সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: রাতের হাইওয়েতে ইভটিজারদের হাত থেকে বাঁচতে প্রাণ খোয়াতে হল তরুণীকে! রবিবার গভীর রাতে দুর্গাপুরের পানাগাড়ের কাছে গাড়ি দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হল চন্দননগরের বাসিন্দা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কর্মীর। আহত হন গাড়িতে থাকা আরও দুজন। কাঁকসার এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় কাঁকসা থানার পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত। তবে ইভটিজাররা এখনও পলাতক, তাদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি। ছবি: উদয়ন গুহরায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়, বয়স ২৭। হুগলির চুঁচুড়ার বাসিন্দা সুতন্দ্রা এক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার কর্মী ছিলেন। রবিবার রাতে চন্দননগর থেকে একটি গাড়িতে সুতন্দ্রা-সহ পাঁচজন বিহারের গয়ার দিকে রওনা দেন। সেখানে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁদের। মাঝরাতে পশ্চিম বর্ধমানের বুদবুদের ১৯ নং জাতীয় সড়কের পাশে একটি পেট্রল পাম্পে জ্বালানি তেল ভরানোর জন্য থামে গাড়িটি। তেল ভরার পর আবার গাড়িটি জাতীয় সড়ক ধরে পানাগড়ের দিকে চলতে শুরু করে। এমন সময়েই বিপত্তি ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন।
এখানেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল গভীর রাতে। ছবি: উদয়ন গুহরায়।
জানা যাচ্ছে, একটি সাদা রঙের চারচাকা গাড়ি ধাওয়া করে সুতন্দ্রাদের গাড়িকে। চালক রাজদূত শর্মার অভিযোগ, "প্রথমে আমাদের গাড়ি ধাওয়া করে ওই গাড়িটি। তারপর ম্যাডামকে (সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়) উদ্দেশ্য করে খারাপ কথাবার্তা বলতে থাকে। ওই গাড়িতে ছিল প্রায় ৫ জন যুবক। পরে আমাদের গাড়ির পাশে এসে ধাক্কা মারে। তাতে আমাদের গাড়িটি ডিভাইডারে উঠে যায়। তারপর আমরা কাঁকসা থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে আমাদের গাড়িতে আবার ধাক্কা মারে। তখন আমাদের গাড়িটি উলটে যায়। ওই গাড়িটি থামিয়ে ওই যুবকরা পালিয়ে যায়। পুলিশ এসে ম্যাডামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। গাড়িতে থাকা আহত আরও দু'জন যুবককে ভর্তি করা হয় একটি হাসপাতালে।"
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কাঁকসা থানার পুলিশ। দুটি গাড়িকে আটক করা হয়েছে। সোমবার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত চলছে মহকুমা হাসপাতালে। যারা ইভটিজিংয়ের ঘটনায় যুক্ত ছিল, তাদের সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।
দেখুন ভিডিও: