মে মাসের মাঝামাঝি। সূর্যের তীব্র দাবদাহে প্রাণ ওষ্ঠাগত। গরমির হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে এসময় নিয়ম করে হাতে, মুখে সানস্ক্রিন মাখেন অনেকেই। সঙ্গে রোদ চশমা আর ছাতা নিতেও ভোলেন না নিশ্চয়! কিন্তু এই গনগণে তাপে মাথার চুলের সুরক্ষার কথা একবারও ভেবেছেন? ডার্মাটোলজিস্টরা বলছেন, শুধু ত্বক নয়, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিদিন নিঃশব্দে খতম করে দিচ্ছে চুলের স্বাস্থ্য। রোদ লেগে কালো চুল হঠাৎ তামাটে হয়ে যাওয়া কিংবা ঝাড়ুর মতো রুক্ষ দেখানোর নেপথ্যে কিন্তু ওই তীব্র সূর্যালোকই দায়ি। তাই এবার খোদ চুলের জন্যও চাই ‘এসপিএফ’ বা সান প্রটেকশন ফ্যাক্টর।
ছবি: সংগৃহীত
আসলে আমাদের চুল তৈরি হয় ‘কেরাটিন’ নামের বিশেষ এক প্রোটিন দিয়ে। চড়া রোদ এই প্রোটিনের বন্ধনগুলোকে আলগা করে দেয়। ফলে চুল তার স্বাভাবিক নমনীয়তা হারায়। সামান্য টানেই তা পটপট করে ভেঙে যায়। শুধু তাই নয়, সূর্যের তাপে চুলের ভেতরের প্রাকৃতিক তেল এবং আর্দ্রতা কর্পূরের মতো উবে যায়। ফল যা হওয়ার তাই হয়। এক মাথা রেশমি চুল নিমেষেই খড়ের আঁটির মতো রুক্ষ আর শুষ্ক হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা লাগে চেহারায়। সূর্যের আলো চুলের প্রাকৃতিক মেলানিন নষ্ট করে দেয়। ফলে সাধের কালো চুল তার জেল্লা হারিয়ে বিবর্ণ আর তামাটে রূপ নেয়। বিশেষ করে যাঁরা চুলে দামি কালার বা হাইলাইট করিয়েছেন, তাঁদের বিপদ দ্বিগুণ। রোদের চোটে সেই রঙের দফারফা হতে সময় লাগে না।
তাহলে উপায়?
রূপবিশেষজ্ঞরা বলছেন, রূপটানে সামান্য বদল আনলেই মুশকিল আসান। বাজারে এখন তিন ধরনের হেয়ার সানস্ক্রিন (Hair Sunscreen) পাওয়া যায়— পাউডার, স্প্রে এবং ক্রিম। সিঁথির তেলতেলে ভাব কাটাতে ও চুলে ভলিউম আনতে পাউডার সানস্ক্রিন দারুণ। রুক্ষ চুলে ঝটপট আর্দ্রতা ফেরাতে স্প্রে সানস্ক্রিন বেশ উপকারী। আর মাথার ত্বকের জন্য রয়েছে লোশন বা ক্রিম সানস্ক্রিন।
ছবি: সংগৃহীত
রোদ থেকে চুলকে রক্ষা করতে এই কাজগুলি করুন
বাইরে বেরোনোর অন্তত মিনিট কুড়ি আগে চুলে মেখে নিন এসপিএফ যুক্ত লিভ-অন কন্ডিশনার কিংবা হালকা কোনও হেয়ার সিরাম। চুলে এই ইউভি-প্রোটেকশন স্প্রে ছড়িয়ে নিলেই কেল্লাফতে। এটি চুলের ওপর একটি অদৃশ্য সুরক্ষাকবচ তৈরি করে। পাশাপাশি চড়া রোদে ছাতা, সুতির হালকা স্কার্ফ বা টুপি ব্যবহার করতে ভুলবেন না। এই ফিজিক্যাল ব্যারিয়ার ধুলোবালি ও রোদ— দুই থেকেই চুলকে আগলে রাখবে। আর বাড়ি ফিরে সপ্তাহে অন্তত একদিন চুলে ভালো করে হাইড্রেটিং হেয়ার মাস্ক লাগান। দামি প্রসাধনী না হলেও চলবে, রান্নাঘরের দই-মধু কিংবা ডিম ও অলিভ অয়েলের ঘরোয়া প্যাক চুলের হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। তাই আর দেরি কেন, আজ থেকেই ত্বকের পাশাপাশি চুলের এসপিএফ-এর দিকেও নজর দিন।
