১৯ মাস আগে ব্রিজটাউনের সেই মায়াবী রাতের কথা এখনও গেঁথে আছে ভারতীয় সমর্থকদের মনে। মাঠের মাঝে তেরঙ্গা গেঁথে দেওয়ার দৃশ্যও এখনও সজীব। সেদিনের কাণ্ডারী রোহিত শর্মা শনিবারও মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বসে দেখছিলেন নিজের উত্তরসূরিদের। হয়তো ভাবছিলেন, লিগ্যাসি যার হাতে দিয়ে গিয়েছেন সেই সূর্যকুমার যাদব সেই লিগ্যাসি ধরে রাখার যোগ্য দাবিদার বটে।
নাহলে পুরো ব্যাটিং ইউনিটের গণ-ব্যর্থতার দিনও ভারত যেভাবে অনায়াসে জিতল, সেটা সম্ভব হত না।আর সেটা সম্ভব হল অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংসের জন্য। নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকেই রানে ফিরেছেন সূর্য। ওয়াংখেড়ে আবার তাঁর ঘরের মাঠ। উলটোদিকে পরপর উইকেট যেতে দেখেও একবারের জন্য কেঁপে যাননি। বরং একটা দিক থেকে পালটা দেওয়ার কাজটা তিনি চালিয়ে গেলেন। ওয়াংখেড়েতে ৪৯ বলে ৮৪ নট আউটের যে ইনিংসটা তিনি খেললেন, পরিস্থিতি বিচার তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস হয়ে থাকবে।
এই ইনিংসে ভারত অধিনায়ক একাধিক রেকর্ডও ভেঙেছেন। সূর্য শনিবার প্রত্যাশিতভাবেই ম্যাচের সেরা হয়েছেন। টি-২০ ক্রিকেটে বিরাট কোহলিকে টপকে সবচেয়ে বেশি ম্যান অফ দ্য ম্যাচ খেতাব এখন তাঁরই দখলে। ক্ষুদ্রতম ফরম্যাটে মোট ১৭ বার ম্যাচের সেরা হয়েছেন ভারত অধিনায়ক। এতদিন এই রেকর্ড ছিল বিরাটের হাতে। তিনি ১৬ বার ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন। শনিবার ভারত মোট ১৬১ রান করেছিল। সূর্য ৮৪। অর্থাৎ মোট রানের ৫২ শতাংশই এসেছে অধিনায়কের ব্যাট থেকে। যা কিনা ভারতীয়দের মধ্যে টি-২০ ক্রিকেটে চতুর্থ সর্বোচ্চ। এর আগে বিরাট এক ইনিংসের ৫৯ শতাংশ, রোহিত এক ইনিংসের ৫৮ শতাংশ এবং রায়না এক ইনিংসের ৫৪ শতাংশ রান করেছেন। অধিনায়ক হিসাবে বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচেই ৮৪ রান। টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে এটা দ্বিতীয় সর্বাধিক। ২০০৯ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়কত্ব করার সময় প্রথম ম্যাচে ৮৮ রান করেছিলেন গেইল। তারপরই সূর্যর স্থান।
এ তো গেল সূর্যর একার রেকর্ড। টিম ইন্ডিয়া দলগতভাবে যে রেকর্ড গড়েছে, সেটা এককথায় ইতিহাস। টি-২০ বিশ্বকাপে ভারত এই নিয়ে টানা ৯ ম্যাচ জিতল। এর আগে ২০২৪ সালে সব ম্যাচেই জিতেছিল ভারতীয় দল। আর ২০২৫ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও জয় এল। আসলে ২০২৪ বিশ্বকাপের পর থেকে ভারত জিতেছে ৮৮ শতাংশ ম্যাচ। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, বিশ্বজুড়ে ‘মস্তানি’ চালিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। সেই মস্তানি এখনও অক্ষুণ্ণ। এর আগে টানা জয়ের রেকর্ড ছিল অজিদের হাতে। অ্যারন ফিঞ্চের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া ২০২২-২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা ৮ ম্যাচ জেতে।
