shono
Advertisement
Advocate Achinta Aich Season 3 Review

মক্কেল নাকি ন্যায়বিচার, কোনটা বেছে নেবে ‘অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য আইচ'?

‘অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য আইচ’-এর তৃতীয় সিজন দেখে লিখছেন দেবত্রী ঘোষ।
Published By: Kasturi KunduPosted: 06:12 PM Aug 09, 2026Updated: 06:13 PM Aug 09, 2026

একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম দুটি সিজন যখন জনপ্রিয়তা পায়, নতুন সিজন নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়। ‘অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য আইচ’-এর তৃতীয় সিজনের ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই হয়েছে। আগের সিজন দুটি দেখা থাকুক বা না-থাকুক, কয়েকটা প্রশ্ন মাথায় আসবেই। একজন সৎ, কর্তব্যপরায়ণ উকিলের কাজ আসলে কী? মক্কেলের হয়ে জোরদার কেস লড়া, না কি ন্যায়ের সঙ্গ দেওয়া? ন্যায়বিচার অবশ্য যথেষ্ট জটিল বিষয়। বিবেকের কাছে সৎ থাকতে ন্যায়ের সঙ্গ দিতে চাইলেও আইনের নীতি বলে, উকিলের কাজ কেবল তার মক্কেলকে সাহায্য করা।

Advertisement

তৃতীয় সিজনে এসে, খানিক এই টানাপোড়েনে বিধ্বস্ত ‘অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য আইচ’। এবারে সাহায্য চেয়ে তার দ্বারস্থ বিখ্যাত স্বর্ণব্যবসায়ী নীল রায়বর্মনের স্ত্রী দেবযানী রায়বর্মন। কিছুদিন আগেই এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে নীল (অভিষেক বসু)। সঙ্গে দেবযানী (ইশা সাহা) থাকলেও, প্রাণে বেঁচে গিয়েছে সে। নীলের পরিবারের মানুষ নিজের হাতে তার সৎকার সেরে এসেছে। অথচ কিছুদিন পরেই রায়বর্মন বাড়িতে সারা মুখে ক্ষতের চিহ্ন নিয়ে ফিরে এসেছে হুবহু নীলের মতোই আরেকজন। সে নিজের পরিচয় দেয় নীল বলে। পরিবারের সকলে (মা, কাকা, কাকি) তার কথা বিশ্বাস করে নিলেও, দেবযানী অনড় যে, ওই মানুষ নীলের ছদ্মবেশ ধরে থাকা অন্য কেউ।

অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য আইচ সিজন ৩

অচিন্ত্যকেও সেটাই আদালতে প্রমাণ করার দায়িত্ব দেয় সে। এদিকে প্রতিপক্ষ দুঁদে উকিল দিগ্বিজয় সিংহ (সব্যসাচী চক্রবর্তী) যে আজ অবধি কোনও কেসেই হারেনি। অচিন্ত্য কি আদৌ দেবযানীকে কোনও সাহায্য করতে পারবে? জয়দীপ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত সাত এপিসোডের এই কোর্টরুম ড্রামায় টুইস্টের খামতি নেই। তবে কোনও কোনও টুইস্ট দর্শক আগেই ধরে ফেলবে, আবার কিছু টুইস্টের জবাব মিলবে যথা সময়ে। গল্পে যথেষ্ট রহস্য থাকলেও, বলার ধরনে খানিক খামতি থেকে গিয়েছে।

শুরু হয়েছে অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য আইচ সিজন ৩-এর স্ট্রিমিং

বিশেষ করে, চিত্রনাট্যের কিছু জায়গা আলগা হওয়ার ফলে, থ্রিলের মজাটা খানিক কমে গিয়েছে। তিনটে সিজনে ঋত্বিক চক্রবর্তী অচিন্ত্য আইচের চরিত্রে বেশ কিছু মানানসই বৈশিষ্ট্য গুঁজে দিয়েছেন। ফলে, এই চরিত্রে তাঁর অভিনয় ক্রমশই দর্শকপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানেও তার অন্যথা হয়নি। সহকারী ভীম হিসেবে দেবরাজ ভট্টাচার্য চমৎকার। তাঁর চরিত্র এই সিরিজে কমিক রিলিফ নিয়ে আসে।

হইচই’-এর সঙ্গে এই প্রথম ওটিটি’তে কাজ করলেন সব্যসাচী চক্রবর্তী। তাঁর পরিমিত অভিনয় ও গলার স্বর দাপুটে উকিল হিসেবে ভাল মানালেও, তাঁর সংলাপ আরও জোরালো হতে পারত। এই সিরিজ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত যাঁরা, তাঁরা এই বিষয়ে আরও যত্নবান হতে পারতেন। একটি ছোট চরিত্রে দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতি বেশ ভালো লেগেছে।

ইশা সাহা, মিঠু চক্রবর্তী, দুলাল লাহিড়ী ও খেয়া চট্টোপাধ্যায় যথাযথ। সিরিজটি অযথা টেনে লম্বা না করার জন্য সম্পাদক মলয় লাহার প্রশংসা প্রাপ্য। ‘অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য আইচ’-এর তৃতীয় সিজন দর্শক হিসেবে দেখতে ভালোই লাগে। আশা করা যায় পরের সিজনে গল্প ও সংলাপের ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণ হবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement