সারাদিন উজ্জ্বল স্ক্রিনে মুখ গুঁজে কাজ, বাড়িতে ফিরলেও ফোনেই আটকে দুই চোখ— এরপরেও যদি চোখের কোলে কালি (Dark Circle) না দেখা যায়, তাহলে আর কবে? ব্যস্ত কর্মজীবনে সবসময় যে এমনটা এড়ানো যায়, তাও নয়। কিন্তু চোখের নিচে ফোলাভাব দেখা দিলে, ডার্ক সার্কেলের বাড়বাড়ন্ত হলে, মুখ এমনিতেই ক্লান্ত দেখায়। কেবল মেক-আপে তা শুধরানো সম্ভব নয়। আর আয়নায় মুখ দেখতে গিয়ে তা বিষণ্ণ বলে মনে হলে, স্বাভাবিকভাবেই চেপে বসে হীনমন্যতা।
সবচাইতে জরুরি, পর্যাপ্ত ঘুম।
জানেন কি, রয়েছে এমন ঘরোয়া টোটকা, যা মেনে চললে মাত্র দু'সপ্তাহেই গায়েব হবে চোখের তলার কালি ও ফোলাভাব।
১. ঠান্ডা সেঁক দিন
পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে বা ফ্রিজে কিছুক্ষণ রেখে, বের করার পর ৫–১০ মিনিট চোখের ওপর চেপে রাখুন। এতে ফোলাভাব কমতে পারে।
২. পর্যাপ্ত ঘুমান
প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। তবে এই ঘুম মধ্যরাত থেকে শুরু করলে চলবে না! ঘুমের সময় বেঁধে দিন নিজেকেই। কাজের পাট শেষ করে, দীর্ঘ সময় ফোন স্ক্রোল করার বদলে, সব সরিয়ে রেখে সময় মতো ঘুমিয়ে পড়তে হবে। ভালো ঘুম শুধু শরীর নয়, চোখের নিচের ক্লান্ত ভাবও কমায়। এছাড়াও হজম-সহ নানা শারীরিক সমস্যা মিটে যেতে পারে কেবলমাত্র ঠিকঠাক ঘুম হলে।
৩. লবণ কম খান
অতিরিক্ত নোনতা খাবার শরীরে জল ধরে রাখে, যার প্রভাব চোখের নিচেও পড়তে পারে। রাতের খাবারে অতিরিক্ত আচার, চিপস বা ভাজাভুজি এড়িয়ে চলুন। অনেকেই রান্না খাবারে কাঁচা নুন ছড়িয়ে খান। এই অভ্যেস যতটা সম্ভব বাদ দিতে পারলেই ভালো।
৪. ধূমপান ছাড়ুন
ধূমপান ত্বকের কোলাজেন দ্রুত নষ্ট করে, ফলে ত্বক পাতলা হয়ে যায় এবং চোখের নিচের রক্তনালি দৃশ্যমান হয়। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধূমপান করলে তা কিডনি-লিভারের নানা সমস্যার কারণ হতে পারে।
৫. পর্যাপ্ত জলপান করুন
শরীরকে ভিতর থেকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি এ ক্ষেত্রে। সে জন্য প্রতিদিন নিয়মমাফিক জল পান করুন। রসাল ফল খান। ত্বককে আর্দ্র রাখে, এমন ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।
ঠান্ডা টি-ব্যাগ চোখে চেপে ধরলে সুরাহা মিলতে পারে।
ঘরোয়া টোটকা কাজে দিতে পারে—
• ঠান্ডা শসার টুকরো ১০–১৫ মিনিট চোখের ওপর রাখুন।
• ঠান্ডা টি-ব্যাগ কয়েক মিনিট চোখের ওপর রাখলে ক্যাফেইনের কারণে ফোলাভাব কমতে পারে।
• গরমের সময় দীর্ঘক্ষণ রোদে বের হলে সানগ্লাস ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি শুধু একটি চোখের নিচে হঠাৎ ফোলাভাব দেখা দেয়, তীব্র ব্যথা, লালচে ভাব, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা বা দীর্ঘদিন ধরে ফোলা না কমে, তাহলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
