আগামী ১ মার্চের ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুদ্ধ পর্যন্ত সূর্যকুমার যাদবদের সেমিফাইনাল আশা জীবিত থাকবে কি না, জানা নেই। কিন্তু যদি থাকে, যদি ইডেনে শেষ পর্যন্ত হয় ভারতের শেষ চার নির্ণায়ক ম্যাচ, তা হলে একটা জিনিসকে পাশে পেতে পারেন সূর্যরা। বিশ্বকাপে যা এখনও পর্যন্ত গৌতম গম্ভীরের টিমের সঙ্গে বৈমাত্রেয়সুলভ আচরণ করছে।
দেশের বিভিন্ন মাঠের বাইশ গজ!
লিখতেই হবে, সাম্প্রতিক অতীতে যে সমস্ত পিচে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছে ভারত, তার সঙ্গে বিশ্বকাপ বাইশ গজের কোনও সাযুজ্যই নেই। যা তীব্র বিপদে ফেলেছে ভারতীয় ব্যাটারদের। পিচ হচ্ছে মন্থর প্রকৃতির। বল পড়ে থমকে আসছে। টাইমিংয়ের গণ্ডগোলে আক্রান্ত হচ্ছেন ব্যাটাররা। আহমেদাবাদেও বাইশ গজের যে চরিত্র কম-বেশি ভুগিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা-ভারত, দু'টো টিমকেই। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে সামলে নিয়েছিল। ভারত পারেনি। তলিয়ে গিয়েছে আরও অতলে। ৭৬ রানে কুৎসিত হেরে নিজেদের সেমিফাইনাল সমীকরণকে আরও বিপদসঙ্কল করে তুলে। ভারতের নেট রান রেট গতকালের পর মাইনাসে। মাইনাস ৩.৮০। পরিস্থিতি যা, তাতে ভারতকে এখন জিম্বাবোয়ে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বিশাল ব্যবধানে জিততে হবে। নইলে শেষ দু'টো ম্যাচ জিতেও ঘোর অনিশ্চিত হয়ে পড়বে সেমিফাইনাল যাত্রা। আগামী বৃহস্পতিবার চিপকে যদি দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তা হলে সমস্ত আশা প্রায় শেষ হয়ে যাবে। তখন শেষ দু'টো ম্যাচ জিতলেও শেষ চারের দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে ভারত। স্রেফ বদখত নেট রান রেটের 'সৌজন্যে'। কারণ, এ দিন জিম্বাবোয়েকে ১০৭ রানে হারিয়ে নিজেদের নেট রান রেট ৫.৩৫ করে ফেলল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সূর্যকুমারদের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল-যাত্রার ক্ষেত্রে 'বেস্ট কেস সিনারিও'- দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হার। এবং জিম্বাবোয়ে-ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পরপর জিতে কাপ সেমিফাইনাল চলে যাওয়া। ইডেনের খেলাটা তখন দাঁড়াবে 'ভার্চুয়াল কোয়ার্টার ফাইনাল'। যে লড়াইয়ে ভারতের পক্ষে থাকতে পারে পিচ। দেশের অন্যান্য বিশ্বকাপ কেন্দ্রে যা হয়নি।
সূর্যকুমারদের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল-যাত্রার ক্ষেত্রে 'বেস্ট কেস সিনারিও'- দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হার। এবং জিম্বাবোয়ে-ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পরপর জিতে কাপ সেমিফাইনাল চলে যাওয়া। ইডেনের খেলাটা তখন দাঁড়াবে 'ভার্চুয়াল কোয়ার্টার ফাইনাল'।
সোমবার ওয়াকিবহাল মহলের একজন বলছিলেন যে, আমেদাবাদ পিচের মতো হবে না ইডেন। বল পড়ে থমকানোর সম্ভাবনা কম। ইডেন মাঠকর্মীদের একজন এ দিন বললেন, "আমাদের পিচে সেটা হবে না। এমনিতেও ভারতবর্ষের বাকি মাঠের সঙ্গে আমাদের বাইশ গজের কোনও মিল নেই। পিচ প্রাণবন্ত হবে। ভালো বাউন্স-ক্যারি থাকবে। বল পড়ে ইডেনে সামান্যও থমকাবে না। টু হান্ড্রেড প্লাস পিচ।" দ্রুত মনে করিয়ে দেওয়া হল, আহমেদাবাদে ভারতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারে ঈশান কিষানকে করা আইডেন মার্করামের 'কালান্তক' ডেলিভারি ঘুরেছিল কিছুটা। লিখে দেওয়া যায়, ভারত ওপেনিং কম্বিনেশন না বদলালে, ইডেনে প্রথম ওভার করতে আসবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের রস্টন চেজ। তা, বল ঘুরতে পারে প্রথম ওভারে? বাঁ হাতি ওপেনার-ছয় ফের বিপন্ন হতে পারেন বিপক্ষের অফস্পিনারের সামনে? এক্ষেত্রেও উত্তর আশাব্যঞ্জক। বলা হল, ইডেনে অল্প-অল্প টার্ন করে। কিন্তু প্রথম ওভার থেকে করে না। যার নেপথ্যে ইডেন পিচের চরিত্র। ভারতবর্ষের বাদবাকি মাঠের পিচ হয় লাল মাটির, কিংবা কালো মাটির। ইডেনের মাটি আদতে 'ব্ল্যাক কটন সয়েল'। যা পিচের বাঁধুনিকে তুলনায় ভালো ধরে রাখে। তাই বল থমকে আসা বা প্রথম থেকে ছুটকো টার্ন করা, বিশেষ সম্ভব নয়।
রাতারাতি দীনহীন দেখানো ভারতীয় দলের কাছে এর চেয়ে সুসংবাদ আর কী হতে পারে?
