সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আরও একবার জাতীয় দল থেকে ব্রাত্য মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। ফর্ম, ফিটনেস, ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা, বিসিসিয়াইয়ের সব সর্ত পূরণ করার পরও তিনি সুযোগ পেলেন না। স্বভাবতই ক্ষুব্ধ তাঁর ব্যক্তিগত কোচ। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শামির কোচ প্রশ্ন তুলছেন, "জাতীয় দলে ফিরতে হলে আর কী কী করতে হবে তাঁর ছাত্রকে?"
সাদা বলের ক্রিকেটে গত এক দশকে বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার তিনি। বিশেষত ওয়ানডে ফরম্যাটে বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠাটা যেন তাঁর কাছে জলভাত। তিনটে বিশ্বকাপ মিলিয়ে ১৮ ম্যাচে ৫৫ উইকেট রয়েছে শামির। সবমিলিয়ে অন্তত ২০ উইকেট নিয়েছেন, এমন বোলারদের মধ্যে স্ট্রাইক রেটের বিচারে তাঁর ধারেকাছে নেই কেউ। শেষ বিশ্বকাপে দেশের মাটিতে ৭ ইনিংসে ২৪ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন সর্বোচ্চ শিকারী। বছর খানেক আগে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতাতেও বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। পুরো ফিট না হয়েও প্রতিযোগিতায় নেনে ৯ উইকেট। তবে তারপর থেকেই জাতীয় দলে ব্রাত্য শামি।
তাঁর ব্যক্তিগত কোচ বদরুদ্দিন সিদ্দিকী বলছেন, "এরপর আর কী কী করতে হবে শামিকে? আর কত উইকেট নিতে হবে?" যে আশঙ্কাটা আর পাঁচটা ক্রিকেটপ্রেমীর মনে, সেই আশঙ্কা করছেন শামির কোচও। তিনি বলছেন, "এটার মানে হল, ওরা শামিকে আর ওয়ানডে-তে নিতে চাইছে না। কিন্তু ওর আরও অনেক কিছু দেওয়ার ছিল" চলতি মরশুমে পুরো ফিট হয়ে বাংলার জার্সিতে একের পর এক ম্যাচ খেলছেন। রনজি ট্রফি, সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-টোয়েন্টির পর বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলছেন দাপিয়ে। ঘরোয়া ওয়ান ডে-তে পাঁচ ম্যাচে নিয়েছেন ১১ উইকেট। তারপরও শামির জায়গা কেন হল না জাতীয় দলে, প্রশ্ন ওঠাটা স্বাভাবিক।
জাতীয় নির্বাচকদের এহেন সিদ্ধান্তে বেজায় চটেছেন বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লাও। একদা সতীর্থ ও বর্তমান ছাত্রর বঞ্চনা প্রসঙ্গে তাঁর বিস্ফোরণ, "জাতীয় নির্বাচকরা বেইমানি করল সামির সঙ্গে। সাম্প্রতিক অতীতে জাতীয় স্তরের কোনও প্লেয়ার ওর মতো নিষ্ঠার সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেনি। তারপর এমন সিদ্ধান্ত লজ্জাজনক। মেনে নেওয়া যায় না।" ঘরোয়া ক্রিকেটে জোর দেওয়ার যে বুলি বারবার আওরায় টিম ম্যানেজমেন্ট, তার বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন লক্ষ্মীরতন।
