ভাগ্নে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জিতেছে। হইচই ফেলে দিয়েছে গোটা বিশ্বের ক্রিকেটমহলে। এবার কীর্তি গড়লেন মামাও। প্রথম চেষ্টাতেই দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষায় পাশ করলেন। বিহারের সমস্তিপুরের মামা-ভাগ্নেকে ঘিরে রীতিমতো উৎসব চলছে।
কে এই মামা-ভাগ্নে? তাঁরা বৈভব সূর্যবংশী এবং অভিষেক চৌহান। প্রথমজন ক্রিকেটদুনিয়ায় একের পর এক নজির গড়ে ফেলেছে মাত্র ১৪ বছর বয়সে। দ্বিতীয়জন তার মামা, অভিষেক চৌহান। গতবছর ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন তিনি। প্রিলিমিনারি এবং মেন পরীক্ষায় পাশ করেন গতবছরই। চলতি বছরের শুরুতে ছিল ইন্টারভিউ পর্ব। সেখানেও দারুণভাবে উত্তর দেন অভিষেক। শুক্রবার ইউপিএসসি পাশ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা হলেও ইউপিএসসিতে বিহারবাসীর সাফল্যের হার বরাবরই খুব ভালো।
সর্বভারতীয় ১০২ র্যাঙ্ক অভিষেকের এই সাফল্যের খবর প্রকাশ করেন বৈভবের বাবা সঞ্জীব সূর্যবংশী। শুক্রবার পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উৎসবে মেতে ওঠেন অভিষেকের গ্রামের বাসিন্দারা। বৈভবের পরিবারের সঙ্গেই তার মামার সাফল্য উদযাপন করেছেন গ্রামবাসীরা। উল্লেখ্য, সদ্য আইপিএস হওয়া অভিষেকের বাবা নালন্দা মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সরকারি নানা পদে কর্মরত।
বৈভবের সঙ্গে তার মামার বয়সের ফারাক মাত্র ১২ বছর। ১৯৯৯ সালের ১৮ নভেম্বর তাঁর জন্ম। ছোট থেকেই অভিষেক পড়াশোনায় খুব ভালো। সৈনিক স্কুল এবং রামকৃষ্ণ মিশন থেকে পড়াশোনা করেছেন। তারপর এমটেক পাশ করেন, সেখানেও প্রথম হয়ে পেয়েছিলেন সোনার মেডেল। ২০২২ সাল থেকে ইউপিএসসির প্রস্তুতি শুরু করেন অভিষেক। তিনবছর পড়াশোনা করেই আইপিএস অফিসার হয়ে গেলেন বৈভবের মামা।
উল্লেখ্য, অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করতে অন্যতম প্রধান ভূমিকা ছিল বৈভবের। বিশ্বকাপ ফাইনালে ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে বৈভব। সেঞ্চুরি পূর্ণ করে মাত্র ৫৫ বলে। সেই ইনিংসে ভর করেই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দল। তবে ক্রিকেটের কারণে চলতি বছর দশম শ্রেণির পরীক্ষায় বসতে পারেনি বৈভব। অন্যদিকে দারুণ পড়াশোনা করে তাক লাগিয়ে দিলেন তার মামা।
