ত্বকের একবার বারোটা বেজে গেলে আর সারানো কার্যত অসম্ভব। তাই নিত্যদিন ত্বকের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। বাড়িতে থাকা নানা সামগ্রীর মাধ্যমে ত্বকের যত্ন নেন কেউ কেউ। তাতেই নাকি বারোটা বাজছে ত্বকের। তাই আজই সাবধান হোন। বাড়িতে থাকা এই পাঁচ জিনিস আজই ফেলে দিন। নইলে সমস্যা বাড়বে বই কমবে না!
অনেকেই ভাবেন, স্নানের সময় সাবান ব্যবহারের ফলে ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া, জীবাণুর মৃত্যু হয়। অনেকে লুফা ব্যবহার করেন। তবে ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুলে লুফা ব্যবহার করবেন না। তাতে ত্বক খসখসে হয়ে যেতে পারে। পরিবর্তে নরম কাপড় ব্যবহার করুন।
বারবার আঁচড়ানোর ফলে চুল পড়ার সমস্যা কমানো সম্ভব। তবে আপনি কি প্লাস্টিকের চিরুনি ব্যবহার করেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের চিরুনি আপনার ত্বকের ক্ষতি করে সবচেয়ে বেশি। চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে। তাই আজই প্লাস্টিক চিরুনি ব্যবহার করা ছাড়ুন। পরিবর্তে কাঠের চিরুনি ব্যবহার করুন। উপকার পাবেন।
ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে নোজ স্ট্রিপ এখন ত্বকচর্চায় ইন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা একেবারে ভুল। এতে ত্বকের মুখে রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। ব্রণর সমস্যা বাড়তে পারে। এছাড়া ওই নোজ স্ট্রিপে থাকা রাসায়নিক ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করে। যা অল্প বয়সেই ত্বককে বুড়িয়ে দিতে পারে।
খুব সেজেগুজে কোথায় গেলেন। বাড়ি ফিরে মেকআপ তুলতে আলস্য লাগে বেশিরভাগ তরুণী। হাতের কাছে থাকা মেকআপ ওয়াইপসই তখন একমাত্র ভরসা। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস ত্বকের জন্য মোটেও ভালো নয়। তাতে ত্বকের ক্ষতি হচ্ছে বেশি। তাঁদের পরামর্শ, মেকআপ তোলার জন্য ফেসওয়াশ এবং ঠান্ডা জলের কোনও বিকল্প নেই। অবশ্য এভাবে মেকআপ তোলার পর টোনার এবং ময়েশ্চারাইজার মাখা আবশ্যক। নইলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
বাজারে দিন দিন অ্যান্টি হেয়ারফল শ্যাম্পু বিক্রি বাড়ছে। তবে এই ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করলে সত্যি কোনও উপকার হয় কিনা, তা নিয়ে দ্বিধায় খোদ বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এই ধরনের শ্যাম্পুতে থাকা রাসায়নিক চুলকে আরও শুষ্ক করে দেয়। তার ফলে চুলের ডগা ফাটার সমস্যা বাড়তে থাকে। তাই এসব ব্যবহার না করে চুল পড়ার সমস্যা কমাতে খাওয়াদাওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাতেই মিলবে রেহাই।
নিত্যদিনের ব্যস্ত রুটিন, খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম এবং বাড়তে থাকা দূষণের প্রভাবে আমাদের ত্বকের অবস্থা একেই যাচ্ছে তাই। এই পরিস্থিতিতে আর নিজের সমস্যা বাড়াতে না চাইলে এই পাঁচ সামগ্রী যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাদ দিন। তাতে ক্ষতির বদলে লাভই যে বেশি, তা হলফ করে বলা যায়।
