নতুন যে রংই ফ্যাশনে ‘ইন’ হোক না কেন, সাদাকালোর মেলবন্ধন কখনও ‘আউট’ হয় না। বরং সঠিক সাজের মাধুর্যে তা বারেবারে নতুন হয়ে ওঠে যেকোনও ফ্যাশনপ্রেমীর চোখে। বলিউডের ‘লিডিং লেডি’দের মধ্যে অন্যতম আলিয়া ভাট (Alia Bhatt)। সারা বছরই কোনও না কোনও কারণে থাকেন চর্চায়। এই সিনেমার পর্দা মাতাচ্ছেন, এই আবার স্নেহময়ী মায়ের ভূমিকায়, পরম মমতায় কোলে তুলে নিচ্ছেন সন্তানকে। সম্প্রতি আরও একবার হয়ে উঠেছেন লাইমলাইটের কেন্দ্রবিন্দু। আর এইবারে তার কারণ, রনবীরপত্নীর বুদ্ধিদীপ্ত ফ্যাশন সেন্স। জটিল সমীকরণ নয়, স্টাইলিংয়ের অ, আ-টুকু বুঝে নিলেই, আপনিও সেজে উঠতে পারেন আলিয়ার মতো।
ভিতরের সাদা ওয়েস্ট কোট আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল উপরের স্যুটের চাকচিক্য
দিনকতক আগেই এক অ্যাওয়ার্ড শো হোস্ট করেন আলিয়া। আর সঞ্চালকের ভূমিকায় মঞ্চ মাতানোর সুযোগ পেয়েই বেছে নেন এক্কেবারে চোখধাঁধানো দুই ফ্যাশন লুক। সাজগোছের একবিন্দুও বোঝেন যে মানুষ, আলিয়ার এই নবরূপে মুগ্ধ হতে বাধ্য! অ্যাওয়ার্ড সন্ধের প্রথম পর্যায়ে তাঁকে দেখা যায় কালো টাক্সিডোতে। ফ্যাশন ডিজাইনার গৌরব গুপ্তার কালেকশনের এই আঁটসাঁট টাক্সিডো গায়ে দিতেই যেন মুহূর্তে বদলে গিয়েছিলেন আলিয়া। পাশের বাড়ির মেয়ের অবতার ছেড়ে, তিনি তখন ‘বস বেব’! ভিতরের সাদা ওয়েস্ট কোট আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল উপরের স্যুটের চাকচিক্য। সঙ্গে ফ্লেয়ার-কাট প্যান্ট, পাঁচ-তিন ফ্রেমের ছোটখাটো মানুষটিকে খানিক লম্বা দেখানোর জন্য যথেষ্ট।
এই তথাকথিত 'পুরুষের পোশাক' যেন নতুন জন্ম পেয়েছে আলিয়ার সান্নিধ্যে। কোনওরকম ত্বক প্রদর্শনীর অবকাশ নেই, তবুও কি অসামান্য মোহময়ী হয়ে উঠেছিলেন আলিয়া। যেন ফ্রেমবন্দি সাদাকালো পোরট্রেট। সূত্র জানাচ্ছে, গৌরব গুপ্তা নির্মিত এমন টাক্সিডোর দাম ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় দুই লক্ষের কাছাকাছি হতে পারে। তবে ইচ্ছে থাকলে, অফিসের কোনও পার্টি বা ইভেন্টে এমন সেজে ওঠাই যায়। তার জন্য ডিজাইনার পোশাকের প্রয়োজনও পড়বে না। সাধ্যে কুলোয় এমন টাক্সিডোতেই মনমতো অল্টারেশন করিয়ে নেওয়া যায় দর্জির দোকান থেকে। সঙ্গে নিউড মেক-আপ, আর মিনিমাল অ্যাক্সেসারিজ— ব্যস, আর কী চাই?
শাড়ির নামে ‘মোগরা’, কারণ শিল্পী অতি দক্ষতায় কৃত্রিম বেলিফুলের মালা তৈরি করেছেন শাড়ির কাঁধ জুড়ে
আর এই যখন দর্শক ভাবছেন, নির্দিষ্ট ফ্যাশন সন্ধ্যাটিতে আলিয়ার ফ্যাশন সেন্সের নাগাল পেয়ে গিয়েছেন, অমনি পর্দার গাঙ্গুবাই সেজে এলেন নতুন অবতারে। পশ্চিমি ধাঁচের ককটেল ড্রেস কিংবা গাউনের বদলে বেছে নিলেন ভারতের আদি-অকৃত্রিম ঐতিহ্যবাহী শাড়ি। সাদা স্যাটিনের এই ‘মোগরা’ শাড়িও গৌরব গুপ্তারই সৃষ্টি। শাড়ির নামে ‘মোগরা’, কারণ শিল্পী অতি দক্ষতায় কৃত্রিম বেলিফুলের মালা তৈরি করেছেন শাড়ির কাঁধ জুড়ে। যা ব্রালেটের কাঁধ ছাপিয়ে পিঠ বেয়ে থরে থরে নেমে এসেছে নিচে। সাজের ক্ষেত্রেও আলিয়া প্রাধান্য দিয়েছেন ‘লেস ইজ মোর’ নীতিকেই। তাই কেবলমাত্র একটি হিরের চোকার স্থান পেয়েছে তার সুললিত গ্রীবায়। সঙ্গে ডিউয়ি মেক-আপ লুক, চুল রেখেছেন মাঝে সিঁথি করে। স্নিগ্ধ এই রূপে রাহা-জননী যেন হয়ে উঠেছেন নারীত্বের মূর্ত প্রতীক।
এই পোশাকও নিঃসন্দেহে সাধ্যের মধ্যে রিক্রিয়েট করা সম্ভব। সূত্র জানাচ্ছে, এই শাড়ির আনুমানিক মূল্য দেড় লক্ষ থেকে সাড়ে চার লক্ষ ভারতীয় মুদ্রা। তবে ওই যে, ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। ফ্যাশন যদি হয় আপনার একমাত্র লক্ষ্য, তবে কোনও বুটিকের সাহায্য নিয়ে স্বল্পমূল্যের ফেব্রিক ব্যবহার করেও ‘মোগরা’ এফেক্ট তৈরি করতে পারেন। হিরের চোকারের বদলে বেছে নিতে পারেন অ্যামেরিকান ডায়মন্ড।
কি সহজ, সাবলীল, অথচ ‘স্টানিং’ তিনি। মনোক্রম যেন তার ছোঁয়ায় হয়ে উঠেছে রঙিন। ‘পুরুষালি’ টাক্সিডো থেকে লাস্যময়ী শাড়ি— এক সন্ধ্যায় দ্বৈত রূপেই বাজিমাত করেছেন আলিয়া। আর সঠিক প্ল্যানিং-এ, সেই লুক ধরা দেবে আপনার কাছেও।
