চাপের মুখে জীবনের সেরা ইনিংসটা খেলেছিলেন ইডেনে। এবার পালা ওয়াংখেড়ের। বৃহস্পতিবার 'মায়া নগরী'তে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের যুদ্ধে নেমেছিল টিম ইন্ডিয়া। সেখানেও সঞ্জু-ঝড়। কলকাতায় যেখানে শেষ করেছিলেন, ঠিক সেখান থেকেই মুম্বইয়ে শুরু করলেন ভারতীয় দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। বলা চলে, সঞ্জু স্যামসনের সৌজন্যেই ৭ উইকেটে ২৫৩ রানে পৌঁছল ভারত।
শেষ চারেও টসে হারলেন সূর্যকুমার যাদব। টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের। ইংল্যান্ড দলে একটি বদল। রেহান আহমেদের বদলে ঢুকলেন জেমি ওভার্টন। ভারতীয় দল অপরিবর্তিত। প্রথম ওভারে জোর্ফা আর্চারকে শক্ত হাতেই সামলালেন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারির সৌজন্যে ৬ বলে ভারতের স্কোর ১২। তবে ফের ব্যর্থ হলেন অভিষেক। জ্যাকসের ডেলিভারিতে পুল শট মারতে গিয়ে সল্টের হাতে ক্যাচ তুলে মাঠ ছাড়লেন। সংগ্রহ মোটে ৯ রান।
তবে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট এরপরেই। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই সঞ্জুকে প্যাভিলিয়নে ফেরানোর দুর্দান্ত সুযোগ পেলেন আর্চার। কিন্তু মিড অনে ক্যাচ মিসে জীবন পেলেন ভারতীয় ওপেনার। পরের বলেই অবশ্য় ছক্কা হাঁকিয়ে দম বন্ধ পরিস্থিতি দূর করেন সঞ্জু। সেই যে শুরু। তার পর আর থামানো যায়নি সঞ্জুকে। ২৬ বলে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন। তাও আবার ডসনের বলে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে। পাল্লা দিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিং করছিলেন ঈশান কিষানও। এর ফলে ৮.৪ ওভারেই ১০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া। দুরন্ত শটে বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে দলকে দ্রুত শতরান এনে দিলেন সঞ্জু। তবে এর পরের ওভারেই সাজঘরে ফিরলেন ঈশান। রশিদের বলে তুলে মারতে গিয়ে জ্যাকসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৮ বলে ৩৯ রান করে ফিরলেন তিনি।
ইডেনে মাত্র ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি। ৫০ বলে ৯৭ রানে অপরাজিত ছিলেন সঞ্জু। ওয়াংখেড়েতে সেঞ্চুরির দিকেই এগোচ্ছিলেন। তবে তাঁর ইনিংস থামল সেঞ্চুরই থেকে ১১ রান দূরে। মূল্যবান উইকেটটি তুলে নিলেন জ্যাকস। ৪২ বলে ৮৯ রানে সল্টের হাতে ক্যাচ তুলে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন। হাঁকালেন মোট ৮টি চার ও ৭টি ছক্কা। সঞ্জু যখন ফিরলেন ভারতের রান ১৩.১ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬০ রান। অর্থাৎ, ভারতকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। তৈরি হওয়া মঞ্চে শিবম দুবে (৪৩) দাপুটে ব্যাটিং করলেও ফের ব্যর্থ অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ছক্কা মারার পরের বলেই আদিল রশিদকে সুইপ মারতে গিয়ে স্ট্যাম্প আউট সূর্য। ৬ বলে ১১ রানে ফেরেন ভারত অধিনায়ক। হার্দিক রান আউট হয়ে ফিরলেন ১২ বলে ২৭ রানে। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সামনে ২৫৪ রানের লক্ষ্য রাখল টিম ইন্ডিয়া।
