মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে প্রথম বল গড়াতেই চড়েছে উত্তেজনার পারদ। ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026)। সবুজ গালিচায় কার পা জাদু দেখাবে, সেই তরজা তো রয়েইছে। উপরন্তু ফুটবল বিশ্বকাপের সেই উন্মাদনা সরাসরি থাবা বসিয়েছে ফ্যাশনের দুনিয়ায়। গ্যালারির জার্সি এবার রূপ বদলেছে বাঙালির বারো হাতের শাড়িতে। মাঠের যুদ্ধ এখন ঢুকে পড়েছে বাঙালির অন্দরমহলে। গোল-মিস আর অফসাইডের চড়া উত্তেজনার পারদ ছুঁয়ে গিয়েছে বাংলাদেশের তাঁত ও বুটিক-কেও।
আর্জেন্টিনা শাড়ি (জাপানি সিল্ক) দাম মাত্র ৫৫০ টাকা। সোর্স: ইন্সটা
হালফিলের ধারা বলছে, বিশ্বযুদ্ধের এই মরশুমে পুরুষদের পাশাপাশি সমান তালে মেতে উঠেছেন নারী সমর্থকেরাও। প্রিয় দলের প্রতি টান বোঝাতে আর কেবল চারকোনা কাপড়ের জার্সিই যথেষ্ট নয়। বাঙালি নারীর পছন্দের পোশাকে এবার মিলেমিশে গিয়েছে নীল-সাদা কিংবা সবুজ-হলুদের চেনা রং। তবে চিরকালীন দ্বৈরথ এখানেও স্পষ্ট। চাহিদার নিরিখে এক পক্ষ যদি অনেকটাই এগিয়ে থাকে, তবে অন্য পক্ষও কামড় ছাড়তে নারাজ। এই রেষারেষিই বাংলাদেশের ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন হাওয়া তুলেছে। দিন দিন বেড়ে গিয়েছে ফুটবল থিমের জনপ্রিয়তা।
শুধু ঢাকা নয়, এই হুজুগ এখন ছড়িয়ে পড়েছে গোতা বাংলাদেশেই। লাফিয়ে বাড়ছে এই বিশেষ পোশাকের বায়না। অনেকেই আবার প্রিয়জনকে চমকে দিতে উপহার হিসেবে বেছে নিচ্ছেন পছন্দের দলের থিমযুক্ত শাড়ি। জানা যাচ্ছে শাড়ির নকশায় আর্জেন্টিনার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ব্রাজিলের স্থান। ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে। নকশায় সাবেকিয়ানার সঙ্গে আধুনিকতার এই মেলবন্ধন নজর কেড়েছে সকলের। এমনকী দামেও বেশ সস্তা। আর্জেন্টিনা শাড়ি (জাপানি সিল্ক) দাম মাত্র ৫৫০ টাকা। ব্রাজিল চান্দেরি সিল্ক শাড়ির মূল্য ৪৫০টাকা। শুধু যে খেলাপ্রেমীরা এই সাড়িগুলি কিনছেন তা নয়। কেউ কেউ অন্য দলের সমর্থকদের খোঁচা দিতেও কেনার জন্য লম্বা লাইন দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
[caption id="attachment_1224248" align="aligncenter" width="800"]মূল্য ৪৫০টাকা। সোর্স: ইন্সটা[/caption]
মরশুমের এই চাহিদাকে মাথায় রেখে রমরমিয়ে চলছে উৎপাদন। সিল্ক থেকে শুরু করে আরামদায়ক সুতির জমিনে ফুটে উঠছে প্রিয় তারকার নাম কিংবা দলের চেনা প্রতীক। কাপড়ের মান আর পকেটের জোর বুঝে মিলছে হরেক দরদাম। কয়েকশো থেকে হাজার টাকার কোঠায় ঘোরাফেরা করছে এই ফুটবল-ফ্যাশনের বাজার। বিক্রিবাটার চেনা খতিয়ান বলছে, এই সময়টায় ব্যবসার লাভের অঙ্কটা অনেকটাই চওড়া হয়। বিক্রেতাদের একাংশের মতে, বড় টুর্নামেন্ট মানেই আমজনতার আবেগে জোয়ার আসা। আর সেই আবেগকে ভর করেই লক্ষ্মীলাভ হচ্ছে বাংলাদেশের ফ্যাশন বাজারে। খেলা যত জমবে, বাংলাদেশি এই বিশেষ শাড়ির চাহিদাও তত লাফিয়ে বাড়বে। ফুটবল আর ফ্যাশনের এই যুগলবন্দি আপাতত মাত করে দিয়েছে ওপার বাংলার চেনা বাজারকে।
