মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের সংসার তৃণমূল ভেঙে খান-খান! ‘আসল তৃণমূল’ নাকি ‘কালীঘাটের তৃণমূলে’র মধ্যে প্রতীক নিয়ে চলছে দড়ি টানাটানি। এরই মধ্যেই বিদেশ যেতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। চোখের চিকিৎসার জন্য এক সপ্তাহের জন্য বিদেশে যাওয়া প্রয়োজন, সেই বিষয়ে অনুমতি চেয়ে এদিন কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই আবেদন জানানো হয়েছে।
ছাব্বিশের ভোটে ঘাসফুল শিবিরের ভরাডুবির পর থেকেই দল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিধানসভায় নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়ে ‘আসল’ বিরোধী দলের তকমা ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস।
গত কয়েকবছর আগে মুর্শিদাবাদে দলীয় কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দুর্ঘটনায় চোখের নিচে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর থেকেই চোখের সমস্যায় ভুগছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। প্রথমে দেশের একাধিক হাসপাতাল এবং পরে বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করান তিনি। যদিও রাজ্যে পালাবদলের পর বঙ্গে বদলেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একাধিক মামলায় নাম জড়িয়েছে অভিষেকের। বিধানসভায় সই কাণ্ড থেকে ভোটপ্রচারে গিয়ে উসকানিমুলক মন্তব্য, বর্তমানে সিআইডি রাডারে রয়েছেন তিনি। যদিও কলকাতা হাই কোর্ট থেকে ইতিমধ্যে রক্ষাকবচ পেয়েছেন সাংসদ। তবে তাঁর বিদেশ যাত্রার উপর রয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা।
এহেন পরিস্থিতিতে এদিন ফের কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সপ্তাহের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আর্জি জানিয়েই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই আবেদন জানিয়েছেন। এখন দেখার এই মামলায় আদালত অভিষেককে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয় কিনা? জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে।
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের ভোটে ঘাসফুল শিবিরের ভরাডুবির পর থেকেই দল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিধানসভায় নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়ে ‘আসল’ বিরোধী দলের তকমা ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার নিউটাউনের পাঁচতারা হোটেলে তাঁদের নেতৃত্বে দলের বিশেষ অধিবেশনে নতুন করে ঘোষণা করা হয়েছে জাতীয় কর্মসমিতি। তাতে মমতা কিংবা অভিষেকের কোনও জায়গাই হয়নি। দলের চেয়ারপার্সন হয়েছেন অরূপ রায়।
