'পড়াশোনা করে যে, গাড়িঘোড়া চড়ে সে।' ১৪ বছরের বৈভব সূর্যবংশী গাড়ি-ঘোড়া চড়ার থেকেও বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে। তার মুকুটে এখন ছোটদের বিশ্বসেরার খেতাব। তা বলে পড়াশোনা তো বন্ধ থাকতে পারে না। ভারতকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন করানোর পর তাঁর সামনে এখন নয়া পরীক্ষা। সেটা হল বোর্ডের দশম শ্রেণির পরীক্ষা। তার জন্য জোর কদমে পড়াশোনা চলছে বিহারের কিশোরের।
ক্রিকেটের পিচ থেকে সোজা বই-খাতার মধ্যে ডুব। এ যেন এক অন্য বৈভব। সমস্তিপুরের পোদার আন্তর্জাতিক স্কুলের প্রিন্সিপাল নীল কিশোর জানিয়েছেন, কোনও আলাদা সুযোগ-সুবিধা পাবে না সে। বাকিদের ছাত্রছাত্রীদের মতো তাকেও এই পরীক্ষায় মাটিতে পড়ে থেকে 'স্কোর' করতে হবে। তবে যতই হোক, ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটের তারকা সে। আইপিএল হোক বা বিশ্বকাপ, সব জায়গায় রেকর্ডের পর রেকর্ড করেছে। তাই দশম শ্রেণির পরীক্ষার্থী বৈভবকে নিয়ে একটা চাপা উন্মাদনা আছে।
নীল কিশোর বলছেন, "আমাদের স্কুল থেকে বৈভব দশম শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষা দেবে। ও অ্যাডমিট কার্ডও পেয়ে গিয়েছে। শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবকদের মধ্যে ওকে দেখার জন্য একটা উন্মাদনা রয়ছে। তবে আমাদের কাছে, ও একজন ছাত্র আর ও পরীক্ষার্থী হিসেবে আসছে। এটা পড়াশোনার 'পিচ', ক্রিকেটের পিচ নয়। আমাদের দায়িত্ব পরীক্ষা দিতে কারও যেন কোনও অসুবিধা না হয়, সেটা দেখা। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। আমরা সেই মতো নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা তৈরি করছি।"
বিশ্বকাপ ফাইনালে ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে বৈভব। সেঞ্চুরি পূর্ণ করে মাত্র ৫৫ বলে। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো মঞ্চে বৈভব বুঝিয়ে দিয়েছে, বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করতেই তার আবির্ভাব। একটার পর একটা রেকর্ড– অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ রান। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে দ্রুততম সেঞ্চুরি। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছয়। অনূর্ধ্ব ১৯ ওয়ান ডে ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা। প্রথম প্লেয়ার হিসাবে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ এবং তার ফাইনাল- দু’য়েই সেরার পুরস্কার। এবার অন্য 'পিচে' পরীক্ষা বৈভবের।
