shono
Advertisement
Suryakumar Yadav

বিশ্বজয় করে নজর অলিম্পিক পদকে, বুমরাহকে 'জাতীয় সম্পদ' বললেন সূর্যকুমার

সূর্যর চিরাচরিত স্বভাব হল, হাস‌্যকৌতুকে যে কোনও সাংবাদিক সম্মেলন জমিয়ে দেওয়া। যার অন‌্যথা হল না। সাংবাদিক সম্মেলন কক্ষে ভারত অধিনায়ক ঢুকে সেই ‘স্পট’ খুঁজতে থাকেন, যেখানে সুদৃশ্য বিশ্বকাপ ট্রফিটা রাখলে বেশি ঝকঝক করবে! আলো যেখানে বেশি পড়বে! আর কী বললেন স্কাই?
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 08:50 AM Mar 09, 2026Updated: 08:54 AM Mar 09, 2026

অধিনায়ক হিসেবে জীবনের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পর সূর্যকুমার যাদবের পরবর্তী চাঁদমারি কী?
খুব সহজ– লস অ‌্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের স্বর্ণপদক! 

Advertisement

রোববার বিশ্বচ‌্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ট্রফি নিয়ে প্রেস কনফারেন্স করতে আসেন ভারত অধিনায়ক। সঙ্গে টিমের হেডকোচ গৌতম গম্ভীর। সূর্যর চিরাচরিত স্বভাব হল, হাস‌্যকৌতুকে যে কোনও সাংবাদিক সম্মেলন জমিয়ে দেওয়া। যার অন‌্যথা হল না। সাংবাদিক সম্মেলন কক্ষে ভারত অধিনায়ক ঢুকে সেই ‘স্পট’ খুঁজতে থাকেন, যেখানে সুদৃশ‌্য বিশ্বকাপ ট্রফিটা রাখলে বেশি ঝকঝক করবে! আলো যেখানে বেশি পড়বে!

“ভেতরে ভেতরে কী যে চলছে আমার, বলতে পারব না। অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আগামিকাল হয়তো বুঝতে পারব। একটা দিন লাগবে বোধহয় পুরোটা আত্মস্থ করতে,” মধ‌্যরাতে বলছিলেন সূর্যকুমার। “সব টিম বিশ্বকাপ জিতবে ভেবেই টুর্নামেন্ট খেলতে নামে। প্রথম থেকে আমাদেরও তাই টার্গেট ছিল। বিশ্বকাপ জেতা। লোকে বলছিল, কোনও টিম পরপর দু’বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতেনি। বলছিল, দেশের মাটিতে কেউ কখনও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতেনি। তাই দেশের মাটিতে বিশ্বজয়ের বাসনা এরকটা ছিল। গত একটা মাস স্বপ্নের মতো গেল বলতে পারেন। একটা টিম হিসেবে আমরা চলেছি। দারুণ ক্রিকেট খেলেছি। আমাদের টার্গেট ২০২৮ লস অ‌্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের পদক জেতা। তার পর পরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।”

কিন্তু কোন মন্ত্রে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল-ফাইনালের মতো মহামঞ্চে দু-দু’বার আড়াইশো তুলে ফেলল ভারত? টস-শিশিরের মতো যে সমস্ত বিষয় ক্রিকেটে ফ‌্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়, সে সবকে কী করে সমূলে উৎপাটিত করে ফেলল? সূর্য প্রথমে হাসতে হাসতে বললেন যে, “আরে আপনারাই তো বলছিলেন যে, তিনশো করো, তিনশো করো। তা, আমরা চেষ্টা করছিলাম তিনশো করার। তাই আড়াইশো পর্যন্ত যেতে পারলাম।” তার পর সিরিয়াস হয়ে যোগ করলেন, “সবার আগে টিম কী চাইছে, টিমের কী চিন্তাভাবনা সেটা জানা-বোঝা দরকার। আমরা সবাই মিলে বসে সেটা ঠিক করেছি প্রথমে। আর টস বলছেন? আমরা প্রথমেই ঠিক করেছিলাম যে, টস-শিশিরের মতো ফ‌্যাক্টরকে সবার আগে সমীকরণ থেকে সরিয়ে দেব। আমরা প্রত‌্যেকে যথেষ্ট ক্রিকেট খেলেছি। আইপিএল খেলেছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছি। তাই টস-শিশিরের মতো ব‌্যাপারস‌্যাপার কী ভাবে সামলাতে হয়, জানি আমরা।”

নিজের ক্রিকেট-জীবনে সূর্য কম উত্থান-পতন দেখেননি। আমেদাবাদে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল তিনি খেলেছিলেন। কিন্তু সে দিন স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে ফিরতে হয়। আর এবার সেই মাঠেই বিশ্বজয়ী হলেন। সূর্য বলছিলেন, “আসলে ক্রীড়াবিদের জীবনই এ রকম। ২০২৩ সালের পর ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতি আমরা। ফাইনালে একটা ক‌্যাচ নিয়েছিলাম আমি। যা আমার জীবনই বদলে দেয়। তার পর টিমকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ভার ওঠে আমার হাতে। আমি জানতাম, দু’বছরের মধ‌্যে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ রয়েছে। আর কোনও টিম দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলা সব সময়ই আলাদা আনন্দের। আমিও টিমকে বলি যে, দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলার উত্তেজনা অনুভব করো। লোকে তোমার থেকে প্রত‌্যাশা করবে। যা থেকে তুমি ভরপুর আনন্দও পাবে। আমরা সেই উত্তেজনাকে সঙ্গী করে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিলাম। আর ঠিক যে ভাবে বিশ্বকাপটা খেলতে চেয়েছিলাম, সে ভাবে খেলেই চ‌্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি।”

বিশ্বকাপ জেতার পর জশপ্রীত বুমরাহর প্রশংসায় পঞ্চমুখ স্কাই। "আগের দিন সঞ্জু বলেছিল, বুমরাহের মতো বোলার এক প্রজন্মে একজনই হয়। বুমরাহ জাতীয় সম্পদ। ওর কর্তব্য সম্পর্কে সব সময় সচেতন ও।" বলেন সূর্যকুমার। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement