রাস্তায় বেরলেই ধুলো-ধোঁয়া-দূষণ, আর বাড়িতে থাকলে তৈলাক্ত ভাব ও ঘামের কারণে দ্রুত জৌলুশ হারাচ্ছে ত্বক। ওদিকে প্রাণান্তকর গরম, ফলে ত্বকের হাল ফেরাতে পারে, এমন প্রসাধনী মাখার উপায়ও নেই। বরং দুইয়ের সংঘাতে ত্বক রুক্ষ হচ্ছে। প্রায়শই মুখ ভরে যাচ্ছে ব্রণ-ফুসকুড়িতে।
তবে আধুনিক শিট মাস্ক অথবা ফেশিয়াল কিটের জন্মের বহু আগে থেকেই ঘরে তৈরি উবটান ব্যবহারের চল ছিল গৃহস্থ বাড়িতে। খাঁটি প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি এই উবটান (Homemade Ubtans) যে কোনও নামী দামি কৃত্রিম প্রসাধনীর চাইতে কয়েকগুণ বেশি কার্যকর।
তৈরি করতে দরকার পড়বে সাধারণ ঘরোয়া সামগ্রীরই।
হলুদ-বেসনের উবটান
দুই টেবিলচামচ দুধ অথবা টক দইয়ের সঙ্গে দুই টেবিলচামচ বেসন ও দেড় টেবিলচামচ হলুদ মিশিয়ে নিন। মুখ-গলা জুড়ে ভালোভাবে মেখে নিন। শুষ্ক হয়ে গেলে ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলুন। হলুদ যে কোনও ধরনের প্রদাহ নাশ করে। ব্যাকটেরিয়া বিনাশ করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরায়। অন্যদিকে বেসন মৃত কোষ সরাতে সাহায্য করে।
চন্দন-গোলাপজলের উবটান
দেড় টেবিলচামচ চন্দন গুঁড়োর সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে থকথকে মিশ্রণ তৈরি করুন। মুখ-গলা জুড়ে তা মেখে নিন। ১৫ মিনিট থাকতে দিন ওভাবেই। তারপর হালকা গরম জল ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন ধীরে ধীরে। ত্বকের যে কোনও রকম দাগছোপ কমাতে সাহায্য করে চন্দন। ব্রণ অথবা ফুসকুড়ির সম্ভাবনাও কমায়। অন্যদিকে গোলাপজল কাজ করে প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে।
মুলতানি মাটি ও নিমের উবটান
ঘুম থেকে উঠলেই মুখ যদি তেলতেলে হয়ে যায়, তবে এই উবটান কাজে দেবে ভীষণভাবে। নিমপাতা বেটে পেস্ট তৈরি করতে হবে। অন্যদিকে গোলাপজলে মুলতানি মাটি গুলে নিতে হবে। দুটিকে একত্র করে ঘেঁটে নিতে হবে ভালোভাবে, তারপর সারা মুখে মেখে নিতে হবে। ঠান্ডা জলে ধুতে হবে শুকিয়ে গেলে। নিয়মিত করতে পারলে, ত্বকের তেলাভাব কমে যাবে একেবারে।
আমন্ড-দুধের উবটানে ত্বক হবে সতেজ, মুছবে বলিরেখা।
আমন্ড-দুধের উবটান
খানিক ব্যয়বহুল, তবে মাঝেমধ্যে ব্যবহার করাই যায়। ৫-৬ দানা আমন্ড সারা রাত ভিজিয়ে রেখে, সকালে মিহি করে বেটে নিতে হবে। এর সঙ্গে মেশাতে হবে ২-৩ চামচ কাঁচা দুধ। মুখে মাখার ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত ব্যবহার করতে পারলে এই উবটান নাকি বয়স কমিয়ে দিতে পারে কয়েক বছর! বলিরেখা আবছা হবে, সতেজ হয়ে উঠবে মুখের চামড়া।
তবে প্রথমেই অনেকখানি না তৈরি করে, অল্প একটু প্রয়োগ করে দেখা যায় ত্বকের উপর। প্রাকৃতিক হলেও নির্দিষ্ট কোনও উপাদানের ফলে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। সে সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
