একে তো রান রেট বাড়ানোর ম্যাচ। তার উপর আবার ব্যাটারদের অর্ধেক ফর্মে নেই। প্রাক বিশ্বকাপ পর্বে যাঁকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চা চলছিল, সেই অভিষেক শর্মা এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত ব্যর্থ। চার ম্যাচে রান- ০,০,০, ১৫। গম্ভীরদের মাথাব্যথা আরও বেড়েছে স্পিনারদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটারদের দুর্দশায়। প্রত্যেক টিম বুঝে গিয়েছে, শুরুতে অফস্পিনার নিয়ে এসো। আর উইকেট নিয়ে যাও।
চিপকে তাই আর কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না টিম। পাটা উইকেটের ফর্মুলায় যাচ্ছেন গম্ভীররা। নেটেও দেখা গেল ঈশান কিষান, তিলক বর্মা, সূর্যকুমারদের দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করতে। বিভিন্ন নেট ঘুরে-ঘুরে ব্যাটিং করলেন। প্রায় পুরো সময়টাই নেটে বোলিং করানো হল স্পিনারদের দিয়ে। সূর্য কয়েক দফায় ব্যাটিং করলেন। সবার শেষে আবারও ঢুকলেন নেটে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলল ব্যাটিং-পর্ব। নেটের ঠিক পিছনে দাঁড়িয়েছিলেন গম্ভীর। টুকটাক পরামর্শ দিচ্ছিলেন। নেটের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত টানা দাঁড়িয়ে রইলেন ভারতীয় কোচ। সবার ব্যাটিং দেখলেন।
সূত্র মারফত শোনা গেল, দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের পর পুরো টিমকে তুলোধোনা করেন ভারতীয় কোচ। ড্রেসিংরুম থেকে শুরু করে হোটেল পর্যন্ত, সেটা চলে। এটাও শোনা গেল, জশপ্রীত বুমরাহ আর বরুণ চক্রবর্তী ছাড়া প্রত্যেকে কোচের রোষের মুখে পড়েন। এমনকী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও ছাড় পাননি।
তবে গম্ভীরের স্ট্র্যাটেজিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আহমেদাবাদে হঠাৎ করে দলের সহ অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেলের জায়গায় ওয়াশিংটন সুন্দরকে খেলিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। টিমের কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছিলেন, পাওয়ার প্লে'তে কুইন্টন ডি'কক-রিকেলটনদের আটকানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল ওয়াশিংটনকে দিয়ে। কিন্তু পাল্টা যুক্তি দিচ্ছে ক্রিকেটমহল। বলা হচ্ছে, টিমের সেরা দুই পেসার বুমরাহ আর অর্শদীপ সিংয়ের উপর কেন ভরসা রাখতে পারছে না টিম? চিপকে অক্ষরের ফেরা মোটামুটি পাকা। আসলে গম্ভীর নিজেও ভালো করে বুঝে গিয়েছেন, আর সামান্য এদিক থেকে ওদিক হলে, বিশ্বকাপ স্বপ্নই ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।
