ভারত: ২৪০/৬ (ঈশান ৫৩, তিলক ৪৫, জানসেন ১৮/১)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২১০/৭ (ত্রিস্তান স্টাবস ৪৫, রিকেলটন ৪৪, অভিষেক ৩২/২)
প্রস্তুতি ম্যাচে ভারত ৩০ রানে জয়ী।
বিশ্বকাপে ঠিক কী করতে চলেছে টিম ইন্ডিয়া? উত্তর- ধ্বংসযজ্ঞ। অন্তত দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে ঈশান কিষান, তিলক বর্মাদের ব্যাটিং দেখে সেরকমই ইঙ্গিত পাওয়া গেল। আগাগোড়া আগ্রাসী ব্যাটিং, ব্যাটে-বলে হলেই বাউন্ডারির বাইরে। ব্যাটিং গভীরতাও পরীক্ষা করে নেওয়া হল। প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ২৪০ রান, সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস থামে ২১০ রানে। নবি মুম্বইয়ে আইডেন মার্করামদের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে সূর্যকুমাররা জিতলেন ৩০ রানে। পেস বোলিং নিয়ে সমস্যা থেকেই গেল, তবে বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে চলেছে স্পিন। ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম ম্যাচ। বিশ্বকাপে কোচ গৌতম গম্ভীর কোন কোন অস্ত্র প্রয়োগ করতে চলেছেন, তার ইঙ্গিত প্রস্তুতি ম্যাচেই পাওয়া গেল।
ওপেনে কারা?: সূর্যকুমারদের ব্যাটিংয়ের বৈশিষ্ট্য হল, কোনও বিপক্ষের প্রতি ভয়ডর নেই। প্রস্তুতি ম্যাচে দলের সব ব্যাটারকেই পরীক্ষা করে দেখা হল। বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে সবার আগে সামলাতে হবে ঈশান কিষান ও অভিষেক শর্মাকে। দু’মাস আগেও জাতীয় দলের ধারেকাছে ছিলেন না ঈশান। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি ও প্রস্তুতি ম্যাচে ২০ বলে ৫৩ বলের সৌজন্যে স্পষ্ট হয়ে গেল ওপেনে তিনিই নামবেন, সঞ্জু স্যামসন নয়। এদিন মারলেন ৭টি চার। এর সঙ্গে অভিষেকও ১৮ বলে ২৪ রান করে যান। বাকিদের ব্যাটিং দিতে হবে বলেই দু’জন অবসৃত হন।
তিলকের কামব্যাক: প্রায় তিন সপ্তাহ দলের বাইরে ছিলেন। অস্ত্রোপচারও হয়েছে তিলক বর্মার। কিন্তু এদিন যেভাবে ১৯ বলে ৪৫ রান করে গেলেন, তাতে অন্তত মনে হল না তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন। ঠিক সময়ে ফর্মে ফিরেছেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (১৬ বলে ৩০)। এরপর ঝড়ের গতিতে রান তুললেন অক্ষর প্যাটেল (২৩ বলে ৩৫), হার্দিক পাণ্ডিয়ারা (১০ বলে ৩০)। ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ কী হবে, তার মোটামুটি ছবিটা পাওয়া গেল।
পেস বিভ্রাট: জশপ্রীত বুমরাহ এই ম্যাচে বল করেননি। তবে বিশ্বকাপে তিনি খেলবেনই। এবার দেখার তাঁর সঙ্গী কে হন? অর্শদীপ সিং না হর্ষিত রানা? সমস্যা হল হর্ষিত দেদার রান বিলোচ্ছেন। সেক্ষেত্রে হয়তো অর্শদীপকেই প্রথম একাদশে দেখা যাবে। হার্দিক পাণ্ডিয়া বা শিবম দুবেকেও টার্গেট করেছেন প্রোটিয়া ব্যাটাররা। তবে বিশ্বকাপে দু’জনেরই স্লোয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
স্পিনের নাগপাশ: বিশ্বের একনম্বর টি-টোয়েন্টি বোলার বরুণ চক্রবর্তী। তিনি যেন হাত ঘোরালেই উইকেট। এদিনও রায়ান রিকেলটনকে (৪৪) গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফেরালেন। অক্ষর প্যাটেল সব ভূমিকাতেই সাবলীল। টিমে তাঁর মতো অলরাউন্ডার থাকা সম্পদ। দরকারের সময়ে বোলিং করে দেবেন অভিষেক শর্মা ও তিলক বর্মাও। অভিষেক তো দু'টো উইকেটও তুলল্রন। সব মিলিয়ে এদিন মোট ৯ জনকে দিয়ে বল করালেন সূর্যকুমার। কিন্তু কুলদীপ যাদবের অবস্থা বেশ শোচনীয়। রান দেওয়া একরকম, তিনি বলের লাইনই খুঁজে পাচ্ছেন। প্রথম একাদশে তাঁকে দেখার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
পিচ ও দর্শক: চার-ছয়ের বৃষ্টি হবে। সব ম্যাচেই বড় রান হবে। আগের নিউজিল্যান্ড সিরিজ ও নবি মুম্বইয়ের পিচে যেন সেটারই হাত-মকশো হয়ে গেল। সেক্ষেত্রে কিন্তু রান আটকানোর বোলার লাগবে। তবে অবশ্যই ভারতকে সঙ্গ দেবে দর্শকদের গর্জন। এই ম্যাচেও প্রায় ৪৪ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
সম্ভাব্য প্রথম একাদশ: ঈশান কিষান, অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মা, সূর্যকুমার যাদব, অক্ষর প্যাটেল, রিঙ্কু সিং, হার্দিক পাণ্ডিয়া, শিবম দুবে, বরুণ চক্রবর্তী, জশপ্রীত বুমরাহ, অর্শদীপ সিং।
