নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে 'জরুরি অবস্থা'-কে অন্তর্ভুক্ত করল 'এনসিইআরটি'। গণতন্ত্রের মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করতেই এমন উদ্যোগ।
'ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং' তথা এনসিইআরটি এবার নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে 'জরুরি অবস্থা'-কে অন্তর্ভুক্ত করল। এতদিন দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যবইয়ে শুধু জরুরি অবস্থা নিয়ে ছোট একটি অধ্যায় ছিল। দ্বাদশ শ্রেণিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান খুব অল্পসংখ্যক ছাত্রই পড়ে। কিন্তু এবার নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে জরুরি অবস্থা জায়গা করে নেওয়ায় অনেক বেশিসংখ্যক পড়ুয়ার কাছে বিষয়টি পৌঁছে যাবে।
সিবিএসই বোর্ডের স্কুলগুলি এনসিইআরটি-র পাঠ্যসূচি অনুসরণ করে। বিভিন্ন রাজ্যের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডও এনসিইআরটি-র পাঠ্যসূচিকে মান্যতা দেয়। গত কয়েক বছর ধরে এনসিইআরটি-র পাঠ্যসূচি নিয়ে দেশে বহুবার বিতর্ক হয়েছে। জরুরি অবস্থার ইতিহাস পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে ঘিরে কোনও বিতর্ক দানা বাঁধতে দেখা যায়নি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান মন্তব্য করেছেন, জরুরি অবস্থাকে নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে স্থান দিয়ে এনসিইআরটি খুব সঠিক কাজ করেছে। ভারতীয় গণতন্ত্রের এই কালো অধ্যায়টি সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের জানা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এইরকম ঘটনা আর না ঘটে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী যথার্থই বলেছেন।
এতদিন দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যবইয়ে শুধু জরুরি অবস্থা নিয়ে ছোট একটি অধ্যায় ছিল। দ্বাদশ শ্রেণিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান খুব অল্পসংখ্যক ছাত্রই পড়ে। কিন্তু এবার নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে জরুরি অবস্থা জায়গা করে নেওয়ায় অনেক বেশিসংখ্যক পড়ুয়ার কাছে বিষয়টি পৌঁছে যাবে।
জরুরি অবস্থা সম্পর্কে অল্পবয়সেই পড়ুয়াদের সচেতন করা গুরুত্বপূর্ণ। পড়ুয়ারা তাহলে অল্পবয়স থেকেই গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারবে। জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানে বর্ণিত আমাদের মৌলিক অধিকারগুলি খর্ব করা হয়েছিল। খর্ব করা হয়েছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে। সেসময় বিনা বিচারে বহু মানুষ জেলে বন্দি হয়েছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় দেশনেতাদের দিনের পর দিন জেলে বন্দি থাকতে হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর এইভাবে রাজনৈতিক কারণে বিনা বিচারে জেলে বন্দি হয়ে থাকা এক বেনজির ঘটনা। গণতন্ত্রে এর চেয়ে খারাপ আর কিছু হতে পারে না। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ইত্যাদি জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে মুখ খোলার কারণেই বহু নেতা সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবীকে গ্রেফতার হয়ে যেতে হয়েছিল। জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক গণআন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলনের জেরে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের পতন হয়।
জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানে বর্ণিত আমাদের মৌলিক অধিকারগুলি খর্ব করা হয়েছিল। খর্ব করা হয়েছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে। সেসময় বিনা বিচারে বহু মানুষ জেলে বন্দি হয়েছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় দেশনেতাদের দিনের পর দিন জেলে বন্দি থাকতে হয়েছিল।
এনসিইআরটি-র পাঠ্যসূচিতে জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ইতিহাসও জায়গা পেয়েছে। এই আন্দোলনের ইতিহাস সমস্ত পড়ুয়ার জানা জরুরি। গণতন্ত্রে মানুষের আন্দোলনের যে একটা বড় ভূমিকা থাকে, তা জরুরি অবস্থা বিরোধী আন্দোলন থেকেই দেশ শিক্ষা নিয়েছিল। বস্তুত, আন্দোলনই গণতন্ত্রকে সজীব রাখে। একমাত্র আন্দোলনই যে কোনও স্বৈরাচারী শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে। এইসব কথাগুলি স্কুলন্তর থেকে ছেলেমেয়েরা শিখতে পারলে দেশে গণতন্ত্রের ভিত আরও মজবুত হবে। গণতন্ত্রের ভিত যত মজবুত হবে, তত দেশের আর্থিক প্রগতিও সুনিশ্চিত হবে। উন্নত গণতন্ত্র আজকের দিনে ব্যবসা-বাণিজ্যের উপযুক্ত পরিবেশ নির্মাণেও অন্যতম প্রধান শর্ত। সুতরাং নবম শ্রেণি থেকে গণতন্ত্রের পাঠ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
