shono
Advertisement
Debarati Mukhopadhyay

চূড়ান্ত আর্থিক প্রতারণা! 'সতীপীঠ কালীঘাট'-এর প্রযোজকের বিরুদ্ধে অভিযোগ লেখিকা দেবারতির

শুধু তারিখ পে তারিখ! 'সতীপীঠ কালীঘাট'-এর গল্প লিখে একটি টাকাও পাননি প্রখ্যাত বাঙালি লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়। প্রযোজকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সমাজমাধ্যম পোস্টে কী কী অভিযোগ এনেছেন?
Published By: Kasturi KunduPosted: 12:37 PM Jul 05, 2026Updated: 02:37 PM Jul 05, 2026

বদলের বঙ্গে প্রকাশ্যে এসেছে টলিগঞ্জের সিনেপাড়ার অন্দরে ঘটে যাওয়া কেচ্ছা কেলেঙ্কারি। 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'-এর বিরুদ্ধে ছিল অভিযোগের পাহাড়। এবার প্রকাশ্যে আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রতিশ্রুতি দিয়েও পারিশ্রমিক না দেওয়ার অভিযোগ উঠল 'রানি রাসমনি' খ্যাত প্রযোজক সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে। সমাজমাধ্যমে ঘটনার বিবরণ দিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রখ্যাত বাঙালি লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় (Debarati Mukhopadhyay)। তাঁর দাবি, জি বাংলার আসন্ন ধারাবাহিক 'সতীপীঠ কালীঘাট'-এর প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন সুব্রত রায়। এই মেগার কাহিনীকার হিসেবে কাজ করার জন্য দেবারতির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গল্প লেখার কাজ শেষ হয়ে গেলে পারিশ্রমিকের বিষয়টি এড়িয়ে যান। এরপর দেবারতির নজরে আসে ধারাবাহিকের প্রোমো। তখন ফের সুব্রত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। দিনের পর দিন, এভাবে প্রতারিত হওয়ার পর এবার সত্যিটা সকলের সামনে আনা প্রয়োজন বলে মনে করেছেন লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়।

Advertisement

সামাজিকমাধ্যমে  প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কথোপকথন থেকে শুরু করে একাধিক স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। দিনক্ষণ উল্লেখ করে বর্ষীয়ান প্রযোজক সুব্রত রায়ের 'কেচ্ছা' ফাঁস করে দেবারতি জানিয়েছেন, 'বহুদিন চুপ ছিলাম। ভেবেছিলাম লিখিত প্রতিশ্রুতি, পেশাদার সম্পর্ক, দেওয়া কথা এবং ন্যূনতম সততার তো একটা মূল্য আছে। কিন্তু আর চুপ থাকা সম্ভব নয়। জি বাংলায় 'কালীঘাট' নিয়ে একটি ঐতিহাসিক সিরিয়ালের জন্য ৯ মে ২০২৬ তারিখে ওই সিরিয়ালের প্রযোজক সুব্রত রায় তাঁর রয় সিনেওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষ থেকে আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাহিনীকার হিসেবে আমন্ত্রণ জানান। আমি নিজে থেকে কোনওদিন কোনও প্রযোজনা বা প্রকাশনা সংস্থায় যোগাযোগ করিনি। এক্ষেত্রেও আমায় যেচে ডাকা হয়েছিল।'

