ফিরল জিদানের স্মৃতি। প্রায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এবার ক্রিকেট মাঠে। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। 'হেডবাট'-এর ঘটনা ঘটল এবার রনজি ফাইনালে (Ranji Trophy Final)। হুবলিতে তৈরি হল উত্তপ্ত পরিস্থিতি। সেখানে জম্মু-কাশ্মীর অধিনায়ক পরশ ডোগরা মেজাজ হারিয়ে কর্নাটকের এক ফিল্ডারকে 'ঢুঁসো' দেন। ঘটনার ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।
ঠিক কী ঘটেছে? জম্মু ও কাশ্মীরের ইনিংসের ১০১তম ওভারের ঘটনা। অধিনায়ক পরশের সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান। বোলিং করছিলেন কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান। তাঁর একটি বল ব্যাটের কানায় লেগে বাউন্ডারি সীমানা পেরিয়ে যায়। এরপর আচমকাই মেজাজ হারান পরশ। শর্ট লেগে দাঁড়িয়েছিলেন কেভি অনীশ। তাঁর সঙ্গে রীতিমতো তর্কে জড়ান জম্মু-কাশ্মীর অধিনায়ক। খানিক বাদেই হেলমেট পরেই অনীশকে গুঁতো মেরে বসেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত চলে আসেন কর্নাটক ক্রিকেটার মায়াঙ্ক আগরওয়াল। দুই আম্পায়ারও চলে আসেন। ওভারের শেষে অবশ্য ক্ষমা চেয়ে নেন জম্মু-কাশ্মীর অধিনায়ক। কিন্তু অনীশ যেন কিছুতেই এই ঘটনা মেনে নিতে পারেননি। সেই সময়ই যোগ দেন কেএল রাহুল। দু'জনেই উত্তেজিত হয়ে পরশকে কিছু একটা বলেন। এরপর পরিস্থিতি কিছু শান্ত হয়। নেটিজেনরা এই ঘটনার সঙ্গে মিল পেয়েছেন ২০০৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে জিনেদিন জিদানের ঘটনায়। বার্লিনের সেই ফাইনালে জিদান 'হেডবাট' করেছিলেন ইটালিয়ান ফুটবলার মার্কো মাতেরাজ্জিকে। সেটা ফরাসি কিংবদন্তি জিদানের বর্ণাঢ্য কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ ছিল। অনেকে আবার ক্রিকেটের স্পিরিট বজায় রাখার কথাও বলেছেন।
এই ঘটনার কিছু ওভার পরেও আবারও দুই দলের ক্রিকেটার তর্কে জড়িয়ে পড়েন। রান নিতে গিয়ে কানহাইয়ার সঙ্গে কর্নাটক পেসার বৈশক বিজয়কুমারের সংঘর্ষ হয়। এরপর দুই ক্রিকেটারই চড়া মেজাজে মুখোমুখি চলে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দুই আম্পায়ার এবং সতীর্থরা তাঁদের সরিয়ে দেন। উল্লেখ্য, প্রথমবার রনজি ফাইনাল খেলতে নেমে চালকের আসনে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। ঝকঝকে শতরান করেছেন শুভম সিং পুন্ডি (১২১)। রান পেয়েছেন ইয়াওয়ের হাসান খান (৮৮), আবদুল সামাদ (৬১), পরশ ডোগরা (৭০), কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান (৭০)। দ্বিতীয় দিনের শেষে জম্মু-কাশ্মীরের রান ৬ উইকেটে ৫২৭। অর্থাৎ সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে তারা।
