এক নারীর অধিনায়কত্বে আরও তিন নারীর জীবন সংগ্রামের গল্প নিয়েই ‘হইচই’-এর নতুন ওয়েব সিরিজ ‘ক্যুইনস’। নারীদের হাতে তরবারির বদলে চার নারীর পরনে অদৃশ্য যুদ্ধসাজ। প্রতিহিংসা, পারিবারিক শত্রুতা, ক্ষমতায়নের ছকে ‘ক্যুইনস’-এর প্লট তৈরি করেছেন পরিচালক নির্ঝর মিত্র।
নারীর বদলার গল্প ‘কুইনস’-এ খুনের পর খুন।
গল্পের প্রেক্ষাপট উত্তরবঙ্গের পাহাড় ঘেরা ‘সাহেববাড়ি’। কিন্তু সেই সুন্দর মনোরম পরিবেশে মেঘ-কুয়াশার লুকোচুরির মাঝেই ওত পেতে রয়েছে বিপদ। একের পর এক খুনে রক্তে ভেজা সাহেববাড়ির মাটি। পরিচালক নির্ঝর মিত্র এবং মিমি চক্রবর্তী দুজনেরই শিকড় উত্তরবঙ্গের। তাই দুজনেই যেন চেনা পিচে ছক্কা হাঁকিয়েছেন। গল্পের বাঁধুনি যেমন টানটান তেমনই পরিচালনাও বেশ ভালো। অনবদ্য অভিনয়ে ‘ক্যুইন’-এর তাজ মিমির মাথায়। এক রাতেই খুন হয় পরিবারের চার পুরুষ সদস্য। এই ঘটনায় চার স্বামীহারা অসহায় নারী একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। অভিজাত বাড়ির ছোটছেলের বউভাত বলে কথা। জাঁকজমকের অভাব নেই। চারিদিকে আলোর রোশনাই। অতিথিদের ভিড়। এরই মাঝে গুলির শব্দ। রিসেপশনের আনন্দ নিমেষে বদলে যায় শোকের আবহে। সেই রাতেই নববধূর চোখের সামনে একের পর এক গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যায় তার বর। হাতের মেহেন্দির রং ফিকে হওয়ার আগেই সেই হাতে স্বামীর শ্রাদ্ধ করে সন্তানসম্ভবা মীরা। এই চরিত্রে মিমি চক্রবর্তী নিজেকে নিংড়ে দিয়েছেন। মিমির বেশ কিছু এক্সপ্রেশন অনবদ্য।
নারী পাচার, রাজনীতির চোরাস্রোত, খুন-সহ একাধিক অপরাধমূলক ঘটনাবলির পর্যায়সারণি 'ক্যুইনস'। তবে উত্তরবঙ্গের অ্যাকসেন্ট, ডায়ালেক্টে আরও একটু জোর দেওয়া উচিত ছিল। সব মিলিয়ে বেশ টানটান কাহিনি এবং অভিনয়ে উপভোগ্য ‘ক্যুইনস’।
অনবদ্য অভিনয়ে ‘কুইন’-এর তাজ মিমির মাথায়।
নারী অবলা নয়। নারীরা চাইলেই অসাধ্যসাধন করতে পারে। নারীর বদলার গল্প ‘ক্যুইনস’-এ খুনের পর খুন। বদলা সবসময় গান্ধীগিরিতে নয়, ইটের বদলে পাটকেল বা নিউটনের তৃতীয় সূত্রের মতোই হওয়া উচিত তা বুঝিয়ে দেয় এই সিরিজ। 'ক্যুইন' মীরা নিজেকে সেই ভাবেই তৈরি করে। শত্রুপক্ষের চালেই শত্রু বিনাশ করে বাজিমাত করে মীরা। নীলমণি মিত্রের খল চরিত্রে জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বেশ ভালো। দুর্বার শর্মার অভিনয় ছাড়া ‘ভোলা’ চরিত্রটি ভাবা যেত না। নেগেটিভ চরিত্রে অর্ণ মুখোপাধ্যায় অভিনয় গুণে তাঁর চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করেছেন। স্বল্প পরিসরে ‘লেপচা’র ভূমিকায় অরিজিৎ দত্ত যথাযথ। সিরিজে ব্যবহৃত র্যাপটি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। গল্পের সঙ্গে মানানসই। মূক চরিত্রে নজর কেড়েছেন পায়েল দে। আবারও নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। বেশ অনেকদিন পর বৈশাখী মার্জিতকেও ভালো লেগেছে। নারী পাচার, রাজনীতির চোরাস্রোত, খুন-সহ একাধিক অপরাধমূলক ঘটনাবলির পর্যায়সারণি 'ক্যুইনস'। তবে 'বিধবা' শব্দটির পুনরাবৃত্তি ভালো লাগে না। উত্তরবঙ্গের অ্যাকসেন্ট, ডায়ালেক্টে আরও একটু জোর দেওয়া উচিত ছিল। সব মিলিয়ে বেশ টানটান কাহিনি এবং অভিনয়ে উপভোগ্য ‘ক্যুইনস’। বুদ্ধিদীপ্ত ভাবে সিরিজের দ্বিতীয় পর্বের আগাম ঝলক দিয়ে রেখেছেন পরিচালক।
