কমবেশি সকলের পরিচিতির তালিকায় এমন এক-দুজন মানুষ থাকেই, যাদের প্রাণপ্রাচুর্যে সমৃদ্ধ চুলের বাহার (Silky hair) দেখলে ঈর্ষা হয়েই যায়। অথচ রোজ যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কেশচর্চা করেন এঁরা, এমনটাও মনে হয় না। তবে কোন রহস্য রয়েছে এর নেপথ্যে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঠিন নয়। সহজ কিছু পন্থা মেনে চললেই চুল হবে মসৃণ, সুন্দর। অথচ তার জন্য আলাদা করে সময় অথবা পয়সা— খরচ হবে না কিছুই।
Advertisement
লেবুর রসে রূপ খোলে চুলের।
- শ্যাম্পু করলেই চুল পরিষ্কার থাকে, গোড়ায় ময়লা জমে না। এমনটা মনে করে থাকেন অনেকে। কিন্তু জানেন কি, প্রয়োজনের তুলনায় বেশিবার শ্যাম্পু করা হয়ে গেলে, চুল রুক্ষ হয়ে যায়। কারণ ক্ষারের ফলে চুলে থাকা প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। তাই সপ্তাহে এক-দুবার শ্যাম্পু করার পাশাপাশি চুলে তেল ম্যাসাজ করাও অত্যন্ত জরুরি।
- বাইরে যাওয়ার আগে চটজলদি যে রাবার ব্যান্ড হাতের কাছে পাওয়া গেল, তাই দিয়েই চুল বেঁধে ফেলেন অনেকে। কিন্তু রাবার ব্যান্ডের উপাদানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে চুলের স্বাভাবিক গোছ। অনেক রাবার ব্যান্ডের কারণে চুল পড়া বাড়ে। তাই সিল্কের স্ক্রাঞ্চি ব্যবহার করার পরামর্শ দেন স্টাইলিস্টরা। আঁচড়ানোর সময় ব্যবহার করতে বলেন নিমকাঠের চিরুনি।
- ধুলো, ধোঁয়া, দূষণ প্রতিদিনই ক্ষতি করে চুলের। অথচ তা সরাসরি দেখতে পাওয়া যায় না বলে জানতেও পারি না আমরা। বাইরে থেকে ফিরে ধুলোভর্তি চুল কেবল ধুয়ে ফেললেই চলে না। এতে বরং ধুলো আরওই আটকে যায় মাথার ত্বকে। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়েই চুলে সঠিক সিরাম বুলিয়ে নিন। পাতলা স্কার্ফ বা ওড়নায় মাথা জড়িয়ে নিতে পারলে, আরও ভালো হয়।
- চুল কিছুতেই সুন্দর হচ্ছে না তাই একের পর এক দামি কসমেটিক প্রোডাক্ট কিনতে থাকেন কেউ কেউ। জানেন কি, বারেবারে প্রোডাক্ট বদলালে তা থেকেও চুলের ক্ষতি হতে পারে। কোন প্রোডাক্ট চুলের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো, তা চেনার চেষ্টা করুন। লেবুর রস, ডিমের কুসুম কিংবা পিঁয়াজের রসের মতো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করুন চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে।
- চুলের গোড়া নিয়মিত ছেঁটে দিন। খেয়াল রাখুন চুল স্বাভাবিক রঙ হারাচ্ছে কি-না, অথবা আপনা থেকেই ভেঙে পড়ছে কি-না।
শ্যাম্পুর মতোই জরুরি চুলের গোড়ায় তেল মালিশ।
বাইরে থেকে নানা ধরনের কৃত্রিম কেমিক্যালযুক্ত কসমেটিক উপাদান ব্যবহারের চেয়েও মনোযোগ দিন চুলের সামগ্রিক যত্নের দিকে। আভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য ভালো থাকলে তবেই সুন্দর দেখাবে চুল।
