shono
Advertisement
T20 World Cup

ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় পাকিস্তানের, সেমিফাইনাল পেল ইডেন

অঙ্কে ডাহা ফেল সলমন আলি আঘার দল। এবারের মতো বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হল তাদের। পাকিস্তানের বিদায়ে সেমিফাইনাল পেল ইডেন। 
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 10:29 PM Feb 28, 2026Updated: 11:35 PM Feb 28, 2026

পাকিস্তান ২১২ (সাহিবজাদা ১০০, ফকর ৮৪, মাদুশঙ্কা ৩৩/৩, শনাকা ৪২/২)
শ্রীলঙ্কা: ২০৭/৬ (পবন ৫৮, শনাকা ৭৬, আবরার ২৩/৩)
৫ রানে জয়ী পাকিস্তান। 

Advertisement

বিশ্বকাপের ম্যাচ না অঙ্ক পরীক্ষা, তা বোঝার উপায় ছিল না। শনিবার সম্ভবত হাতে ক্যালকুলেটর নিয়ে ম্যাচ খেলতে নেমেছিল পাকিস্তান। ম্যাচটি পাকিস্তানের কাছে জীবন-মরণের। সুপার এইটের গ্রুপ ২-এ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ড হেরে যাওয়ায় সেমিফাইনালে যাওয়ার আশা কিছুটা হলেও বেঁচে ছিল পাকিস্তানের। তবে সেই অঙ্ক মেলাতে ডাঁহা ফেল সলমন আলি আঘার দল। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই এবারের মতো বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হল তাঁদের। ১৬তম ওভারে শ্রীলঙ্কার রান ১৪৭ রান পেরিয়ে যেতেই বিদায়ঘণ্টা বাজল পাকিস্তানের। এরফলে সেমিফাইনাল পেল ইডেন। বুধবার ক্রিকেটের নন্দনকাননে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। 

এমন একটা মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে ৮ উইকেটে ২১২ রান তুলে ফেলল পাকিস্তান। সৌজন্যে সাহিবজাদা ফারহান। সেমিফাইনালে খেলতে হলে অন্তত ৬৫ রানে জিততে হবে। এই সমীকরণ সামনে রেখে শনিবার ব্যাট করতে নেমেছিলেন সাহিবজাদা ফারহান এবং ফখর জামান। ওই বিশাল রানের ব্যবধানে জিততে হলে শ্রীলঙ্কার সামনে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দিতে হবে, সেটা জানতেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার। সেই মতো শুরু থেকেই লঙ্কাব্রিগেডকে তুলোধোনা করা শুরু করেন তাঁরা। শুরু থেকেই রানের গড় ছিল দশের বেশি।

পাকিস্তানের দুই ওপেনারই খেলে দেন ১৬ ওভার পর্যন্ত। ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে ১৭৬ রান উঠে গিয়েছে। ফখর জামান ৮৪ রানে আউট হয়ে গেলেও সাহিবজাদা ফারহান ৫৯ বলে ১০০ রান করেন। একটা সময় মনে হচ্ছিল, পাকিস্তানের রান ২৩০ পেরিয়ে যাবে। কিন্তু দুই ওপেনার আউট হতেই রানের গতি কমে যায়। তাঁরা ছাড়া দু'অঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেননি কেউ। শেষ ২৫ বলে পাকিস্তান তোলে মাত্র ৩৬।

জবাবে শুরুতেই উইকেট খোয়ায় শ্রীলঙ্কা। নাসিম শাহের বলে মাত্র ৩ রানে সাজঘরের পথ ধরেন পাথুম নিশাঙ্কা। এরপর অবশ্য কামিল মিশারা এবং চরিত আশালাঙ্কা জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু আবরার আহমেদের বলে বোল্ড হন মিশারা (২৬)। আশালাঙ্কার লড়াই শেষ হয় ২৫ রানে। এরপর একা কুম্ভ হয়ে লড়াই করেন পবন রথনায়েকে। শ্রীলঙ্কার হয়ে যেন প্রার্থনা করছিল নিউজিল্যান্ডও। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট ৩ ম্যাচে ৩। নেট রান রেট +১.৩৯০। কিউয়ইদের সেই রান পেরতে পাকিস্তানকে ৬৫ রানের ব্যবধানে জিততেই হত। যদিও সেটা সম্ভব হচ্ছে না পবনের অনবদ্য লড়াইয়ে। ১৬তম ওভারে উসমান তারিকের পঞ্চম বলে এক রান নেন শনাকা। স্কোর পেরিয়ে যায় 'ম্যাজিক ফিগার' ১৪৭। সঙ্গে সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পাকিস্তানের বিদায়ও নিশ্চিত হয়ে যায়।

অবিস্মরণীয় ইনিংসের পর শনাকাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন শাহিন আফ্রিদি। ছবি সংগৃহীত।

একটা সময় লঙ্কান বাহিনীর ১০১ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ায় সুযোগ এসে গিয়েছিল পাকিস্তানের সামনে। কিন্তু পাকিস্তান তো পাকিস্তানই। পুরনো রোগ যাবে কোথায়? পালটা আক্রমণ শুরু শ্রীলঙ্কারও। পবনের ৩৭ বলে ৫৮ রানের অনন্য ইনিংসের পর হাত খুলে মারলেন দাসুন শনাকাও। হারতে বসা একটা ম্যাচ প্রায় জিতিয়েই দিয়েছিলেন। শেষ ওভারে জেতার জন্য ২৮ রান দরকার ছিল। শাহিন আফ্রিদিকে একটি চার এবং টানা তিনটি ছক্কা হাঁকান তিনি। শেষ বলে দরকার ছিল ৬ রান। তবে সেটা আর পেরে ওঠেননি। শ্রীলঙ্কান অধিনায়কের ৩০ বলে ৭৬ রান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শ্রীলঙ্কা থামল ৬ উইকেটে ২০৭ রানে। যে ম্যাচ ৬৫ রানে জিততে হত, সেই ম্যাচ মাত্র ৫ রানে জিতল পাকিস্তান। বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ইডেনে সেমিফাইনাল খেলতে আসছে নিউজিল্যান্ড। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement