shono
Advertisement

Breaking News

Bankura

রুক্ষ বাঁকুড়ায় 'ফুলের হাব', দুই যুবকের হাতযশে কাঁকুরে মাটিতে গাঁদা চাষে বিপুল আয়

মাত্র ১০ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে গত বছর গাঁদা চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরেই সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে ২০ হাজার টাকার বেশি মুনাফা আসায় আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়।
Published By: Sayani SenPosted: 12:48 PM May 13, 2026Updated: 12:48 PM May 13, 2026

লাল মাটির রুক্ষতা যে কেবল অভাবের কথা বলে না, তা প্রমাণ করে দিলেন বাঁকুড়া জেলার রাইপুর ব্লকের ঘুরাগাড়ি গ্রামের দুই অদম্য যুবক। জঙ্গলমহলের কাঁকুরে মাটিতে গাঁদা ফুলের চাষ করে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছেন জয়ন্ত পাঠক ও গণেশ সিং সর্দার। ভৈরব বাঁকী জলাধার সংলগ্ন এলাকায় তাঁদের এই উদ্যোগ এখন এলাকার অন্য বেকার যুবকদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণেশ সিং সর্দার জানান, এক বন্ধুর কাছ থেকে উৎসাহিত হয়ে মাত্র ১০ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে গত বছর গাঁদা চাষ শুরু করেছিলেন তিনি। প্রথম বছরেই সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে ২০ হাজার টাকার বেশি মুনাফা আসায় আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় তাঁর।

Advertisement

চলতি বছরে বন্ধু জয়ন্ত পাঠককে সঙ্গে নিয়ে চাষের পরিধি কয়েক বিঘা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন তাঁরা। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৯০ কেজি করে ফুল তোলা হচ্ছে তাঁদের বাগান থেকে। স্থানীয় বাজারে এই ফুলের ব্যাপক চাহিদা। মূলত রায়পুর, রানিবাঁধ, ফুলকুসমা, শিলদা, মটগোদা, সারেঙ্গা এবং সিমলাপালের মতো স্থানীয় বাজারগুলোতেই তাঁদের ফুল পৌঁছে যাচ্ছে। গড়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা প্রতি কেজি। কাঠা প্রতি জমিতে খরচ হয় ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা। জৈষ্ঠ্য মাসের পর থেকে ফুলের বাজার দর চড়চড়িয়ে বাড়ে। সেই সময় ফুলের দাম কেজি প্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। জলের সুবিধা থাকলে এই মাটিতে সারা বছরই গাঁদা চাষ সম্ভব। "অল্প পুঁজিতে এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যবসা",  বলেন আত্মবিশ্বাসী গণেশ সিং সর্দার।

একসময় জঙ্গলমহলের এই এলাকায় চাষবাস মানেই ছিল কেবল ধান বা বর্ষাকালীন সবজি। কিন্তু প্রথাগত চাষের বাইরে বেরিয়ে জয়ন্ত ও গণেশের এই 'ফুলের কারবার' প্রমাণ করেছে যে, সদিচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূল ভূপ্রকৃতিতেও স্বনির্ভর হওয়া সম্ভব। জলাধার সংলগ্ন জমিকে কাজে লাগিয়ে তাঁদের এই সাফল্য এখন জেলার কৃষি মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। গ্রামের বাসিন্দারা মনে করছেন, সরকারি স্তরে সেচের আরও উন্নত ব্যবস্থা এবং কারিগরি সহায়তা পেলে আগামী দিনে ঘুরাগাড়ি গ্রামটি 'ফুলের হাবে' পরিণত হতে পারে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement