shono
Advertisement

Breaking News

Naga chili

অসুখে উপকারী, চাহিদাও ব্যাপক, ভূত জলকিয়া চাষেই হতে পারেন লাখপতি

নাগা কিং চিলি দুনিয়ার অন্যতম ঝাল মরিচ। খাবারে অল্প পরিমাণে দিলেই জিভ লাল। কেউ বলেন ভূত জলকিয়া, কারও কথায় চাইনিজ ক্যাপসিকাম। যে নামেই ডাকুন নাগা মরিচ বিপাকক্রিয়া বাড়ায়। অসুখ-বিসুখেও উপকারী।
Published By: Sayani SenPosted: 08:57 PM Apr 19, 2026Updated: 08:57 PM Apr 19, 2026

নাগা কিং চিলি দুনিয়ার অন্যতম ঝাল মরিচ। খাবারে অল্প পরিমাণে দিলেই জিভ লাল। কেউ বলেন ভূত জলকিয়া, কারও কথায় চাইনিজ ক্যাপসিকাম। যে নামেই ডাকুন নাগা মরিচ বিপাকক্রিয়া বাড়ায়। অসুখ-বিসুখেও উপকারী।  লিখেছেন মেঘালয় ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ‌্যান্ড টেকনোলজির গ্রামোন্নয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সৈকত মজুমদার। পড়ুন শেষ পর্ব।

Advertisement

নাগা মরিচের টিস্যু কালচার ধাপ
এক্সপ্লান্ট নির্বাচন
সুস্থ গাছের কচি পাতা, শাখার আগা (shoot tip), বা নোড অংশ নেওয়া হয়।
জীবাণুমুক্তকরণ (Sterilization)

  • চলমান জলে ধোয়া (১০–১৫ মিনিট)
  • 70% অ্যালকোহল (৩০ সেকেন্ড)
  • 0.1% মারকিউরিক ক্লোরাইড / 1–2% সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট (৫–৮ মিনিট)
  • স্টেরাইল ডিস্টিল্ড জলে ৩–৪ বার ধোয়া

কালচার মিডিয়ামে প্রতিস্থাপন

  • সাধারণত MS মিডিয়া (Murashige and Skoog medium) ব্যবহার করা হয়।
  • শুট ইনডাকশনের জন্য: BAP (1–3 mg/L)
  • রুটিংয়ের জন্য: IBA বা NAA(0.5–1 mg/L)

ইনকিউবেশন

  • তাপমাত্রা: ২৫±২°সে
  • আলো: ১৬ ঘন্টা আলো / ৮ ঘন্টা অন্ধকার
  • ৩–৪ সপ্তাহে শুট গঠন

রুট গঠন

আলাদা মিডিয়ামে স্থানান্তর করে শিকড় গঠন করা হয়।
হার্ডেনিং (Acclimatization)

  • প্রথমে পলিব্যাগে কোকোপিট/ভার্মিকুলাইট
  • ধীরে ধীরে বাইরের পরিবেশে অভ্যস্ত করা।

সময়কাল

  • সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় সাধারণত ৮–১২ সপ্তাহ লাগে।
  • নাগা মরিচ চাষে গ্রিন হাউস পদ্ধতি

কেন গ্রিন হাউসে চাষ করবেন?

  • সারাবছর উৎপাদন সম্ভব
  • তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা যায়
  • পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ কম
  • ফলন ৩০–৫০% পর্যন্ত বেশি হতে পারে

গ্রিন হাউসের আদর্শ পরিবেশ

  • তাপমাত্রা: ২২–৩০°C
  • আর্দ্রতা: ৬০–৭০%
  • পর্যাপ্ত আলো (প্রতিদিন ৬–৮ ঘণ্টা)
  • ভালো বায়ু চলাচল ব্যবস্থা

চারা প্রস্তুতি

  • উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন করুন
  • ট্রেতে কোকোপিট বা জীবাণুমুক্ত মাটি ব্যবহার করুন
  • ২৫–৩০ দিনে চারা রোপণের উপযোগী হবে।

রোপণ পদ্ধতি

  • বেডের প্রস্থ: ১ মিটার
  • গাছের দূরত্ব: ৪৫–৬০ সেমি
  • সারি দূরত্ব: ৬০–৭৫ সেমি
  • ড্রিপ সেচ ব্যবস্থা ব্যবহার উত্তম

সার ব্যবস্থাপনা (প্রতি শতকে আনুমানিক)

  • পচা গোবর: ৮০–১০০ কেজি
  • ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি সুষম মাত্রায় ভাগ করে প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে
  • জৈব সার ও ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করলে ফলন ভালো হয়।

