shono
Advertisement
Gig Workers

শেষ ১০ মিনিটের খেল! 'ঘোড়দৌড়ে' প্রাণের ঝুঁকি কি কমল?

১০ মিনিটের রক্ষাকবচ আর রাখল না ‘কুইক কর্মাস’ সংস্থাগুলি। ঘোড়দৌড়ের জন্য যেভাবে প্রাণের ঝুঁকি বাড়ছিল ‘গিগ’-কর্মীদের তা থামল।
Published By: Kishore GhoshPosted: 05:20 PM Jan 15, 2026Updated: 05:20 PM Jan 15, 2026

অঞ্জন চৌধুরীর ‘শত্রু’ রিলিজ করেছিল ১৯৮৪ সালে। অসৎ পুলিশ, অনৈতিক রাজনৈতিক সিস্টেম, অর্থলোভী মধ্যসত্ত্বভোগী মানুষের অবিবেচনা কী করে বিচারের দাবিকে অবদমিত করতে থাকে– সিনেমায় সেই আখ্যান এক সময় বড়সড় ধাক্কা খেল একজন ঋজু মেরুদণ্ডের পুলিশকর্তার আগমনে ও আচরণে। সেই সিনেমায় অনুপকুমার অভিনয় করেছিলেন অসৎ পুলিশের ভূমিকায়। তঁার কাজ: বাজারে গিয়ে, সবচেয়ে ভাল কলাটা-মুলোটা পকেটে পুরে, টাকা না-দিয়ে চলে যাওয়া। সৎ পুলিশের ভূমিকায় রঞ্জিত মল্লিক। তিনি যখন ধরে ফেললেন এই চালাকি, ভরা বাজারে সে এক কেলেঙ্কারি অবস্থা! অনুপকুমার মন থেকে টাকা দিতে চান না, কেননা পুলিশ রূপে সিনেমায় তিনি অসৎ। অথচ টাকা না-দিলে বড়কর্তার হাত থেকে ছাড় নেই।

Advertisement

এই টানামানির দৃশ্যটি এখন ফিরে দেখলে, নিখাদ হিউমারের পাশেই চলে আসবে রোজ বাজারে গিয়ে তরিতরকারি, মাছটাছ কেনার বাঙালিসুলভ অভ্যাসের ডাগর দোলখানি। একদা বাঙালি মধ্যবিত্ত বাড়ির কর্তা সাতসকালে ছুটত বাজারে। সাধ ও সাধ্যের দূরত্ব যতখানি সম্ভব ছোট করে এনে খরিদ করত গিন্নির বলে দেওয়া ফর্দটি। অনেকে রোজ যেতে পারত না। সপ্তাহে দু’-বার কি একবার গিয়ে সারা সপ্তাহের বাজার করত। মাসকাবারিতে কেনা হত চাল-ডাল-মশলা। তবে রান্না চড়িয়ে হঠাৎ দেখা গেল, গরম মশলা নেই, বা স্নানে ঢুকে দেখা
গেল শ্যাম্পু বাড়ন্ত, তখন কিন্তু উপায় থাকত না সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করার।

বাঙালি মধ্যবিত্ত বাড়ির কর্তা সাতসকালে ছুটত বাজারে।

১০ মিনিটের ‘কুইক কমার্স’ এই অভ্যাসে নিয়ে এল আমূল বদল। রান্না চড়িয়ে মশলাপাতি না থাকার সংকট হোক, বৈশাখের মাঝদুপুরে হঠাৎ আসা অতিথিবরণ হোক, রাতবিরেতে সাধ করে একটু জাঙ্ক ফুড খেতে চাইলে হোক– অ্যাপে পয়সা গুনে আবদারটি ছেড়ে দিলেই হল। ১০ মিনিটের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত দ্রব্যটি চলে আসবে এই প্রতিশ্রুতি যে-অ্যাপ দিয়েছে, তাদের প্রতিনিধি সদা তৈরি, প্রদেয় প্রমিস রক্ষা করতে। শীত হোক বা প্রবল বর্ষা। কুঁড়েঘর হোক বা সাতমহল রাজপ্রাসাদ। শর্তটি অনড়। ‘কুইক অ্যাপ’ বাজার করার স্বভাবেও এনে দিল মনস্তাত্ত্বিক বদল। আগে থেকে হিসাব কষে, সব দ্রব্য দিয়ে ভঁাড়ার সাজানোর প্রবণতায় ঘটল তালভঙ্গ। গেরস্ত যে জানে, অসময়ে বিপদভঞ্জনের জন্য রয়েছে ‘কুইক অ্যাপ’।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শ্রম দফতরের সিদ্ধান্তে ১০ দশ মিনিটের রক্ষাকবচ আর রইল না। যেভাবে পড়িমরি করে ‘গিগ’-কর্মীরা সামগ্রী পৌঁছে দিত, তাতে প্রাণের ঝুঁকি বাড়ছিল।

বাড়ছিল সময় বনাম শোষণের রেখচিত্রটি। আরও বেশি শক্তি নিয়ে সক্রিয় হবে কুইক কমার্সের অ্যাপসমূহ। কিন্তু ঘোড়দৌড়ের চালটি আর থাকবে না। উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। ১০ মিনিটের এই রক্ষাকবচের চেয়ে প্রাণের দাম অনেক বেশি। আর, ভারতের অসংগঠিত অর্থনীতি যেভাবে গতি পেয়েছে– তাতে অদূরভবিষ্যতে ‘গিগ’-কর্মীদের সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়বে। তাদের অন্তর্ভুক্তিমূলকতাই তাদের রক্ষাকবচ হোক। পেশার মর্যাদা তারা পাক।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement