বসন্ত বাতাস বইতে শুরু করলেই ত্বকের বারোটা বাজতে শুরু করে। রোদের তেজ আর বাতাসে আর্দ্রতার অভাব— দুই মিলে ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক ও প্রাণহীন। অনেক সময় দামি ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার মেখেও কাজ হয় না। উলটে রাসায়নিকের প্রভাবে ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত দেখায়। মুখের খসখসে ভাব আরও বেড়ে যায়। এই সমস্যার সহজ সমাধান লুকিয়ে আছে আপনার রান্নাঘরেই। আয়ুর্বেদশাস্ত্র মতে, ত্বকের গভীরে পুষ্টি জোগাতে ‘ঘি’ এর জুড়ি মেলা ভার।
ফাইল ছবি
ঘি প্রাকৃতিকভাবেই ত্বককে নরম ও কোমল রাখে। এটি দুর্দান্ত অ্যান্টি-এজিং হিসেবে কাজ করে। তবে গরমের এই সময় সরাসরি ঘি না মেখে বিভিন্ন উপকরণের সঙ্গে মিশিয়ে ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করা বেশি কার্যকর। এতে ত্বকের রোমকূপ বন্ধ হওয়ার ভয় থাকে না। জেনে নিন ঘিয়ের তৈরি ৪ ম্যাজিক্যাল ফেসপ্যাকের হদিস।
ঘি, চন্দন ও হলুদের ফেসপ্যাক
১ চামচ চন্দন গুঁড়ো, এক চিমটি হলুদ এবং পরিমাণমতো ঘি মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। মুখ ও গলায় লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। জলশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড ত্বকের জেল্লা ফেরাতে এই প্যাক দারুণ কাজ করে।
ফাইল ছবি
বেসন ও ঘি-এর মিশ্রণ
১.৫ চামচ বেসনের সঙ্গে পরিমাণমতো ঘি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে নিন। এটি নিস্তেজ ত্বকে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।
ঘি, মসুর ডাল ও কাঁচা দুধের স্ক্রাব
সমপরিমাণ মসুর ডাল বাটা, কাঁচা দুধ এবং ঘি মিশিয়ে নিন। ২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মসুর ডাল মৃত কোষ দূর করে আর ঘি ত্বককে ঘর্ষণ থেকে বাঁচায়। ফলে স্ক্রাবিং হয় নিখুঁত।
ফাইল ছবি
ঘি, মধু ও দুধের অ্যান্টি-এজিং প্যাক
১ চামচ মধু, ১ চামচ ঘি এবং কয়েক ফোঁটা কাঁচা দুধ মিশিয়ে মুখে মাখুন। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। বলিরেখা বা পিগমেন্টেশন দূর করতে এটি সবথেকে কার্যকরী ঘরোয়া উপায়।
বাজারে কেনা ফেস অয়েলের চেয়ে ঘি অনেক বেশি নিরাপদ। এটি ত্বকের গভীরে সহজে শোষিত হয় এবং কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই আপনাকে দেয় দাগহীন উজ্জ্বল ত্বক।
