দিনের বেশির ভাগ সময়টাই অফিসে কাটে? অফিস হোক বা বাড়ি, এসি ছাড়া এক মুহূর্ত চলার কথা ভাবাই যায় না। কিন্তু এসির হাওয়ায় বেশিক্ষণ থাকলে প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে। ত্বকের আদ্রতা কমে গিয়ে শুষ্কতা বাড়ে। খসখসে হয়ে ওঠে চামড়া। শুধু কি ত্বক? এসির হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের মাথার চুল। মাথার স্ক্যাল্পে খসখসে হয়ে ওঠে চামড়া।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের বন্ধ বাতাস ভেতরের আর্দ্রতা পুরোপুরি শুষে নেয়। দীর্ঘক্ষণ এমন পরিবেশে থাকলে মাথার ত্বক তার স্বাভাবিক তৈলাক্ত ভাব হারাতে শুরু করে। স্ক্যাল্পে এক ধরণের টান ভাব তৈরি হয়, যা বেশ অস্বস্তিকর। আর্দ্রতাহীনতার কারণে চুল হয়ে পড়ে প্রাণহীন, রুক্ষ এবং উসকোখুসকো।
ফাইল ছবি
চুল যখন ভেতর থেকে শুকিয়ে যায়, তখন তার প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলীয় অংশ কমে গেলে চুল অতি মাত্রায় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। তখন সাধারণ আঁচড়ানো, চুল বাঁধা বা সামান্য স্টাইলিং করলেই মুঠো মুঠো চুল উঠতে শুরু করে। দেখা দেয় ডগা ফাটার সমস্যাও। গরমে এসির একটানা হাওয়া চুলের এই ক্ষতি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
এই সমস্যার সমাধান কীভাবে সম্ভব?
এসির এই শুষ্ক থাবা থেকে চুলকে বাঁচাতে প্রয়োজন বাড়তি পুষ্টি। আর এখানেই ম্যাজিকের মতো কাজ করে চুলে তেল মাখার পুরনো অভ্যাস। নিয়মিত চুলে তেল দিলে তা মাথার ত্বকে আর্দ্রতার এক সুরক্ষিত প্রলেপ তৈরি করে। ফলে এসির শুষ্ক হাওয়া চুলের ভেতরের জলীয় অংশ সহজে কেড়ে নিতে পারে না। তেল ম্যাসাজের ফলে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা গোড়াকে শক্ত করে এবং চুলকে রাখে নরম ও ঝরঝরে।
ফাইল ছবি
কোন তেল ব্যবহার করবেন?
সব তেলের মধ্যে নারকেল তেল স্ক্যাল্পের সুরক্ষায় সবচেয়ে কার্যকরী। এতে থাকা লরিক অ্যাসিড চুলের গভীরে গিয়ে পুষ্টি জোগায়। চুল শুষ্ক হলে প্রোটিনের যে ক্ষতি হয়, তা রোধ করতে পারে একমাত্র নারকেল তেল। এটি চুলের প্রতিটি তন্তুকে শক্তিশালী করে তোলে। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন চুলে তেল মাখলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব। এসির আরামও বজায় থাকবে, আবার চুলের স্বাস্থ্যও থাকবে অটুট।
