আপনার সন্তানের জন্য একটি আদর্শ ঘর মানে কেবল চার দেওয়াল নয়। নিজেদের চাইতে শিশুর ঘরখানা হতে হবে আকর্ষণীয়। কারণ, এই ঘরখানিই তার বেড়ে ওঠার এক মায়াবী জগৎ। বড়দের ঘরের চেয়ে শিশুদের ঘর হওয়া চাই অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও পরিপাটি। কিন্তু মুশকিল হল, খুদেদের ঘর নোংরা হয় দ্রুত। তাই পরিকল্পনা করতে হবে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে। দায়সারা ভাবে ঘর সাজিয়ে ফেললেই হল না। কোন কোন বিষয়ের উপর নজর রাখতে হবে জেনে নিন (Home Decor Tips)।
ছবি: সংগৃহীত
দেওয়ালে রূপকথার বাহার
শিশুর মনে রঙের প্রভাব অপরিসীম। ঘরের দেওয়ালে লাল, নীল বা হলুদের মতো উজ্জ্বল রঙের ছোঁয়া রাখুন। নকশা করা সাধারণ ওয়ালপেপারের বদলে বেছে নিন রূপকথা, কার্টুন বা জীবজন্তুর ছবি দেওয়া থিম। এতে ওর কল্পনাশক্তি বাড়বে। পর্দার ক্ষেত্রে সুতি বা হালকা কাপড়ের ওপর ভরসা রাখুন, যাতে ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস খেলে।
ছবি: সংগৃহীত
আসবাব যখন খেলার সঙ্গী
বাচ্চার ঘরের আসবাবপত্র হবে হালকা এবং উজ্জ্বল রঙের। ভারী বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস ঘর থেকে সরিয়ে ফেলুন। বিছানার চাদর যেন অবশ্যই আরামদায়ক ও হালকা রঙের হয়। খিটখিটে মেজাজ এড়াতে ভালো ঘুমের বিকল্প নেই। ঘরের এক কোণে মাদুর পেতে তৈরি করে দিন ওর নিজস্ব খেলার জগৎ। একদিকের দেওয়ালে ওর হাতের নাগালে ছোট একটি লাইব্রেরি বানিয়ে দিন, যাতে ছোট থেকেই বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়।
ছবি: সংগৃহীত
পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা
ঘরকে প্রাণবন্ত করতে রাখতে পারেন ছোট ছোট বনসাই। পড়ার সুবিধার জন্য ঘরে সাদা জোরালো আলোর ব্যবস্থা রাখা জরুরি। খেলনা বা পোশাক যেখানে সেখানে ছড়িয়ে থাকা আটকাতে ব্যবহার করুন মাল্টি-পকেট স্টোরেজ বা অর্গানাইজার। এতে ঘর যেমন গোছানো থাকবে, শিশুটিও নিজের জিনিস গুছিয়ে রাখতে শিখবে ছোটবেলা থেকেই।
আপনার সোনামণির ঘরটি হোক ঠিক তার মনের মতো এক টুকরো স্বর্গ। সঠিক পরিকল্পনা করে এগোন। আপনার শিশুর শৈশবকে আরও রঙিন করে তুলুন।
