মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং বর্তমান আর্থিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে তা অপরিহার্য ও সময়ের চাহিদাও বটে। স্বাবলম্বী মহিলারা পরিবারের আর্থিক স্থিতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সমাজের উন্নতির স্বার্থেও তাদের ঘর থেকে বেরিয়ে কর্মজগতে পদার্পণ করা জরুরি। এতে তারা শুধু আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবে না, বরং পরিবারের নানা ক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্ত। ও মত গুরুত্ব পাবে। তাদের নেতৃত্বের ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, এবং আত্মবিশ্বাস হুল্যাশে বৃদ্ধি পাবে।
যৌথ পরিবারের রীতি সিনেমা-সিরিয়ালের বাইরে কার্যত মুছে গিয়েছে। অধিকাংশ নিউক্লিয়ার পরিবার। বাবা-মা আর সন্তানকে নিয়ে চলছে সংসার। এবং অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা দু'জনই কর্মরত। পরিবারে শিশুসন্তানের দেখাশোনা করার মতো বয়স্ক সদস্যের অভাব। তাই ভরসা আয়া বা উচ্চবিত্ত পরিবারে 'ন্যানি'। আবার অনেকে ভরসা রাখেন বিভিন্ন ডে-কেয়ার সেন্টারে। যাতে কর্মক্ষেত্রে নিশ্চিন্তে কাজে মনোনিবেশ করতে পারে অভিভাবকরা। কিন্তু সেই ভরসার জায়গা যদি হয়ে ওঠে আতঙ্কের কারণ। তখন তো আর নিশ্চিন্ত থাকার উপায় থাকে না।
এমনই ভয়ানক ছবি দেখা দিল বেঙ্গালুরুর একটি বহুজাতিক সংস্থাধীন ডে-কেয়ারের বিরুদ্ধে। শাস্তি দিতে ও ভয় দেখাতে দুই থেকে তিন বছরের শিশুদের উপর অমানবিক নির্ঘাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
এক্ষেত্রে অসহায় বাবা-মা পড়ে বিপাকে। তাদের কাছে যেমন শিশুর নিরাপত্তা ও ভাল থাকা জরুরি, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান। নানা কারণে কাজ ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয় না। তা সমস্যার সমাধানও নয়।
শিশুদের ফ্রন্ট-লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের মধ্যে বসিয়ে রাখা, টয়লেটের জেট স্প্রে দিয়ে মুখে জল ছিটিয়ে দেওয়া এবং কাঁদলে বাথরুমে আটকে রাখার মতো ঘটনার কথা পুলিশকে জানিয়েছেন অভিভাবকর। এমন ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। কর্মজীবী পিতা-মাতার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অনেক সময় অবুঝ শিশুদের উপর এই ধরনের অমানবিক আচরণ করে আয় বা গৃহপরিচারিকারা। যার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। শিশুদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু তার পরেও এই প্রবণতার বিরাম নেই।
এক্ষেত্রে অসহায় বাবা-মা পড়ে বিপাকে। তাদের কাছে যেমন শিশুর নিরাপত্তা ও ভাল থাকা জরুরি, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান। নানা কারণে কাজ ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয় না। তা সমস্যার সমাধানও নয়। তাই আয়া, ডে-কেয়ার সেন্টার 'চূড়ান্ত' করার আগে তাদের সম্পর্কে ভাল করে গৌজ নেওয়া জরুরি। বাড়ি বা সেন্টারে সিসিটিভি বসানো, মোবাইলে নজরদারি করাও বিকল্প হতে পারে। আবার না-জানিয়ে আচমকা বাড়ি ফেরা, ডে-কেয়ার সেন্টারে হাজির হওয়া সন্তানের সম্ভাব্য বিপদ রোখার হাতিয়ার হতে পারে। পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে সন্তানের আচরণ ও খুঁটিনাটি পরিবর্তনেও। শরীরের গোপন অংশ সম্পর্কে সচেতন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপদ ঘটে যাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সম্ভাব্য বিপদ প্রতিরোধ করাই অভিভাবকদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
