বাঙালির রূপচর্চার ইতিহাস বেশ পুরনো। দিদিমা-ঠাকুমাদের আমল থেকেই রান্নাঘরের নানা উপকরণ ত্বকের জেল্লা বাড়াতে ব্যবহার হয়ে আসছে। আজকাল আবার ইন্টারনেটের দৌলতে রূপটানের হাজারো পরামর্শের ছড়াছড়ি। চটজলদি চকচকে ত্বক পেতে অনেকেই আবার সেসব টিপস অন্ধের মতো লুফে নেন। কিন্তু মুশকিল হল, সব চকচকে জিনিস যেমন সোনা নয়, তেমনই ইন্টারনেটের সব টোটকা ত্বকের জন্য ভালো নয়। না জেনে বুঝে এসব ব্যবহার করলে উপকারের চেয়ে অপকারই হয় বেশি। নিজের ভালো চাইলে এখনই কিছু চেনা ঘরোয়া উপাদানের ব্যবহার বন্ধ করা দরকার।
ফাইল ছবি
১) অনেকেরই ধারণা, চিনি দিয়ে স্ক্রাব করলে মুখের ময়লা চমৎকার সাফ হয়। আসলে কিন্তু বিষয়টা একেবারেই উলটো। চিনির দানা মুখের নরম ত্বকে ঘষলে চামড়া ছড়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। এর থেকে ত্বকে নানা ধরনের সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
২) একই ভাবে মারাত্মক ক্ষতিকর হল গরম জল। শীত-গ্রীষ্ম বারো মাস মুখে গরম জল দেওয়ার অভ্যাস ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা এক ঝটকায় কমিয়ে দেয়। ফলে ত্বক রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে।
ফাইল ছবি
৩) আজকাল ব্ল্যাকহেড তোলার জন্য মুখে আঠা লাগানোর এক অদ্ভুত চল দেখা যাচ্ছে। এটি ত্বকের জন্য চরম বিপদ ডেকে আনে। আঠা ব্যবহারের ফলে ত্বকের লোমকূপের ছিদ্রগুলি পাকাপাকি ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
৪) অনেকে আবার ব্রণ দূর করতে টুথপেস্ট লাগিয়ে বসে থাকেন। এতে সাময়িক ভাবে ব্রণ কমলেও, পরবর্তীতে ত্বকে বড়সড় ইনফেকশন হতে পারে।
৫) ত্বক ফর্সা করার চক্করে লেবুর রস সরাসরি মুখে মাখেন অনেকেই। এই অভ্যাসও ছাড়তে হবে। লেবুর রস ত্বকের সেই বিশেষ উপাদানগুলিকে নষ্ট করে দেয়, যা আমাদের রোদ থেকে বাঁচায়।
ফাইল ছবি
৬) আবার ঘরোয়া পরিষ্কারক হিসেবে বেকিং সোডার জুড়ি মেলা ভার হলেও, তা মুখে লাগানো বোকামি। বেকিং সোডা আদতে অত্যন্ত ক্ষারীয়। এটি মুখে দিলে ত্বকের স্বাভাবিক Ph মাত্রা পুরোপুরি ঘেঁটে যায়। ফলে উপরি পাওনা হিসেবে জুটে যায় নানাবিধ চর্মরোগ।
তাই চটজলদি রূপকথার মতো ত্বক পাওয়ার মোহে ভুল উপাদান বেছে নেবেন না। অন্ধ অনুকরণ বন্ধ না করলে অকালেই বুড়িয়ে যাবে আপনার সাধের ত্বক।
