ক্রীড়াবিদদের যৌন হেনস্তা নিয়ে সংসদে সরব হলেন বাংলার সাংসদ দেব। গত দশ বছরে বিভিন্ন জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা, সাই এবং কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের অভ্যন্তরে হওয়া যৌন হেনস্তার কত অভিযোগ জমা পড়েছে, সেই সব অভিযোগের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা এমন ঘটনা ঠেকানোর জন্য কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, সেই সব ইস্যুতে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যকে প্রশ্ন করেন তিনি। সবমিলিয়ে পাঁচটি প্রশ্ন করেন ঘাটালের সাংসদ। তবে দেবের প্রশ্নগুলির কোনও স্পষ্ট জবাব দেওয়া হয়নি ক্রীড়ামন্ত্রকের তরফে।
এর আগে বাংলার খেলা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করেছেন দেব। এবার সারা দেশে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক, সাই এবং বিভিন্ন জাতীয় ক্রীড়া সংস্থায় হওয়া যৌন হেনস্তা নিয়ে সবর হলেন তিনি। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর থেকে মোট পাঁচটি বিষয় জানতে চেয়েছেন দেব। সেগুলি হল-
১) গত দশ বছর এবং বর্তমান বছরে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক, সাই, বিভিন্ন জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা, সাই-কেন্দ্র এবং অন্য ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত কর্তা, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হেনস্তার অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য বছর, রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং খেলা অনুযায়ী।
২) এই অভিযোগের তদন্তের জন্য গঠিত আইসিসি বা অন্য সব তদন্তকারী সংস্থার বিশদ বিবরণ এবং যে সব মামলায় তদন্ত শেষ হয়েছে, সেখানে দোষীর বিরুদ্ধে কী কী ব্যবস্থা (যেমন চাকরি থেকে ছাঁটাই, সাসপেন্ড বা অন্য শাস্তি) নেওয়া হয়েছে।
৩) পর্যবেক্ষণ কমিটির সিদ্ধান্ত বা সুপারিশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী বা অভিযুক্তের করা মোট আপিলের সংখ্যা এবং সেইসব আপিলের বর্তমান পরিস্থিতি।
৪) এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার কী পদক্ষেপ করেছে।
৫) সরকার কি বিভিন্ন রাজ্য এবং ক্রীড়া সংস্থাগুলোর মধ্যে এই ধরনের মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য কোনও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা তৈরি করেছে? থাকলে তার বিস্তারিত বিবরণ কী? না থাকলে কেন করা হয়নি?
তবে দেবের সব প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি মাণ্ডব্যর দপ্তর। বরং কোনওরকমে দায়সারা উত্তর দিয়ে অধিকাংশ ইস্যু এড়িয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক। বলা হয়েছে, 'বিভিন্ন জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা নিজ নিজ সংবিধান মেনে চলে। এই ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর জন্য ওদের নিজস্ব ব্যবস্থা রয়েছে। ক্রীড়া মন্ত্রক ২০১০ সালেই সব ক্রীড়া সংস্থাকে সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে এমন পরিস্থিতি সামলানোর জন্য বলেছে।' পাশাপাশি সাইয়ের অধীনে ২০১৬ থেকে কোচদের বিরুদ্ধে ২৫টি এবং প্রশাসনিক কর্মদের বিরুদ্ধে ৮টি এমন অভিযোগ উঠেছে বলে দেবের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছে ক্রীড়ামন্ত্রক।
