নিজের দেশের সরকারকে ঢাল করে পিঠ বাঁচাতে চাইছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড! এমনটাই অনুমান ক্রিকেটমহলের। পাক বোর্ডের এই চাল নিয়ে আলোচনা চলছে বিসিসিআইয়ের অন্দরেও। ভারতীয় বোর্ডের মতে, পাকিস্তান বোর্ড যে যুক্তি খাড়া করতে চলেছে তা অত্যন্ত দুর্বল। কারণ পাক দল ইতিমধ্যেই অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলেছে। মহিলা দলও খেলবে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে। তাহলে স্রেফ টি-২০ বিশ্বকাপে বয়কট কেন? এই প্রশ্নের জবাব দিতে পাক বোর্ড বিপাকে পড়বে বলেই মত বিসিসিআই সূত্রের।
ভারত ম্যাচ বয়কট করলে আইসিসি থেকে পাক বোর্ডের বার্ষিক প্রাপ্য ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পুরোটাই আটকে দেওয়া হতে পারে। পাক মুদ্রায় এই অঙ্কটা ৯৮৪ কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু পাক বোর্ড চাইছে আইসিসির এই শাস্তি এড়িয়ে যেতে। সেকারণেই ম্যাচ বয়কট নিয়ে পাক বোর্ডের তরফ থেকে আইসিসিকে কিছু জানানো হয়নি। ম্যাচ বয়কটের যাবতীয় বিবৃতি আসছে পাক সরকারের তরফ থেকে। এই বিষয়টিতেই জোর দেবে পাক বোর্ড, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
অনুমান করা হচ্ছে, 'ফোর্স ম্যাজুর' শর্ত তুলে ধরতে চলেছে পাক বোর্ড। এই শর্ত অনুযায়ী, আচমকা কোনও পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ফলে চুক্তি অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে পারছে না কোনও পক্ষ। সেকারণে তাদের শাস্তি মকুব করা হবে। এই যুক্তিকে হাতিয়ার করে পাক বোর্ড দাবি করতে পারে, বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে তারা চুক্তিবদ্ধ ছিল। কিন্তু দেশের সরকারের নির্দেশে সেই ম্যাচ বয়কট করতে হচ্ছে। এটা অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। পাক বোর্ডের এখানে কিছু করার নেই। তাই আইসিসির উচিত পাক বোর্ডকে কোনও সাজা না দেওয়া। মনে রাখা দরকার, পাক বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভি নিজেই পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পাক প্রধানমন্ত্রী নিজেই পিসিবির চিফ পেট্রন, পাক বোর্ডের প্রধান একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাই খেলার সঙ্গে রাজনীতি মিশিয়ে ফেলছে পাকিস্তান। জাতীয় দলকে নিয়ে দ্বিচারিতা করছে।
কিন্তু পাকিস্তানের এই যুক্তি নিয়ে পালটা প্রশ্ন তুলছে বিসিসিআই। তাদের মতে, "অন্য টুর্নামেন্টে ভারতের বিরুদ্ধে খেলছে পাকিস্তান তাহলে টি-২০ বিশ্বকাপে বয়কট কেন? তাছাড়া পাক প্রধানমন্ত্রী নিজেই পিসিবির চিফ পেট্রন, পাক বোর্ডের প্রধান একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাই খেলার সঙ্গে রাজনীতি মিশিয়ে ফেলছে পাকিস্তান। জাতীয় দলকে নিয়ে দ্বিচারিতা করছে। সেই পথে হাঁটছে বাংলাদেশও।" শেষ পর্যন্ত কি আইসিসির শাস্তির খাঁড়া থেকে মুক্তি পাবে পাক বোর্ড?
