অতি সাদামাটা লুককেও নিমেষে বদলে দিতে পারে কোনও তাকলাগানো হেয়ার কালার। কেউ যেমন স্রেফ পাকা চুল ঢাকতে চুলের রং ব্যবহার করেন, তেমনই অনেকে আবার তা ব্যবহার করেন স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবে। প্রতি মরশুমে অঙ্গসজ্জার পাশাপাশি তাই নিজেকে সাজিয়ে নেন বাঙালি চুলের রঙেও। তবে ভালো মানের হেয়ার কালারে চুল রাঙানো খরচসাপেক্ষে কাজ। অথচ অনেক সময়েই দেখা যায়, রং করবার কিছুদিনের মধ্যেই তা ফিকে হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত হারাচ্ছে চুলের উজ্জ্বলতা, রুক্ষতাও বাড়ছে। ফলে ফ্যাশনিস্টা লাগার বদলে, নিতান্তই মলিন লাগছে এই নয়া লুক!
কী করা যায় তবে? হেয়ার কালার বিশেষজ্ঞরা বলেন, হয়ে থাকতে পারে গুরুতর কিছু ভুল!
সদ্য রং করার পরেই কি রোজ চুল ধুয়েছেন?
রঙ নতুন থাকতে সপ্তাহে বড়জোর দুইবার চুল ধোয়া উচিত, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি তা রোজ রোজ ধোয়া হয়, তাও আবার শ্যাম্পু, স্ক্রাব, প্যাক ব্যবহার করে, তবে রং তেমন টেকসই হয় না। বরং অল্প কয়েকদিনেই চুল থেকে ছেড়ে যেতে চায়।
শ্যাম্পু নির্বাচনে সচেতন হওয়া উচিত
বছরের অন্য সময় যাই ব্যবহার করেন না কেন, চুলে রং করানোর অব্যবহিত পরে শ্যাম্পু নির্বাচন করা দরকার যথেষ্ট ভেবেচিন্তে। কেনার সময়েই দেখে নিতে হবে শ্যাম্পু-কন্ডিশনারের বোতলের গায়ে ‘কালার-প্রোটেক্ট’ লেখা রয়েছে কি-না। নয়তো শ্যাম্পুতে থাকা কেমিক্যাল ও হেয়ার কালারে থাকা কেমিক্যালের সংঘাতে চুল রুক্ষ হয়ে যায়।
সচেতনতা দরকার হেয়ার অয়েলের ক্ষেত্রেও
চুল যেহেতু সদ্য রাঙানো, তাই যে-সে তেল নয়। আরগান, আমন্ড বা জোজোবার মতো তেলই ব্যবহার করতে হবে কেবল, যা চুলকে সতেজ রাখে। রং রাখে অক্ষুণ্ণ।
হিট স্টাইলিং করতেই হবে?
রং করা চুল স্টাইল করতে ঘন ঘন হিট স্টাইলিং পদ্ধতি ব্যবহার করলে, রং ফিকে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একান্ত তা করতেই হলে, অবশ্যই হিট প্রোটেক্ট্যান্ট ক্রিম মেখে নেওয়া উচিত চুলে।
সূর্য থেকেও সাবধান!
চুল সদ্য রং করা হলে, সূর্যের আলোয় বেরনোর আগে মাথায় পাতলা স্কার্ফ জড়িয়ে নিতে পারলে ভালো হয়। নয়তো ক্ষতিকারক ইউ-ভি রশ্মি জ্বলিয়ে দেয় রঙ।
হেয়ার কালার বিশেষজ্ঞরা বলেন, চুল রং করলেই যে তা ঝরতে শুরু করবে, এ ধারণা সত্যি নয়। সদ্য রাঙানো চুলের যত্নে অবহেলা হলে, তবেই এমনটা হতে পারে। তাই রং করিয়েই দায়িত্ব মেটে না, চুলের নতুন রূপ ধরে রাখতে চাইলে, অবশ্যই সচেতন হতে হবে চুলের যত্নের বিষয়ে।
