এবার কি প্রথম একাদশে দেখা যাবে বৈভব সূর্যবংশীকে? দিন কয়েক ধরে এই প্রশ্নটা হয়তো সবচেয়ে ব্যতিব্যস্ত রেখেছিল টিম ইন্ডিয়ার ড্রেসিংরুমকে। আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড মিলিয়ে তিন ম্যাচে ১৫ বছরের বিস্ময় কিশোরকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিন ম্যাচে জয়ও পায়নি শ্রেয়স আইয়ারের নতুন ভারত। ব্রিটিশভূমে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক শর্মা রান পেলেও টপ অর্ডারের বাকি ব্যাটারদের অবস্থা তথৈবচ। যা দেখে রেগে কাঁই হয়ে গিয়েছিলেন প্রাক্তনরা। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হচ্ছে দুরন্ত ফর্মে থাকা বৈভবকে? অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ম্যাঞ্চেস্টারে সবচেয়ে কম বয়সে ভারতীয় হিসাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হল বৈভবের। এতদিন যে নজির ছিল শচীন তেণ্ডুলকরের নামে।
এবারের আইপিএলে বৈভবের ব্যাট যেন আলাদা ভাষায় কথা বলেছে। ১৬ ইনিংসে ৭৭৬ রান! সংখ্যাটা নিছক বড় নয়, প্রায় অবিশ্বাস্য। পাশাপাশি একসঙ্গে পাঁচটি ব্যক্তিগত পুরস্কার। ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’, ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’, ‘সুপার স্ট্রাইকার অফ দ্য সিজন’, ‘ইমার্জিং প্লেয়ার অফ দ্য সিজন’ এবং ‘মোস্ট সিক্সেস’। সব মিলিয়ে সে একাই যেন হয়ে উঠেছে এবারের আইপিএলের মুখ। এমনকী শ্রীলঙ্কা 'এ' দলের বিরুদ্ধেও তার ব্যাটে ঝড় উঠেছিল। এই নজিরবিহীন সাফল্যের পুরস্কার হিসাবে জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছিল সে। যদিও ভারতীয় দলের তারকাদের ভিড়ে এতদিন প্রথম একাদশে জায়গা মিলছিল না। অবশেষে নজির গড়ে অভিষেক হল বিহারের সমস্তিপুরের বাঁহাতি তারকার।
শনিবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েছে বৈভব। অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেন নামবে। ভারতের ১২২তম টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসাবে অভিষেক করে দেশের সবচেয়ে কনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসাবে গড়ে ফেলল সে। এর আগেই সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে তিনি শচীনের কনিষ্ঠতম অভিষেকের রেকর্ড ভেঙেছিল বাঁহাতি তারকা। এবার টানা তিনটি ম্যাচ ডাগআউটে কাটানোর পর অবশেষে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার অপেক্ষার অবসান হচ্ছে তার। ম্যাচের আগে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ‘নতুন পর্ব’ লিখে বৈভব নিজেই অভিষেকের ইঙ্গিত দিয়েছিল। এবার সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটল এদিন।
বৈভবের অভিষেকে ভেঙে গেল শচীনের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ১৯৮৯ সালে ১৬ বছর ২০৫ দিন বয়সে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন লিটল মাস্টার। আর বৈভবের বয়স এখন মাত্র ১৫ বছর ৯৯ দিন। ফলে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামতেই ৩৭ বছরের পুরনো সেই রেকর্ড ছাপিয়ে গেল। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেকের নজির রয়েছে পাকিস্তানের হাসান রাজার। ১৯৯৬ সালে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ১৪ বছর ২২৭ দিন বয়সে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। তার পরেই রয়েছে বৈভব।
অভিষেকের আগে বৈভবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়স। টসের পর তিনি বলেন, “বৈভব এসেছে সঞ্জুর জায়গায়। গত কয়েক মাসে আপনারা ওকে দেখেছেন। কী অসাধারণ ব্যাট করছে! এই দলে ঢোকার সব রকম যোগ্যতা রয়েছে ওর। একেবারেই চাপ নিতে শেখেনি বৈভব। ওর স্বভাবটাই অন্য রকম। ও ভালো করেই জানে এ রকম ম্যাচে ওর থেকে কী প্রত্যাশা থাকতে পারে। যেভাবে ও নেটে ব্যাট করে এবং বোলারদের বল উড়িয়ে দেয়, তাতেই বোঝা যায় ও কী ধরনের ক্রিকেটার।” অধিনায়কের এই মন্তব্যেই পরিষ্কার, তরুণ ওপেনারের উপর টিম ম্যানেজমেন্টের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এখন দেখার ব্যাট হাতে কতটা সফল হয় বৈভব।
