অবাধ্য, উচ্ছৃঙ্খল! কত বিশেষণই না জুড়েছিল ঈশান কিষানের নামের সঙ্গে। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। গীতার মন্ত্রে মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান করে জায়গা করে নিয়েছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে। আর পাকিস্তানকে সামনে পেতেই যেন জ্বলে উঠলেন। তাঁর ৪০ বলে ৭৭ রানের ইনিংস ছিল পাক-বধের মারণাস্ত্র। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেও তাঁর মুখে দেশের কথা।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অভিষেকের উইকেট হারালেও চাপে পড়েনি টিম ইন্ডিয়া। সেটা হতে দিলেন না ঈশান কিষান। পাকিস্তানের বোলারদের যেভাবে তিনি মাঠের বাইরে ফেললেন, তাতে মনেই হবে না দু’মাস আগেও টিম ইন্ডিয়ার র্যাডারে ছিলেন না। মাত্র ২৭ বলে হাফসেঞ্চুরি করলেন। শাদাব খান, শাহিন আফ্রিদি এক-একটা করে বল করছেন, আর ভারতের ভক্তরা অপেক্ষা করছেন সেই বলটা ঈশান মাঠের কোনদিকে পাঠান। এভাবেই ১০টা চার ও ৩টি ছক্কায় ৪০ বলে ৭৭ রান করে ফেলেন। সাইম আয়ুবের বলে যখন তিনি আউট হচ্ছেন, তখন ভারতের ইনিংস শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে গিয়েছে।
ম্যাচের পর ঈশান বললেন, ‘এই ম্যাচটা সব সময় আলাদা। এই জয়টা শুধু আমাদের জন্য নয়। দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওদের দলে কয়েকজন ভাল স্পিনার আছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই জয়টা আমাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করবে। যেটা পরের ম্যাচগুলোতে কাজে লাগবে।’’ সেই সঙ্গে জশপ্রীত বুমরাহ ও হার্দিক পাণ্ডিয়ার প্রশংসাও করে যান। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও বলে যান, "এই জয়টা ভারতের জন্য।"
ঈশানের জন্যও এই ইনিংসটা দরকারি ছিল। ২০২২-এ ডবল সেঞ্চুরি করার পর অনেকেই মনে করেছিলেন, ভারতীয় দলে ঈশান কিষানের জায়গা পাকা। কিন্তু সেখান থেকে বাদ পড়েন। অবশেষে কামব্যাকের নয়া কাহিনি লিখলেন ঈশান কিষান। যার নেপথ্যে রয়েছে ভগবদ্গীতার বাণী। বাবা প্রণব পাণ্ডের কাছে গীতার শ্লোকের অর্থ জানার পর ক্রমশ আকৃষ্ট হন ভগবদ্গীতার প্রতি। তারপর থেকে ব্যাট, ক্লিপিং গ্লাভস ছাড়া গীতা হয়ে ওঠে তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী। পবিত্র গ্রন্থের বাণীই তাঁকে লড়াইয়ে অনুপ্রেরণা জোগায়। পাক-বধেও অস্ত্র হল ঈশানের ব্যাট নামক সুদর্শন চক্র।
