মহাবিপত্তিতে পিভি সিন্ধু। অল ইংল্যান্ড ওপেন খেলতে যাওয়ার আগে চরম সমস্যায় ভারতীয় শাটলার। শনিবার তেহরানে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল ও আমেরিকা। থেমে থাকেনি ইরানও। দুবাই, আবু ধাবি-সহ একাধিক জায়গায় বড়সড় হামলা চালায় তারা। যার জেরে অশান্ত পরিস্থিতি গোটা মধ্যপ্রাচ্য। বন্ধ রয়েছে আকাশসীমা। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে পরিষেবা স্থগিত করেছে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বিমান পরিষেবাও। তাই ইংল্যান্ডের বিমান ধরতে পারেননি সিন্ধু। দোহায় সমস্যায় পড়েছে ভারতের বাস্কেটবল দলও।
অল ইংল্যান্ড ওপেন শুরু হতে চলেছে মঙ্গলবার, ৩ মার্চ থেকে। ঐতিহ্যশালী এই টুর্নামেন্ট খেলতে দুবাই হয়ে বার্মিংহ্যামে যাওয়ার কথা সিন্ধুর। সেই উদ্দেশ্যে রওনাও দেন। তবে শনিবার দুবাই পৌঁছনোর পরেই ঘোরতর সমস্যায় পড়েন অলিম্পিকে দু'বার অলিম্পিক পদকজয়ী ভারতীয় তারকা। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ইংল্যান্ডগামী বিমান বাতিল করে দেওয়া হয়। বিমানবন্দরের পর্যটকদের অনুরোধ করা হচ্ছে, দুবাইগামী বিমান এড়িয়ে চলার কথা। সিন্ধু নিজেও চেয়েছিলেন, দুবাই থেকে বিমান বদল করতে। কিন্তু তাঁর সূচি পূর্বনির্ধারিত থাকায় সেটা সম্ভবপর হয়নি।
ইনস্টাগ্রামে একটি জনাকীর্ণ বিমানবন্দরের ভিডিও পোস্ট করেছেন সিন্ধু। ক্যাপশনে লিখেছেন, 'পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমস্ত ফ্লাইট স্থগিত।' অর্থাৎ দুবাইয়ের পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। এমনকী আদৌ তিনি অল ইংল্যান্ড ওপেন খেলতে বর্মিংহ্যাম পৌঁছতে পারবেন কি না, সেই ব্যাপারেও কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সিন্ধুর প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। ভারতীয় শাটলারের এমন পোস্ট দেখে সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। নেটিজেনরা সিন্ধুর উপযুক্ত সুরক্ষার কথা বলছেন।
উল্লেখ্য, শনিবার আরব আমিরশাহীর আবু ধাবি ও দুবাই, সৌদি আরবের রিয়াধ, কাতারের দোহায় হামলা চালিয়েছে ইরান। এর মধ্যেই খবর পাওয়া গিয়েছে, পাম জুমেইরাহের একটি অভিজাত হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তবে ইরান হামলার কারণেই ওই হোটেলে আগুন লেগেছে কি না, তা অবশ্য সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়নি। কেবল সিন্ধু নন, সমস্যায় পড়েছে ভারতের বাস্কেটবল দলও। দোহায় আটকে পড়েছে তারা। বাস্কেটবল বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে খেলতে দোহায় গিয়েছিল ভারতীয় দল। ভারতীয় বাস্কেটবল ফেডারেশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা ঘোষণা করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমও সমস্যায়। মক্কায় হজ সেরে ফেরার পথে বিপত্তিতে পড়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, একটি ভিডিও বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে শায়েস্তা করে আমেরিকার জনগণকে সুরক্ষিত করাই আমাদের কাজ।” ইরানে হামলা চালানোর পরই মুখ খুলেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতনিয়াহু। তাঁর সাফ কথা, ইরানের জঙ্গি শাসকদের সরাতেই অপারেশেন ‘সিংহগর্জন’। পালটা দিচ্ছে ইরানও। এবার এর প্রভাব যে গোটা বিশ্বজুড়ে পড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
