দোলের দিন রং খেলতে গিয়ে কিছুই আর নজরে থাকছে না? পায়ের নখ থেকে মাথার চুল। বন্ধুদের জোড়াজুড়িতে রঙ মেখে ভূত হওয়া ছাড়া উপায় নেই। নীল, সবুজ বা গাঢ় পার্পল— রঙের ছটায় মেতে ওঠে চারিদিক। কিন্তু আগেভাগে সতর্ক নাহলে স্কিনের পাশাপাশি দফারফা হতে পারে আপনার চুলও। রঙে থাকা পারদ ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক চুলের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে খুশকি, অ্যালার্জি, এমনকী চুল পড়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে হঠাৎ করে। তাই দোলের আগে ও পরে সতর্ক হবেন কীভাবে? রইল টিপস (Hair Care Tips)।
ছবি: সংগৃহীত
রং খেলার আগে এভাবে চুলের সুরক্ষা নিন
১. চুল বাঁধবেন: খোলা চুলে রং বেশি ঢোকে। তাই স্টাইলিশ খোঁপা বা বিনুনি করে চুল বেঁধে রাখুন। স্কার্ফ দিয়ে চুল ঢেকে রাখলে সবচেয়ে ভালো।
২. তেল বা সিরাম: রঙে সরাসরি চুলের সংস্পর্শ এড়াতে নারকেল তেল বা কোনও ভালো হেয়ার সিরাম ব্যবহার করুন। এটি চুলে একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করে।
৩. লিভ-ইন কন্ডিশনার: যাদের চুলে আগে থেকেই রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট করা আছে, তারা লিভ-ইন কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন। এতে রং চুলের গভীরে পৌঁছাতে পারে না।
রং খেলার পর এভাবে চুলের সুরক্ষা নিন
রঙ খেলার পর চুল পরিষ্কার করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। তাড়াহুড়ো করে বা ভুল উপায়ে শ্যাম্পু করলে চুলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দ্বিগুণ। তাই এভাবে চুলের যত্ন নিন।
১. শ্যাম্পু করার আগে শুকনো চুল হাত দিয়ে ঝেড়ে নিন। এরপর মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে ভালো করে আঁচড়ান। এতে অনেকটা শুকনো রং ঝরে যাবে।
২. রং তুলতে কখনওই গরম জল ব্যবহার করবেন না। এতে চুল আরও রুক্ষ হয়ে যায়। ব্যবহার করুন ঈষদুষ্ণ জল।
৩. রং সহজে না উঠলে বারবার শ্যাম্পু করবেন না। এতে চুলের স্বাভাবিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। বড় জোর দু’বার মাইল্ড শ্যাম্পু করুন।
৪. শ্যাম্পুর পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এটি চুলকে আর্দ্র ও নরম রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষ পরামর্শ
রঙের দাপটে চুল রুক্ষ হয়ে গেলে ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করতে পারেন। টক দই, অ্যালোভেরা জেল ও নারকেল তেলের একটি মিশ্রণ তৈরি করে চুলে মাখুন। এতে চুলের হারিয়ে যাওয়া পুষ্টি ফিরে আসবে। তবে সংক্রমণ বা অ্যালার্জি গুরুতর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দ্বিধা করবেন না। আনন্দ উপভোগ করুন, তবে নিজেকে বাঁচিয়ে।
