছড়ে পড়তেই কর্নাটকের রনজি জয়ের স্বপ্ন যেন শেষ হয়ে যায়। তাদের ইনিংস শেষ হয় ২৯৩ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে জম্মু ও কাশ্মীরের রান ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮৬। এগিয়ে আছে ৪৭৭ রানে। অর্থাৎ প্রথমবার রনজি জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে জম্মু ও কাশ্মীর।
