হর্ষিত রানা ফিট থাকলে তাঁর বিশ্বকাপে খেলা হত না। জশপ্রীত বুমরাহ সুস্থ থাকলে তাঁর শনিবারে প্রথম একাদশে নামা হত না। কিন্তু তিনি শনিবার শুধু নামলেন না। বলা যায়, এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। আমেরিকার বিরুদ্ধে মহম্মদ সিরাজ আগুনে বোলিং করলেন। শুরুতেই দুটো উইকেট তুললেন। শেষে আর একটা। দেখে কে বলবে এই ভদ্রলোক প্রায় দু'বছর দেশের হয়ে টি-২০ খেলেননি। কে বলবে, মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে বিশ্বকাপের দলে ডাক পেয়েই তাঁকে সোজা নেমে পড়তে হয়েছে প্রথম একাদশে। সিরাজ বলছেন, এ সবই ঈশ্বরের লিখন।
লালবলের ক্রিকেটে ভারতীয় দলের অন্যতম ভরসার জায়গা হলেও সিরাজ সাদাবলের ক্রিকেটে নিয়মিত নন। সদ্য নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে খেললেও জাতীয় দলের হয়ে শেষবার তিনি টি-২০ খেলেছেন সেই ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। তারপর আর ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে খেলা হয়নি সিরাজের। বিশ্বকাপেও খেলার কথা ছিল না। তিনি বিশ্বকাপের এই 'অবসর' সময়ে নিজের মতো পরিকল্পনা করে ফেলেছিলেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি যেদিন ভারত-পাকিস্তান মেগা ম্যাচ, সেদিনই তাঁর রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ দেখতে মাদ্রিদ যাওয়ার কথা। তারপর বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে রমজান মাসটা কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সূর্যকুমার যাদবের একটা ফোন সবটা বদলে দিল। বলা ভালো, সিরাজের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিল। তাতে অবশ্য আক্ষেপ নেই ভারতীয় পেসারের।
লালবলের ক্রিকেটে ভারতীয় দলের অন্যতম ভরসার জায়গা হলেও সিরাজ সাদাবলের ক্রিকেটে নিয়মিত নন। সদ্য নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে খেললেও জাতীয় দলের হয়ে শেষবার তিনি টি-২০ খেলেছেন সেই ২০২৪ সালের জুলাই মাসে।
সিরাজ নিজেও ভাবতে পারেননি বিশ্বকাপ টিমে হঠাৎ সুযোগটা এসে যাবে। ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এসে বলেছিলেন, "গত এক বছর টি-টোয়েন্টি টিমে ছিলাম না। বুঝে গিয়েছিলাম এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভাবনায় নেই আমি। চব্বিশ ঘণ্টা আগে যখন সূর্যর ফোন এল, তখন ভেবেছিলাম ও মজা করছে। সূর্য বলছিলেন, মিয়া ব্যাগ প্যাক করে নাও। আর চলে এসো। সূর্যকে বলেছিলাম, আরে, তুমি মজা করো না। তারপর ওঝাভাইয়ের ফোন এল। সবই উপরওয়ালার ইচ্ছে। আমি তো ঠিক করেছিলাম ১৫ ফেব্রুয়ারি রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ দেখতে যাব। তারপর পরিবারের সঙ্গে রমজান কাটাব। তবে দেশের হয়ে আজ বিশ্বকাপ খেলছি। এর থেকে ভালো কিছু হয় না।"
শোনা গেল, হর্ষিতের ছিটকে যাওয়ার পর সিরাজকে নিয়ে আসার ব্যাপারে দু'বার ভাবতে হয়নি টিম ম্যানেজমেন্টকে। কারণটা সিরাজের অভিজ্ঞতা। সিদ্ধান্ত যে কতটা ঠিক ছিল, শনিবার বারবার বোঝা গেল। ম্যাচ জিতিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের মিয়াঁভাই বলছিলেন, "বিশ্বকাপ খেলাটা যে কোনও ক্রিকেটারের জন্য আলাদা স্বপ্ন।"
