ভারত ২৫৩/৭ (সঞ্জু ৮৯, শিবম ৪৩, জ্যাকস ৪০/২, রশিদ ৪১/২)
ইংল্যান্ড ২৪৬/৭ (বেথেল ১০৫, জ্যাকস ৩৫, হার্দিক ৩৮/২, বুমরাহ ৩৩/১)
৭ রানে জয়ী ভারত।
আরব সাগরে ডুবে গেল ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ওয়াংখেড়ের দর্শকঠাসা ক্লাসরুমে অল্পের জন্য পাশমার্ক পেল না ইংল্যান্ড। এই নিয়ে টানা তিনবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি ভারত বনাম ইংল্যান্ড। এমন একটা ম্যাচের আগে ইংরেজ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক বলেছিলেন, ভারতের বিরুদ্ধে সাহসী ক্রিকেট খেলতে চান। সাহসী ক্রিকেট খেললেন বটে, কিন্তু শেষমেশ রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে হেরে গেল ইংল্যান্ড। হ্যারি ব্রুকদের ৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠল টিম ইন্ডিয়া।
সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো ইনিংসের সৌজন্যে ভারতের দেওয়া পাহাড়প্রমাণ ২৫৪ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই ১৩ রান তুলে ফেলল ইংল্যান্ড। এরপর নিজের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই হার্দিক পাণ্ডিয়া তুলে নিলেন ফিল সল্টকে। কভারে ক্যাচ ধরতে কোনও ভুল করেননি অক্ষর প্যাটেল। ৫ রানে ফিরলেন ইংলিশ ওপেনার। তবে ইংল্যান্ডের রানের গতি কমেনি। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ৭ রানে জশপ্রীত বুমরাহর বলে ফিরলেও আগ্রাসন কমেনি ইংল্যান্ডের। ৫.৫ ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর বলে বাটলার আউট হতে অনেকটাই স্বস্তি ফেরে ভারতের। তাঁর গুগলি মিডল স্টাম্প ভেঙে দেয়। ২৫ রানে আউট ইংল্যান্ডের অন্যতম স্তম্ভ বাটলার। এবারের বিশ্বকাপ তাঁর কাছে কাঁটা বিছানোই হয়ে রইল।
এরপর ব্যান্টন শট মিস করলেও অক্ষরের ডেলিভারি স্টাম্প ছুঁতে মিস করেনি। ১৭ বলে ফিরলেন তিনি। ৮ ওভারে চার উইকেটে ইংল্যান্ডের স্কোর ৯৯। ক্রমাগত উইকেটের পতনের পরেও হাল ছাড়েনি ইংল্যান্ড। এরই মধ্যে ১৯ বলে ৫০ করে চলতি টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধশতরানের মালিক হয়ে গেলেন জ্যাকব বেথেল। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিচ্ছিলেন উইল জ্যাকস। ইংল্যান্ডের ইনিংসে যেন চার-ছক্কার বিরতি নেই। তার উপর বেশ কয়েকবার মিস ফিল্ডিংও ভোগাল ভারতকে। তবে সেই ফিল্ডিংয়ের দৌলতেই ম্যাচে ফিরল 'মেন ইন ব্লু'।
গোটা বিশ্বকাপে বরুণের 'রহস্য' উধাও। ওয়াংখেড়ের পাটা পিচে দিলেন ৪ ওভারে ৬৪। ওভার পিছু দিলেন ১৬ করে। তাঁর পারফরম্যান্স যে আতশকাচের নিচে, সে কথা বলাই বাহুল্য। কেবল বরুণ কেন? ৪ ওভারে ৫১ রান দিয়ে গেলেন অর্শদীপ। লাইন-লেংথ কোনওটাই ঠিক রাখতে পারলেন না। বারবার অতিরিক্ত রান দিয়ে দলকে চাপে ফেলে দিলেন।
অর্শদীপ সিংয়ের বল তুলে মেরেছিলেন জ্যাকস। বাউন্ডারি লাইনে দুরন্ত ক্যাচ নিয়ে শিবম দুবের হাতে দেন অক্ষর প্যাটেল। দুই ক্রিকেটারের যুগলবন্দিতে সাজঘরের পথে হাঁটা দিলেন জ্যাকস। স্বস্তির মুহূর্ত কেবল ওইটুকুই। এরপর যেন 'ট্র্যাডিশন' বজায় রাখলেন বরুণ চক্রবর্তী। গোটা বিশ্বকাপে তাঁর 'রহস্য' উধাও। ওয়াংখেড়ের পাটা পিচে দিলেন ৪ ওভারে ৬৪। ওভার পিছু দিলেন ১৬ করে। তাঁর পারফরম্যান্স যে আতশকাচের নিচে, সে কথা বলাই বাহুল্য। কেবল বরুণ কেন? ৪ ওভারে ৫১ রান দিয়ে গেলেন অর্শদীপ। লাইন-লেংথ কোনওটাই ঠিক রাখতে পারলেন না। বারবার অতিরিক্ত রান দিয়ে দলকে চাপে ফেলে দিলেন। জ্যাকস আউট হলেও ভয় ধরানো ব্যাটিং করছিলেন বেথেল। কঠিন সময়ে মাথা ঠান্ডা রেখে স্মরণীয় সেঞ্চুরি হাঁকালেন বেথেল। ৪৮ বলে ১০৫ রান করে হার্দিকের দুরন্ত থ্রোয়ে রান আউট হলেন তিনি। নিজের শেষ ওভারে আবারও একটি উইকেট তুলে নিয়ে ভারতীয় সমর্থকদের স্বস্তি দিলেন তারকা অলরাউন্ডার। স্যাম কারানকে ফেরালেন তিনি। তার আগের ওভারে অবশ্য বুমরাহর কথা বলতেই হবে। তিনি দিলেন মাত্র ৬ রান। ইংল্যান্ড থামল ৭ উইকেটে ২৪৬ রানে।
শেষ চারের ম্যাচে টসভাগ্য সহায় হয়নি সূর্যকুমার যাদবের। টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠালেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। ‘মায়া নগরী’তেও উঠল সঞ্জু-ঝড়। করলেন ৪২ বলে ৮৯ রান। হাঁকালেন মোট ৮টি চার ও ৭টি ছক্কা। ১৮ বলে ৩৯ রান করে ফিরলেন ঈশান কিষান। শিবম দুবে (৪৩) এবং হার্দিক পাণ্ডিয়া ফিরলেন ১২ বলে ২৭ রানে। ইংল্যান্ডের সামনে ২৫৪ রানের লক্ষ্য রাখে টিম ইন্ডিয়া। এত বড় রানের সামনেও দমে যায়নি ইংল্যান্ড। যদিও মাত্র ৭ রানের জন্য তারা পেরতে পারল না টিম ইন্ডিয়ার দেওয়া লক্ষ্য। ৭ রানে জিতে টানা দ্বিতীয় বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত। রবিবার ফাইনালের সূর্যকুমারদের সামনে নিউজিল্যান্ড। সেই ম্যাচে জিতলে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল জিতে নজির গড়বে ভারত। তাছাড়াও দেশের মাটিতেও বিশ্বকাপ জেতা প্রথম দল হিসাবে রেকর্ড বুকে নাম তুলবেন সূর্যকুমাররা।
