জিম্বাবোয়ে: ১৬৯/২ (বেনেট ৬৪, মারুমনি ৩৫, স্টয়নিস ১৭/১, গ্রিন ৬/১)
অস্ট্রেলিয়া: ১৪৬/১০ (রেনশ ৬৫, ম্যাক্সওয়েল ৩১, মুজারাবানি ১৭/৪, ইভান্স ২৩/৩)
জিম্বাবোয়ে জয়ী ২৩ রানে।
কুড়ি বছর আগের একদিন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিষেক লগ্নে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল জিম্বাবোয়ে। তারপর অনেক জল গড়িয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটও আরও আধুনিক হয়েছে। কিন্তু অজিদের দেখলে আফ্রিকার দেশটির জ্বলে ওঠার গল্পটা একই রয়ে গিয়েছে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে আবারও হারিয়ে অঘটন ঘটাল জিম্বাবোয়ে। ২৩ রানে জয় পেল সিকান্দর রাজার দল।
শুক্রবার প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন ব্রায়ান বেনেট এবং তাদিওয়ানাশে মারুমনি। ২১ বলে ৩৫ করে মার্কাস স্টয়নিসের বলে সাজঘরে ফেরেন মারুমনি। জিম্বাবোয়ের রান তখন ৬১। এরপর রায়ান বার্লের (৩৫) সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে ৭০ রান যোগ করেন বেনেট। এরপর রানের গতি বেশ খানিকটা কমে যায় জিম্বাবোয়ের। প্রেমাদাসার উইকেট স্লো। সেখানে অজি বোলাররা আর উইকেট তুলতে পারেননি। জিম্বাবোয়ের রান ১৬৯-এর বেশি ওঠেনি। ৫৬ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত থাকলেন ওপেন করতে নামা বেনেট। সিকান্দর রাজা করলেন ১৩ বলে ২৫ রান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টয়নিস এবং ক্যামেরন গ্রিন ভাগ করে নিলেন ১টি করে উইকেট। হতাশ করেছেন জাম্পা, ডারউইশ, এলিসের মতো বোলাররা।
১৭০ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে মিচেল মার্শহীন অস্ট্রেলিয়া। জস ইংলিশ ফেরেন ৮ রানে। অধিনায়ক ট্রাভিড হেড এদিনও ব্যর্থ। তাঁর সংগ্রহ মাত্র ১৭। গ্রিন এবং টিম ডেভিড রানের খাতা না খুলেই সাজঘরের রাস্তা দেখেন। একটা সময় ২৯ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে প্রবল চাপে পড়ে যায় অজি বাহিনী। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং বেন ডরশুইস।
তবে সেভাবে ব্যাটে বলে হচ্ছিল না ম্যাক্সির। ৩১ রান করলেন বটে। কিন্তু খেলে ফেললেন ৩২ বল। আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০-র নিচে স্ট্রাইক রেট দেখা মেলা বিরল ব্যাপার। রায়ান রায়ান বার্লের বলে বোল্ড হয়ে ফিরলেন ৩৭ বছরের অজি তারকা। তিনি ফিরতে পঞ্চম উইকেটে ৮৭ রানের জুটি ভাঙল। তখনই যেন ললাট লিখন পড়ে ফেলেছিলেন অজি সমর্থকরা। সঙ্গীহীনতায় ভুগলেন ম্যাট রেনশ। তাঁর ৪৪ বলে ৬৫ রান গুরুত্ব পেত তখনই, যখন দল ম্যাচ জিতত। হেড, ম্যাক্সি এবং ম্যাট ছাড়া আর অজি ব্যাটারদের ব্যক্তিগত রান পাশাপাশি রাখলে মোবাইল নম্বর মনে হবে। ব্লেসিং মুজারাবানি এবং ব্র্যাড ইভান্সের দাপুটে বোলিংয়ের কাছে মাত্র ১৪৬ রানে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। মুজারাবানি পান ১৭ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ২৩ রানে ৩ উইকেট ইভান্সের। ১টি করে উইকেট ভাগ করে নিয়েছেন বার্ল এবং ওয়েলিংটন মাসাকাদজা।
