আম্পায়ারিং থেকে একেবারে গ্যাংস্টার! গায়ে কালচে জ্যাকেট, চোখে রোদ চশমা। সঙ্গে রয়েছেন চ্যালা-চামুণ্ডারাও। ঘোড়ায় চেপে একেবারে দুঁদে 'ড্যাপার ডন' তিনি। বলা হচ্ছে অনিল চৌধুরীর কথা। এক দশকের বেশি আইসিসি'র আম্পায়ার ছিলেন। অবসরের ছ'মাস পর নতুন কেরিয়ার বেছে নিয়েছেন তিনি। আম্পায়ারিংয়ের পরিচিত গুরুগম্ভীর 'লুক' ছেড়ে নতুন অবতারে তাঁকে দেখে নেটিজেনরা রীতিমতো চমকে গিয়েছেন।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫। ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে ম্যাচের পর আম্পায়ারিং থেকে অবসর নেন অনিল চৌধুরী। সেই তিনি রুপোলি পর্দায় পা রাখলেন। অবসরের পর অনেকেই যখন বিশ্রাম কিংবা ঘুরে বেড়িয়ে কাটিয়ে দেন, সেই সময় অন্য ভূমিকায় অনিল। অবসর-পরবর্তী কেরিয়ার শুরু করলেন ধামাকা দিয়ে। অন স্ক্রিন অভিষেক ঘটিয়েছেন তিনি। 'গুলি তো চলেগি' নামক একটি হরিয়ানভি মিউজিক ভিডিওর তাঁকে দেখা গিয়েছে। গোটা প্রোজেক্টটি সুমন গুহর পরিচালনা, যিনি ফ্যাশন ডিজাইনার থেকে চলচ্চিত্র পরিচালনায় এসেছেন। ভিডিওটির প্রযোজনায় রয়েছেন এপিক ফিল্মসের ব্যানারে নরেশ ঝা।
গানটির ভিডিও লঞ্চ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অনিল চৌধুরী স্বয়ং। প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কেমন লাগছে? ৬০ বছর বয়সি আম্পায়ার বলেন, "আন্তর্জাতিক বা আইপিএল ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের তুলনায় আমার উপর চাপ কিছুটা কম ছিল। ক্যামেরার সামনে ভুল করলে আপনি তা সংশোধনের সুযোগ পাবেন। তাছাড়াও এডিটিংয়ের টেবিলেও অনেক কিছু শুধরে নেওয়া যায়। কিন্তু আম্পায়ারিংয়ের ক্ষেত্রে তা হয় না। অভিনয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে আবেগকে কাজে লাগাতে হয়। কিন্তু আম্পায়ারিংয়ে আবেগ এড়িয়ে চলতে হয়। তবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে ভয় পাইনি। এর আগেও হরিয়ানভি ভাষায় ধারাভাষ্য দিয়েছি। যা আমাকে সাবলীল থাকতে সাহায্য করেছে।" তাছাড়াও সুমন গুহ এবং নরেশ ঝায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অনিল চৌধুরী।
২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অনিল চৌধুরী ১২টি টেস্ট, ৪৯টি ওয়ানডে, ৬৪টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক এবং ১৩১টি আইপিএল ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন। যা সুন্দরম রবির আম্পায়ারিংয়ের রেকর্ডের সমান। ঘরোয়া ক্রিকেটেও অসাধারণ রেকর্ডের অধিকারী তিনি। ৯১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, ১১৪টি লিস্ট 'এ' ম্যাচ এবং ২৭৮টি টি-টোয়েন্টিতে তাঁকে আম্পায়ার হিসাবে দেখা গিয়েছে। হরিয়ানভি ভাষায় ধারাভাষ্য ছাড়াও তিনি অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন অনলাইন পডকাস্টে। ২০২২ সালে বিসিসিআই তাঁকে এ+ ক্যাটাগরিতে রেখেছিল। সেই তালিকায় ছিলেন মাত্র ১০ আম্পায়ার।
