অঙ্কের কোনও জটিলতা নেই। ইডেনের 'কোয়ার্টার ফাইনালে' ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালেই সোজা সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে টিম ইন্ডিয়া। তবে ক্যারিবিয়ান দলের বিরুদ্ধে লড়াই যে সহজ হবে না, তা ঠারেঠোরে বুঝতে পারছেন সূর্যকুমার যাদবরা। শিমরন হেটমায়ার, শেফানে রাদারফোর্ড, রোমারিও শেফার্ড, রভম্যান পাওয়েল, জেসন হোল্ডার– রীতিমতো ভয় ধরানো ব্যাটিং লাইন আপ তাদের। রবিবার যে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে, মেনে নিচ্ছেন ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে।
তাঁর মতে 'কাঁটো কা টক্কর' হতে চলেছে ইডেনে। শনিবার ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, "ওদের ব্যাটিং বেশ শক্তিশালী। কিন্তু আমাদেরও ব্যাটিং কম শক্তিশালী নয়। লড়াই হবে আগুনে আগুনে। তাড়াতাড়ি ওদের উইকেট তুলে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বড় জুটি গড়ে ফেললে ওরা বড় রান করে দিতে পারে।"
দুশখাতে বলেন, "ওদের ব্যাটিং বেশ শক্তিশালী। কিন্তু আমাদেরও ব্যাটিং কম শক্তিশালী নয়। লড়াই হবে আগুনে আগুনে।"
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম ওভারে ১৭ রান তুলে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু আগ্রাসী ব্যাটিংকে বোতলবন্দি করে ফেলতে দেরি হয়নি লুনগি এনগিডিদের। তৃতীয় ওভার থেকেই ক্যারিবীয় উইকেট পড়তে শুরু করে। ১০ ওভারেই তাদের ৭ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে জেসন হোল্ডার এবং রোমারিও শেফার্ডের দাপটে ১৭৬ পর্যন্ত পৌঁছয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, ক্যারিবিয়ান ব্যাটিংয়ের গভীরতা কতটা।
ফুরফুরে মেজাজের মধ্যে একটাই শোকের খবর। শুক্রবার পিতৃবিয়োগ হয়েছে রিঙ্কু সিংয়ের। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। জিম্বাবোয়ে ম্যাচের আগে রিঙ্কু বাবাকে দেখতেও যান। খবর পাওয়া মাত্র চেন্নাই থেকে রওনা দেন তিনি। তবে দেশাত্মবোধের অবিশ্বাস্য পরিচয় দিয়ে আজ, শনিবার দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন রিঙ্কু। "সকলেই রিঙ্কুর পাশে রয়েছে। নিয়মিত ওর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সত্যিই ওর জীবনে অনেক বড় ঝড় গেল। শনিবার রাতে দলের সঙ্গে যোগ দেবে।" বলে দিচ্ছেন দুশখাতে।
রবিবারের ম্যাচের আগে টিম ইন্ডিয়াকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে টিমের ব্যাটারদের ফর্মে ফেরা। সঞ্জু স্যামসন ওপেনে নেমে ভালো একটা ক্যামিও খেলেন। তারপর প্রত্যেকে রান করেছেন। লোয়ার অর্ডারে গিয়ে তিলকও বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন। টিম ইন্ডিয়ার সহকারী কোচের কথায়, "সঞ্জু বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করে। দারুণ ছন্দে আছে।" তবে তিলক বর্মা যে তিন নম্বরে ব্যাটিং করবেন না, সে কথাও জানিয়েছেন দুশখাতে। তবে পিচ দেখে তিনি খুশি, জানিয়েছেন গম্ভীরের সহকারী। উল্লেখ্য, শনিবার ইডেনে অনুশীলনে সঞ্জু স্যামসন এবং হার্দিক পাণ্ডিয়া ছাড়া সকলেই অনুশীলনে উপস্থিত ছিলেন।
তাছাড়াও ইডেনে ঢুকেই ইডেনের পিচ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়েকে বিশেষ উপহার দিলেন হেডকোচ গৌতম গম্ভীর। ভারতের বিশ্বকাপ জার্সি উপহার দিয়েছেন গৌতি। উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ইডেন টেস্ট হারের পর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ‘গুরু’ গম্ভীর। ম্যাচ পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, “আমরা যেমন পিচ চেয়েছিলাম, তেমনই পেয়েছি। এখানকার কিউরেটর খুবই সাহায্য করেছেন। আমার মনে হয় না যে, উইকেট কঠিন ছিল। এই পিচেই যারা ধৈর্য দেখিয়েছে, তারা রান পেয়েছে। এই ধরনের পিচে ডিফেন্স পোক্ত রাখা জরুরি।” কলকাতায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পিচ ভালো হবে, এমনটাই আশা ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
