গত টি-২০ বিশ্বকাপ জুড়ে লেখা হয়েছিল আফগান রূপকথা। একের পর এক কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে এসেছিলেন রশিদ খানরা। দাঁতে দাঁত চাপা লড়াই করে সেমিফাইনালে হারলেও ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে চ্যাম্পিয়নের মতোই সম্মান পেয়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু দু'বছর পর বাস্তবের রুক্ষ জমিতে আছড়ে পড়ল আফগান রূপকথা। প্রথম ম্যাচে বেশ টক্কর দিলেও রহমানুল্লা গুরবাজরা হেরে গেলেন নিউজিল্যান্ডের কাছে।
চেন্নাইয়ের ঘূর্ণি পিচে বাজিমাত করবে রশিদদের স্পিন, এমনটাই আশা ছিল আফগান ক্রিকেটভক্তদের। পরের দিকে পিচ মন্থর হয়ে যাবে, এটা মনে করেই টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক রশিদ। কিন্তু পাওয়ার প্লে'তে একেবারেই রান ওঠেনি। ১২ বলে মাত্র ১০ রান করে পাওয়ার প্লে'র শেষ ওভারে আউট হয়ে যান ইব্রাহিম জাদরান। অপর ওপেনার গুরবাজও মাত্র ২৭ রানে আউট হয়ে যান। তিন নম্বরে নেমে আফগান ইনিংসের হাল ধরে গুলবদিন নাইব। তিনটি বাউন্ডারি, ৪টি ছক্কা মেরে মাত্র ৩৫ বলে ৬৩ রান করেন।
কিন্তু ক্রিজের অপর প্রান্ত থেকে গুলবদিন একেবারেই সাহায্য পাননি। কোনও আফগান ব্যাটারই ৩০ রানের গণ্ডি পেরননি। শেষদিকে আজমাতুল্লা ওমরজাই এবং মহম্মদ নবির ক্যামিওতে ১৮২ রানের লড়াকু স্কোরে পৌঁছয় আফগানিস্তান। চেন্নাইয়ে চেনা পিচে ভেলকি দেখালেন কিউয়ি স্পিনার মিচেল স্যান্টনার। উইকেট না পেলেও রানের গতি একেবারে আটকে দিয়েছেন সিএসকে'তে খেলা তারকা।
অপেক্ষাকৃত সহজ টার্গেট পেলেও রান তাড়া করতে নেমে বড়সড় ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারের পরপর দুই বলে ফিন অ্যালেন এবং রাচীন রবীন্দ্রকে ফেরান মুজিব উর রহমান। তবে সেই ধাক্কা সামলে দেন টিম সাইফার্ট এবং গ্লেন ফিলিপস। যথাক্রমে ৬৫ এবং ৪২ রান আসে তাঁদের ব্যাট থেকে। তাঁদের ৭৪ রানের জুটিতেই ম্যাচে ফেরে নিউজিল্যান্ড। পরে দু'জনে আউট হয়ে যান অবশ্য। শেষদিকে পরপর উইকেটে তুলে ম্যাচে ফেরার একটা মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন আফগান স্পিনাররা। কিন্তু স্যান্টনার এবং ড্যারিল মিচেলের ঠাণ্ডা মাথার কাছে পরাস্ত হলেন মহম্মদ নবিরা।