রোগ ও পোকা নিয়ন্ত্রণ

  • থ্রিপস, মাইট ও এফিড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, তাতে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
  • বায়ো-পেস্টিসাইড বা নিম তেল ব্যবহার করতে পারেন চাষিরা
  • গ্রিন হাউসে স্টিকি ট্র্যাপ ব্যবহার করলে কার্যকর হবে
  • ফলন ও সংগ্রহ
  • রোপণের ৯০–১২০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ
  • প্রতি গাছে ৮০–১৫০টি পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যায়
  • প্রতি বিঘায় (গ্রিন হাউস) ৮–১২ টন পর্যন্ত ফলন সম্ভব (পরিচর্যার ওপর নির্ভরশীল)

নাগা মরিচ অত্যন্ত ঝাল, তাই অল্প পরিমাণেই অসাধারণ স্বাদ ও তীব্রতা যোগ করে। এটি দিয়ে নানা ধরনের খাবার ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি করা যায়।
১. নাগা মরিচের আচার
সরিষার তেল, লবণ ও মসলা দিয়ে ঝাল আচার। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।
২. নাগা চাটনি/ভর্তা
রসুন, লবণ ও টমেটো দিয়ে মেখে তৈরি ঝাল ভর্তা। পাহাড়ি এলাকায় ভাতের সঙ্গে খুব জনপ্রিয়।
৩. মাংসের ঝাল পদ
খাসি বা মুরগির মাংসে অল্প নাগা মরিচ দিয়ে বিশেষ ঝাল স্বাদ আনা যায়।
৪. শুকনো গুঁড়ো
রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে বোতলে সংরক্ষণ। অল্প ছিটালেই খাবার ঝাল হয়ে যায়।
৫. নাগা মরিচের সস
ভিনিগার, রসুন ও লবণ দিয়ে তৈরি হট সস, ফাস্টফুড বা নুডলসের সঙ্গে জনপ্রিয়।
৬. নাগা মরিচের তেল (Chili Oil)
গরম তেলে মরিচ ভিজিয়ে ঝাল তেল তৈরি করা যায়, যা ভাত, স্যুপ বা ভাজিতে ব্যবহার হয়।
৭. মরিচের স্প্রে
খাদ্য ছাড়াও এর নির্যাস আত্মরক্ষামূলক স্প্রে তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। নাগা মরিচ / মরিচ চাষের সাধারণ খরচ ও সম্ভাব্য আয়
১) মাঠে চাষ: মোট খরচ
খরচের প্রধান উপাদান
এক একরের মরিচ/নাগা মরিচ চাষে সাধারণত নিচের খরচ হয়:
২) ফলন ও বাজার মূল্য
ফলন

  • মরিচ চাষে সাধারণত ২০০০–৩০০০ kg/acre (2–3 টন) ফলন পাওয়া যায় (ক্ষেত্রভেদে)
  • যদি মরিচ শুকিয়ে বিক্রি করা হয়, তাহলে শুকনো হিসাবে ফলন কম থাকে (প্রায় 800–1200 kg)

বাজারমূল্য

  • সবুজ মরিচ:৩০-৬০ টাকা কেজি (ভ্যারাইটি ও সিজনের উপর নির্ভর করে)
  • শুকনো মরিচ: ৮০-১৫০ টাকা কেজি (মান ও বাজার চাহিদা অনুযায়ী)
  • বিশেষ বাণিজ্যিক জাত বা জিআই ট্যাগযুক্ত মরিচের দাম আরও বেশি হতে পারে।

৩) আয় ও লাভ
সাধারণ ফলন

  • ফলন: ২ হাজার ৫০০ কেজি/একর
  • বাজার মূল্য: ৪০টাকা কেজি
  • মোট আয়: ২৫০০× ৪০ = ১০০০০০ টাকা 
  • মোট খরচ: ৭০ হাজার টাকা
  • লাভ: ৩০ হাজার টাকা/ একর

ভালো জাত ও শক্তিশালী বাজার
অনেক সময় কিছু অঞ্চলে মরিচের দাম ১৫০ টাকা কেজি বা তারও বেশি হয়, তখন লাভ অনেক বেশি হতে পারে।

৪) কোন উপায়ে লাভ বাড়ানো যায়?

  • ভালো জাতের বীজ/হাইব্রিড চারা নির্বাচন
  • নিয়মিত সেচ ও রোগ-রোধ ব্যবস্থা
  • প্যাকেজিং বা শুকিয়ে শুকনো মরিচ বানিয়ে বিক্রি স্থানীয় ও এক্সপোর্ট
  • বাজারে সরাসরি বিক্রয় মূল্যবৃদ্ধির সময় বাজারে বিক্রি ভূত জলোকিয়া বিশ্বের অন্যতম ঝাল মরিচ হিসাবে সুপরিচিত। এটি ‘ঘোস্ট পেপার’ নামেও পরিচিত।

ঝালের মাত্রায় একসময় এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ঝাল মরিচের স্বীকৃতি পেয়েছিল এবং এই
স্বীকৃতি দেয় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। এর ঝালের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখেরও বেশি স্কোভিল হিট ইউনিট (SHU), যা সাধারণ মরিচের তুলনায় বহু গুণ বেশি। তাই একে অত্যন্ত সতর্কতার
সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement