মোটা টাকার বিনিময়ে নিটের পুনঃপরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী! চিকিৎসক যদি ‘অযোগ্য’ হয়, রোগী ভরসা করবে কাকে? প্রশ্নটি ভাবায়।
পৃথিবীতে যে-কয়েকটি মহান পেশা রয়েছে, তার মধ্যে চিকিৎসা পরিষেবা অন্যতম। মূলত মানবসেবা ও জীবনরক্ষায় সরাসরি যুক্ত থাকার কারণেই অন্য আর-পাঁচটি পেশার থেকে আলাদা চিকিৎসকের কাজ। অসুস্থ মানুষকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনা, তাদের জীবন রক্ষা করা, রোগজর্জর মানুষের শারীরিক ও মানসিক কষ্ট লাঘব করে তাদের সুস্থ করে তোলার সুযোগ অন্য অনেক পেশায় খুব কমই পাওয়া যায়।
সে-কারণেই সমাজে চিকিৎসকের স্থান ঈশ্বরের পরেই। রোগী ও তার পরিবার আস্থা রেখে তাদের বর্তমান-ভবিষ্যৎ বাজি রাখে চিকিৎসকের হাতেই। সব পেশাতেই ব্যতিক্রম থাকে। চিকিৎসকের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বা অর্থলোলুপতায় রোগীর সর্বস্বান্ত হওয়া বা ভুল চিকিৎসায় প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটে। কিন্তু সার্বিকভাবে চিকিৎসা পরিষেবা এখনও বিশ্বের যে কোনও প্রান্তেই অত্যন্ত সম্মানীয় পেশা হিসাবেই বিবেচিত হয়।
পিছনের দরজা দিয়ে মেধাহীন কেউ চিকিৎসক হওয়ার চেষ্টা করতেই পারে। টাকা বা ক্ষমতার জোরে সেটা হওয়া অসম্ভব নয়। কিন্তু ডাক্তারি পড়ে বা পাশ করলেই কি ভাল চিকিৎসক হয়ে উঠতে পারবে কেউ?
সাধারণভাবে যেমন এই পেশায় প্রচুর উপার্জনের সুযোগ রয়েছে, তেমনই এই পেশায় নিয়োজিত হতে গেলে প্রয়োজন নিঃস্বার্থ মানসিকতা এবং পর্যাপ্ত মেধা। মানব দেহের জটিল গঠন, রোগনির্ণয়, এবং ওষুধের সঠিক প্রয়োগের জন্য উচ্চস্তরের বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাশক্তি, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং আজীবন নতুন তথ্য শেখার মানসিকতা– এই পেশায় অপরিহার্য। সে-কারণে অনেকে ইচ্ছা থাকলেও চিকিৎসক হতে পারে না। প্রবেশিকা পরীক্ষাতেই আটকে যায়। গত রবিবার মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি রি-টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ সিনেমায় মুন্নাকে ডাক্তারি পরীক্ষায় পাশ করাতে পরীক্ষায় বসে এক ভুয়ো পরীক্ষার্থী। প্রতারণার এই ছায়াই যেন বা দেখা দিল নিটের পুনঃপরীক্ষায়। বিহারে গ্রেফতার করা হয় ৩০ জনকে। তাদের মধ্যে ৯ জন ভুয়ো পরীক্ষার্থী। মোটা টাকার বিনিময়ে আসল পরীক্ষার্থীদের হয়ে তারা পরীক্ষা দিতে এসেছিল– অভিযোগ। মেধার অভাবে আসল পরীক্ষার্থীরা সফল হতে পারবে না বুঝে বাঁকা পথে সাফল্য পেতে চেয়েছিল। সফল হলে তার প্রভাব হত মারাত্মক।
এমনটা যে কখনও হয়নি, তেমন নয়। পিছনের দরজা দিয়ে মেধাহীন কেউ চিকিৎসক হওয়ার চেষ্টা করতেই পারে। টাকা বা ক্ষমতার জোরে সেটা হওয়া অসম্ভব নয়। কিন্তু ডাক্তারি পড়ে বা পাশ করলেই কি ভাল চিকিৎসক হয়ে উঠতে পারবে কেউ? যদি না তাদের সেই যোগ্যতা থাকে! নামের পাশে ডিগ্রি থাকবে, যা দেখে অসংখ্য মুমূর্ষু মানুষ তাদের কাছে ছুটে আসবে। কিন্তু বিনিময়ে যথোচিত পরিষেবা কি পাবে তারা? অযোগ্য চিকিৎসকের হাতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। প্রাণ নিয়ে টানাটানিও হতে পারে। এমনিতেই ভারতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। গ্রামাঞ্চলে ভরসা হাতুড়ে চিকিৎসকরা। তার উপর যদি অযোগ্য ছেলেমেয়েরা চিকিৎসক হওয়ার সুযোগ পায়, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তা নির্ভেজাল অশনিসংকেত। পদক্ষেপ করতেই হবে।