এরপর কী ঘটেছিল? দেবারতির পোস্ট অনুযায়ী,'প্রথমে যখন আমাকে বলা হয় এটা একটি টেলিভিশন সিরিয়ালের কাজ, আমি নিজেই 'না' করে দিয়েছিলাম। কারণ আমার পরিচয় ঔপন্যাসিক, আমি জানি যে ধরণের টেলিসিরিয়াল বাংলা চ্যানেলে চলে তার সঙ্গে আমার স্বাভাবিক সাহিত্যগত কাজের জায়গার সামঞ্জস্য নেই। কিন্তু আমাকে বারবার বলা হয় এই প্রোজেক্ট অন্যরকম। বলা হয়, এটা সাধারণ ডেইলি সোপ নয়। এর কেন্দ্রে থাকবে ইতিহাসের প্রেক্ষিতে কালীঘাট মন্দির, রাজা প্রতাপাদিত্য, বাংলার অতীত, লোকবিশ্বাস, মাইথোলজি, হিস্ট্রি, সোশাল কনফ্লিক্ট এবং একটা বড় ক্রিয়েটিভ ইউনিভার্স। আমায় স্ক্রিপ্ট নয়, মূল কাহিনী বুনে দিতে হবে, সেখান থেকে স্ক্রিপ্টরাইটাররা দৈনন্দিন স্ক্রিপ্ট বানাবেন। এই কথাগুলোয় আমি বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখি। সুব্রত রায় বয়স্ক মানুষ, রানি রাসমনি নামক জনপ্রিয় সিরিয়ালের প্রযোজক, আমি তাঁর কথায় বিশ্বাস করে কাজ শুরু করি।'

এরপর ৭ মে সম্ভাব্য সিরিয়ালের কনসেপ্টের ব্রিফ দেওয়া হয়। ৯ মে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কাহিনীকার হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় দেবারতিকে। যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল সিরিয়ালের জন্য গল্প লিখবেন। সেখানে চিত্রনাট্যাকার, পরিচালক, ক্রিয়েটিভসহ সকলে উপস্থিত থাকবেন। ডেইলি সোপে কাহিনীকার হিসেবে দেবারতির নামোল্লেখ থাকবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর ১৫ মে চ্যানেলের সঙ্গে মিটিংয়ে আগামী একবছরের লেখা জমা দেন। এরপরই আসে কাহানি মে ট্যুইস্ট। প্রযোজনা সংস্থার ভোলবদল! প্রযোজক পুরো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যান বলে অভিযোগ দেবারতির।

তিনি জানিয়েছেন, 'গোটা গল্প পাঠানোর পরই ম্যাজিক! সুব্রত রায় সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বলা হয়, 'চ্যানেল দেখছে।' আর তারপর শুরু হয় তারিখের পর তারিখ। এরমাঝেই আমি আবিষ্কার করি জি বাংলায় এই নতুন আসা সিরিয়ালের প্রোমো। আমি আবার যোগাযোগ করি। আমায় প্রথমে ১০ জুন বলা হয়। তারপর আবার দিনবদল। আমার পক্ষ থেকে বারবার ফলোআপ করা হয়। আমার সহকারী লিলিও বহুবার ফলোআপ করে। প্রতিবারই আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সাম্মানিক আসে না।' অগত্যা চ্যানেলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে পোস্ট ডেটেড চেক দেওয়া হয়। সেটি জমা দিলে দেখা যায় সেখানে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। এই প্রেক্ষিতে আরও মারাত্মক অভিযোগ, চেক দেওয়ার পর নাকি দেবারতিকে সেটি জমা দিতে বারণ করা হয়েছিল।

বারবার প্রতারিত হয়ে জি বাংলার কর্তৃপক্ষের কাছে দেবারতির প্রশ্ন, 'আপনাদের কাছে যে প্রযোজকরা সিরিয়াল বিক্রি করেন,তাঁদের এই দ্বিচারিতা ও প্রতারণা নিয়ে আপনাদের কী বক্তব্য? যারা এইভাবে শিল্পীদের ঠকান, তাঁদের ব্ল্যাকলিস্ট করা কি উচিৎ নয়? আমি বহুদিন চুপ থেকেছি। যথেষ্ট হয়েছে। এত কাজের মধ্যে প্রতিদিন এই নিয়ে খোঁচানো সম্ভব নয়। লেখকদের সঙ্গে এই প্রতারণা দীর্ঘকাল ধরে চলছে। লিখিত এগ্রিমেন্টের পরেও একজন লেখকের শ্রম, কল্পনা, গবেষণা, গল্প, চরিত্র এবং সৃষ্টির অধিকারকে এভাবে অস্বীকার করা যায় না। আমরা ঠকছি, ভবিষ্যতেও ঠকব, কিন্তু মানুষ অন্তত সত্যিটা জানুক!'

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement