আচার-আচরণে কিংবা কথাবার্তায়, রোহিত গুরুনাথ শর্মা আর সূর্যকুমার যাদব প্রায় এক। দু'জনেই অসম্ভব রিল্যাক্সড প্রকৃতির। ফুরফুরে থাকতে ভালোবাসেন। অহেতুক চাপকে গলতে না দিয়ে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় লাগে, দু'জনের মুখোমুখি বাক্যালাপ। তার সংলাপ। শনিবারের ওয়াংখেড়েতে যা দেখে রোমাঞ্চ লাগছিল।
খেলা তখনও শুরু হয়নি। বিশ্বকাপ ট্রফিখানা ওয়াংখেড়ের পোডিয়ামে রাখতে এসেছেন রোহিত। যে ট্রফি দু'বছর আগে জিতেছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় সেই বিশ্বজয়ের পর ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফর্ম্যাটে আর দেখা যায়নি রোহিতকে। অবসর নিয়ে ফেলেন। বর্তমানে যিনি চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। তা, ম্যাচ শুরুর আগে সূর্য নেতৃত্বাধীন ভারতীয় টিম একধারে দাঁড়িয়ে। আর এক পাশে রোহিত। নিজের উত্তরসূরিকে দেখামাত্র রোহিত বলে দেন, "খুব অদ্ভুত লাগছে। তোরা ও দিকে দাঁড়িয়ে। এ দিকে আমি।" সুযোগ পেয়ে সূর্যও বা ছাড়বেন কেন? পাল্টা নাকি জিজ্ঞাসা করেন, "আচ্ছা, রোহিতভাই টস জিতলে কী করব? ব্যাটিং?" প্রত্যুত্তরে নাকি রে-রে করে ওঠেন রোহিত। বলে। ওঠেন, "পাগল নাকি তুই? বোলিং, বোলিং!"
ভারত শেষ পর্যন্ত টস জেতেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। প্রথমে ব্যাটিংই করতে হয়। কিন্তু কোথাও গিয়ে মনে হচ্ছে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভারতের জয়-প্রাপ্তি শুধু নয়। আরও একটা বিষয় তৃপ্তি দেবে রোহিতকে।
রোহিত শর্মা যে দেখে নিলেন, তাঁর রাজত্বের ব্যাটন নেওয়ার লোক হাজির হয়ে গিয়েছেন। তাঁরই সামনে, তাঁরই প্রিয় ওয়াংখেড়েতে। যাঁকে শনিবারের পর থেকে স্বচ্ছন্দে নয়া 'মুম্বই চা রাজা' বলে ডাকা যায়।
সূর্যকুমার যাদব!
রোহিত শর্মা যে দেখে নিলেন, তাঁর রাজত্বের ব্যাটন নেওয়ার লোক হাজির হয়ে গিয়েছেন। তাঁরই সামনে, তাঁরই প্রিয় ওয়াংখেড়েতে। যাঁকে শনিবারের পর থেকে স্বচ্ছন্দে নয়া 'মুম্বই চা রাজা' বলে ডাকা যায়।
ডাকলে ক্ষতিও বা কী? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সূর্য যখন নামেন ব্যাট করতে, প্রবল চাপের পরিস্থিতি। অভিষেক শর্মা। ঈশান কিষান। তিলক বর্মা। সবাই আউট। সূর্য নামার কিছুক্ষণ পর আউট হয়ে যান হার্দিক পাণ্ডিয়া, রিঙ্কু সিংও। ভারতকে ৭৭-৬ করে দিয়ে। টিমের ব্যাটিংয়ে তীব্র কাঁপুনি তুলে। সেই অবস্থা থেকে সূর্য-র অপরাজিত ৮৪ রানের এবং দ্রুত ইনিংস। ভারতকে ১৬১ রানের সম্মানজনক পাটাতনে পৌঁছে দেওয়া। প্রচেষ্টা রাজকীয় নয়? চাপ কতটা ছিল বুঝতে, একটা দৃশ্য বিবরণই যথেষ্ট। সূর্য আর অক্ষর প্যাটেল ব্যাট করার সময়, ড্রিঙ্কস ব্রেকে একবার স্বয়ং ঢুকে পড়েন কোচ গৌতম গম্ভীর! তাঁদের কী করতে হবে, বোঝাতে।
"আমরা ঠিক করেছিলাম, নিদেনপক্ষে একশো চল্লিশের কাছাকাছি তুলতে হবে। ৭৭ রানে ছ'উইকেট চলে যাওয়ার পর অবশ্যই চাপ ছিল। তবে নিজেদের উপর বিশ্বাসও ছিল। আসলে এ রকম পরিস্থিতিতে আগেও ব্যাট করার অভিজ্ঞতা আছে আমার। ক্রস ময়দান, আজাদ ময়দানে খেলেছি। জানতাম, শেষ পর্যন্ত থাকলে তফাত গড়ে দিতে পারব।" রোহিত নিজেও পরে আইসিসি ওয়েবসাইটে বলে যান, "দুর্দান্ত খেলল সূর্য। তবে এটা নতুন কিছু নয়।
সূর্য আগেও এ রকম ইনিংস খেলেছে। ওর সবচেয়ে বড় গুণ, রিল্যাক্সড থাকতে জানে। প্লাস, অতীতে কী হয়েছে, ভাবে না। বর্তমানে থাকতে পছন্দ করে। সূর্য জানত, বড় টুর্নামেন্ট আসছে। বিশ্বকাপ আসছে। নিজের সেরা খেলাটা বিশ্বকাপে খেলতে হবে। আর ঠিক তাই করল ও। এটাই সূর্য।"
আচ্ছা, পুরোটা কেমন যেন এক রাজার আর এক রাজাকে সেলামের মতো শোনাচ্ছে না?
