ভারতের বিশ্বজয়ে তাঁর অবদান বোধহয় সেভাবে আলোচিত হচ্ছে না। অথচ শেষের দিকে ঝড় তুলতে একটাই নাম ঘুরে-ফিরে এসেছে। তিনি শিবম দুবে। যদিও ঝাঁ চকচকে আলো থেকে অনেকটাই দূরে থাকেন। ফের তার প্রমাণ মিলল। বিশ্বজয়ের পর বাড়ি ফিরলেন ট্রেনে চেপে। একহাতে মেডেল। কারণ, বাড়ি ফিরে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার তর সইছিল না।
টুর্নামেন্টে সবচেয়ে আন্ডাররেটেড ভারতীয় পারফর্মার। যখনই দরকার পড়েছে ব্যাট হাতে পারফর্ম করেছেন শিবম। করেছেন ২৩৫ রান। পেয়েছেন ৫ উইকেট। কিন্তু বিশ্বজয়ের পর অনেকে যে প্রচারের মুখ হয়ে উঠেছেন, সেখানে শিবম নেই। তিনি কোথায়? বাড়ি ফেরার তোড়জোড় করছেন। রবিবার রাতে বিমান ছিল না। তাই ট্রেনেই মুম্বইয়ের বাড়িতে ফিরলেন 'ফ্যামিলি ম্যান'।
পরে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে শিবম বলেন, "রাতে কোনও বিমান ছিল না। তাই আমি ঠিক করি আহমেদাবাদ থেকে ট্রেন ধরে সকালের মধ্যে মুম্বই ফিরব। আমি গাড়িতেও ফিরতে পারতাম। কিন্তু ট্রেনে তাড়াতাড়ি হল। আমি, আমার স্ত্রী ও এক বন্ধু ঠিক করি ট্রেনে ফিরব। থার্ড এসি'র টিকিট পাওয়া যাচ্ছিল, তাই সেটাই কেটে নিই। সবাই একটু দুশ্চিন্তায় ছিল যে, ট্রেনের ভিতর কেউ যদি আমাকে চিনে ফেলে, তাহলে কী হবে?"
আমি টুপি ও মাস্ক পরেছিলাম। ফুল হাতা টি-শার্ট পরা ছিল। ভোর ৫টা ১০-এ ট্রেন ছিল। স্ত্রীকে বলি ট্রেন ছাড়ার ৫ মিনিট আগে জানাতে। আমি গাড়িতে অপেক্ষা করছিলাম। তারপর দ্রুত ট্রেনে উঠে যাই।
কিন্তু তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাড়ি ফিরে চার বছরের ছেলে আয়ান ও দু'বছরের মেয়ে মেহউইশের সঙ্গে দেখা করা। তাই 'ছদ্মবেশে' ফেরার পরিকল্পনা করেন শিবম। সেই মতো কথাবার্তা হয় স্ত্রী অঞ্জুমের সঙ্গে। শিবম বলেন, "আমি টুপি ও মাস্ক পরেছিলাম। ফুল হাতা টি-শার্ট পরা ছিল। ভোর ৫টা ১০-এ ট্রেন ছিল। প্লাটফর্মে খুব বেশি লোক থাকার কথা নয়।" কিন্তু বিশ্বজয়ের পরদিন প্লাটফর্মেও প্রচুর লোক ছিল। অতএব উপায়? শিবম বলেন, "স্ত্রীকে বলি ট্রেন ছাড়ার ৫ মিনিট আগে জানাতে। আমি গাড়িতে অপেক্ষা করছিলাম। তারপর দ্রুত ট্রেনে উঠে যাই। আমাকে কেউ চিনতে পারেনি। মুম্বই ঢোকার আগে পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছিলাম। তারা সব ব্যবস্থা করে। তবে পুলিশও অবাক হয়েছিল, বিমানে না এসে ট্রেনে এসেছি বলে।"
