সাজগোজের ঝক্কি অনেক। বিশেষ করে নখের যত্নে। পার্লারে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে নখ রাঙালেন, অথচ বাড়ি ফেরার পথেই মনে হল রংটা ঠিক মানানসই নয়। তখন আপসোসের সীমা থাকে না। কিন্তু এবার সেই সমস্যার সমাধান করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। সম্প্রতি আমেরিকার ফ্লোরিডার এক বিউটি-টেক সংস্থা ‘আই-পলিশ’ (iPolish) বাজারে এনেছে বিশ্বের প্রথম ডিজিটাল এবং রং পরিবর্তনকারী নখ।
ফাইল ছবি
লাস ভেগাসের কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শো (CES) ২০২৬-এর মঞ্চে এই তাক লাগানো প্রযুক্তিটি প্রকাশ্যে এসেছে। এটি মূলত এক ধরনের ‘স্মার্ট প্রেস-অন নেইলস’। আপনার পোশাক বা মেজাজ বদলালেই বদলে যাবে নখের রং। এর জন্য কোনও রিমুভার বা নেল পালিশের প্রয়োজন নেই। আলাদা করে পালিশ শুকানোর জন্য অপেক্ষা করার বালাই নেই। সকালে অফিসে যাওয়ার সময় যদি হালকা ন্যুড শেড পছন্দ হয়, তবে রাতে পার্টির জন্য অনায়াসেই তা গাঢ় লাল করে নেওয়া সম্ভব।
কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?
পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা যায় একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে। এই অ্যাপে প্রায় ৪০০-র বেশি রঙের সম্ভার রয়েছে। আপনার পছন্দের রংটি বেছে নেওয়ার পর, একটি ছোট ‘ম্যাজিক ওয়ান্ড’ বা ডিভাইসের ভেতর নখটি রাখতে হবে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নখের রং বদলে যাবে জাদুর মতো। এই ডিভাইসটি দেখতে অনেকটা পোর্টেবল পাওয়ার ব্যাংকের মতো।
ফাইল ছবি
সংস্থার পদস্থ কর্তা ল্যান্স লিটেল জানিয়েছেন, এটি বিশ্বের প্রথম ডিজিটাল ফ্যাশন অনুষঙ্গ। এটি সম্পূর্ণ রাসায়নিক মুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব। সাধারণ প্রেস-অন নখ যতটা টেকে, এটিও ঠিক ততটাই স্থায়ী। অর্থাৎ নখ বড় না হওয়া পর্যন্ত এটি ব্যবহার করা যাবে।
কিট-এ কী কী থাকছে?
এই আই-পলিশ কিটে থাকছে বিভিন্ন মাপের অ্যাক্রিলিক নখ, ম্যাজিক ওয়ান্ড, ইউএসবি কেবল, আঠা এবং টপকোট। কিটটির দাম রাখা হয়েছে ৯৫ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৮,৭০০ টাকা। একবার কিটটি কেনা থাকলে পরবর্তীকালে নখের সেটের জন্য খরচ পড়বে মাত্র ৬ ডলারের মতো। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে পেসমেকার বা বিশেষ শারীরিক সংবেদনশীলতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রূপটানের দুনিয়ায় এআই-এর এই প্রবেশ আগামী দিনে ফ্যাশনকে যে আরও সহজ করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।
